টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজার, সিলেটে, রাঙ্গামাটিসহ দেশের বিভিন্ন জেলার বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। এর মধ্যে রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে পানিতে ডুবে মারা গেছে একজন।
শনিবার রাতে বারইকোনা এলাকায় মনু নদীর বাঁধ ভেঙ্গে শহরে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে। মনু ও ধলাই নদীর ১৫ টি পয়েন্টে ভাঙন দিয়ে পানি প্রবেশ করে ৫টি উপজেলা বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।
এসব এলাকায় মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিণত হয়েছে।
মৌলভীবাজার পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে মনু নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বারইকোনা এলাকা ভেঙ্গে শহরে পানি প্রবেশ করে। এতে পৌরসভার ৩টি ওয়ার্ড বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। কোমর পানিতে তলিয়ে গেছে মৌলভীবাজার সিলেট সড়ক। পানি প্রবেশ করেছে উপজেলা পরিষদ ভবনে। এছাড়াও কুশিয়ারা ও সুরমা নদীর পানি বেড়ে সিলেটের নিম্নাঞ্চল এবং পাহাড়ি ঢলে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন এলাকা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। মৌলভীবাজারের বরহাট, ধরবাপন, হিলালপুর, ঘড়ুয়া এলাকার বাড়িঘরে এখন ৩ ফুট উঁচু পানি। শহরের বাণিজ্যিক এলাকা পশ্চিমবাজারে পানির প্রবেশ ঠেকাতে জেলা প্রশাসনের সাথে কাজ করছে সেনাবাহিনী ও বিজিবি। উপদ্রুত গ্রামগুলো থেকে বন্যা আক্রান্তদের উদ্ধারে কাজ করছে সেনাবাহিনী। জেলা শহরের ৪টি সরকারি খাদ্য গুদামে পানি প্রবেশ করেছে। এসব গুদামের প্রায় ২ হাজার মেট্রিকটন মজুদ খাদ্যশষ্য অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। শহরের বড় বড় বাণিজ্যিক ভবন ও বিপনী বিতানগুলোর বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। পানিতে ডুবে মারা গেছে একজন।
মুসলমানদের পবিত্র উৎসব ও আনন্দের দিন আজ দুঃসহ হয়ে ওঠেছে এই পানিবন্দী মানুষদের কাছে।বৃহত্তর সিলেট রাঙ্গামটিসহ ও চট্টগ্রামের কিয়দংশ এখন বন্যা প্লাবিত এলাকা। এইসব এলাকায় মানুষ ঈদ আনন্দ পালনতো দূরের কথা নিজেদের জান মালের রক্ষা করতেই হিমশিম খাচ্ছে। মানুষের জীবন থেকে যেনো দুর্ভোগ যাচ্ছেই না। প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের বাৎসরিক উৎসব ম্লান হয়ে গেছে।
স্থানীয়ভাবে সেনাবাহিনী ও বিভিন্ন সংগঠন মৌলভিবাজারের বাধ মেরামত করে দুর্গতদের সহযোগিতা করছে। এরই মধ্যে এই মাসের শেষের দিকে উত্তরাঞ্চলে বন্যার আশংকা দেখা গিয়েছে। সরকারকে এখনি আগাম বন্যা প্রস্তুতি নিতে হবে।










