দেশের উত্তর এবং মধ্যাঞ্চলে বন্যার পানি নেমে গেলেও ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়িতে ফিরতে পারছে না অনেক পরিবার। বাঁধ ও পাকা সড়কে দুর্বিষহ দিন কাটছে তাদের। খাদ্য, বিশুদ্ধ খাবার এবং পানি সংকটে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে দুর্গত এলাকার মানুষজন।
এবারের বন্যায় কুড়িগ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৬ লক্ষাধিক মানুষ। আশ্রয় কেন্দ্র, বাঁধ ও পাকা সড়কে আশ্রয় নিয়েছিল কয়েক হাজার পরিবার। বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির পর বেশির ভাগ পরিবার ঘর-বাড়িতে ফিরে গেলেও নিম্নাঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্তরা ঘর-বাড়িতে ফিরতে পারেনি। বন্যা কবলিত গ্রামীণ জনপদের রাস্তা-ঘাট বিদ্ধস্ত হওয়ায় আরো দুর্ভোগ বেড়েছে বানভাসীদের। হাতে কাজ না থাকায় খাদ্য সংকটে পড়েছে পরিবারগুলো। পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ারও অভিযোগ তাদের।
বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে কৃষিতে, বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছে কাঁচা-পাকা সড়ক, ব্রীজ-কালভার্ট ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। টানা বন্যায় কুড়িগ্রামের ৯ উপজেলায় নষ্ট হয়ে গেছে ১০ হাজার ৫শ হেক্টর জমির আউশ ধান, বীজতলা, সবজি ক্ষেতসহ বিভিন্ন ফসল।
গাইবান্ধায় বাড়িঘর থেকে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর দেখা দিয়েছে বিভিন্ন রোগের প্রাদুভার্ব। বিশুদ্ধ পানি, শুকনা খাবার ও পয়ঃনিষ্কাশন সংকটে পড়েছে বানভাসিরা। এতে অনেকে চর্মরোগ, চোখের প্রদাহ, শ্বাসনালির প্রদাহসহ আক্রান্ত হচ্ছে পানি বাহিত রোগে।
সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি প্রতিদিনই কমছে। ক্ষতিগ্রস্থ অধিকাংশ মানুষই এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে। বন্যা প্লাবিত এলাকাগুলোর অধিকাংশ ঘড়-বাড়িই বসবাসের অনুপোযোগি হয়ে পড়েছে। ঘুরে দাঁড়াতে সরকারি বেসরকারি সহায়তার দাবি দুর্গতদের।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে প্রায় দেড় শতাধিক পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এতে প্রায় ১৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। পুঁজি হারিয়ে এসব এলাকার মৎস্য চাষীদের এখন পথে বসার উপক্রম।
বঙ্গবন্ধু সেতু গাইড বাঁধ এলাকায় সেতু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ১০৮টি পুকুর লিজ নিয়ে ওই এলাকার মৎস্য চাষীরা মাছের খামার গড়ে তোলেন। এসব পুকুর লিজ নিতে ভ্যাটসহ তাদের খরচ হয় প্রায় পাঁচ কোটি টাকা। এর আশেপাশে ব্যক্তি মালিকানায় ৫৩টি পুকুরে মাছ চাষ চলছে। সম্প্রতি বন্যায় তলিয়ে গেছে এসব পুকুর।
মৎস্য চাষীরা জানান, সহযোগিতা ছাড়া তাদের পক্ষে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। বন্যায় মৎস্য খাতের ক্ষতির বিষয়ে খোঁজ খবর নিচ্ছে স্থানীয় মৎস্য বিভাগ।
বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন ১০৮টি সরকারি পুকুরের বাঁধ নির্মাণ করা হলে মৎস্য চাষে বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হবে বলেই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
দুর্গতদের সেবায় গ্রামবাসীর উদ্যোগ: গণজাগরণ মঞ্চের উদ্যোক্তা ইমরান এইচ সরকার তার ফেসবুক পেজে জানিয়েছেন দুটি গ্রামের বানভাসি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগের কথা। সেখানে তিনি লিখেন, চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পশ্চিম বিনাজুরী গ্রামের বাসিন্দারা বন্যা দুর্গত মানুষের জন্য ১১৩৪২ টাকা পাঠিয়েছেন। অন্যদিকে লক্ষীপুরের রামগতি উপজেলার বালুর চর ইসলামিয়া আলীম মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ৮১৫ টাকা পাঠিয়েছেন। গ্রামের একটা মাদ্রাসার ছাত্ররাও পিছিয়ে থাকতে চায়নি। তারা তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী অংশগ্রহণ করেছে।
মিশন কুড়িগ্রামঃ বন্যা দুর্গতদের পাশে তারুণ্য নামের একটি ফেসবুক গ্রুপের ঢাকার ৪২ জনের সদস্য ও স্থানীয় অন্তত ১০০ জনের টিম ৩০০০ এর অধিক পরিবারকে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছে। আরো অন্তত ৩০০ পরিবারকে দেবার মতো ত্রাণসামগ্রী রেখে এসেছে তারা।
এর বাইরে, অন্তত ২ হাজার পরিবারের হাতে রান্না করা খিচুরী ও রুটি এবং অন্তত ২ হাজার পরিবারকে চিকিৎসা সহায়তা দিয়ে এসেছে। ত্রাণ কার্যক্রমের এক ফাঁকে ৬ আগষ্ট রাতে বীর মুক্তিযোদ্ধা তারামন বিবি বীরপ্রতিককেও দেখে আসে এই দলটি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ এবং শারিরীকভাবে অসুস্থ এই মানুষটিকে তারা ১০০০০ টাকার দিয়ে আসেন।
বাতিঘরের ত্রাণ: বন্যাদুর্গত মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছে বাতিঘর সাংস্কৃতিক ফাউন্ডেশন। বাতিঘর সাংস্কৃতিক বিদ্যালয়ের ফান্ড থেকে কিছু অর্থ বন্যার্তদের জন্য দিতে চান তারা। পাশাপাশি কেউ চাইলে আলাদাভাবেও সহযোগিতা করতে পারেন।
বাতিঘর পরিবারের বাইরের যে কেউ এই কাজে অংশ নিতে পারেন। যারা এই কাজে আর্থিকভাবে যোগ দিতে চান তারা বিকাশ করতে পারেন ০১৬২৪৮০৪০৪৮ এই নাম্বারে। 
যারা দুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কাজে স্বশরীরে যেতে চান তারা যোগাযোগ করুন ০১৭৬৭৮৪৫৮৭৩/ ০১৬২৪৮০৪০৪৮ এই নাম্বারে। প্রবাসীরা টাকা পাঠাতে পারেন বাতিঘরের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। অ্যাকাউন্ট নাম: Batighar অ্যাকাউন্ট নাম্বার: 0460210005846 মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেড (Mutual Trust Bank Ltd).
MTB CENTRE CORPORATE Branch. অ্যাকাউন্ট হোল্ডার: Md. Mehedi Hasan
ফোন: ০১৬২৪৮০৪০৪৮।
ছাত্র ইউনিয়নের উদ্যোগ: বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় ও জামালপুর জেলা সংসদের উদ্যোগে জামালপুরের সরিষাবাড়ি, মেলান্দহ এবং মাদারগঞ্জে বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়।







