আইসিসির এই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতেই ভারতের বিপক্ষে জয় আছে পাকিস্তানের। অন্য কোনও বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে ভারতকে হারানো হয়নি তাদের। স্বস্তির এই আসরে রোববার পাকিস্তান সামনে পাচ্ছে ‘অস্বস্তির আগুনে’ জ্বলতে থাকা ভারতকে! কোচ সংক্রান্ত ঝামেলায় যারা এই মুহূর্তে দিশেহারা।
শনিবারই শোনা গেছে কোচ অনীল কুম্বলে দায়িত্ব ছেড়ে দেয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পরে তার জায়গায় আসতে পারেন বীরেন্দর শেবাগ। ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবি, অধিনায়ক কোহলির সঙ্গে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে সাবেক তারকা স্পিনারের।
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের বিপক্ষে আগের তিন দেখায় দুইবার জয় পেয়েছে পাকিস্তান। শেষবারটা আবার ২০১৩ সালে। সেই জয়ের মাহাত্ম্যটা এই কারণেই বেশি যে ঐ টুর্নামেন্টেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন কোহলিরা।
এবার ‘আন্ডারডগ’ হয়েই খেলতে এসেছে সরফরাজ খানের দল। আট দলের মধ্যে র্যাঙ্কিংয়ে সবচেয়ে পিছিয়ে তারাই। তবে বলে-কয়ে যে পাকিস্তানিরা কিছু করে না, তা তো জানা ক্রিকেটবিশ্বের। এই জন্যই তাদের ‘আনপ্রেডিক্টটেবল’ বলা হয়।
অস্বস্তি থাকলেও ভারত শিবির প্রস্তুত লড়াইটাকে ২-২ করার জন্য। দুদলের লড়াইটা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হয় ভারতের ব্যাটসম্যান বনাম পাকিস্তানি বোলারদের। তবে এবার সমান ব্যাটিং-বোলিং শক্তি নিয়ে মাঠে নামা কোহলি-বাহিনীকে বলা হচ্ছে এই আসরের ফেবারিট। সাবেক পাকিস্তানি অধিনায়ক শহীদ আফ্রিদি তো ভারতকেই ফেবারিট ঘোষণা করে দিয়েছেন, ‘বর্তমান এবং অতীতের বিবেচনায় কিন্তু ভারতই এগিয়ে। আমার কাছে তারাই ফেবারিট।’
ভারতের বর্তমান দলটা আফ্রিদির বক্তব্যকে জোরালো করার দাবিদার। বিরাট কোহলি, রোহিত শর্মা, ধোনী, যুবরাজদের নিয়ে ব্যাটিং লাইনআপের পাশাপাশি জসপ্রীত বুমরাহ, মোহাম্মদ শামি, অশ্বিন, জাদেজার মতো বোলাররা দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এনে দিতে পারেন টানা দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি শিরোপা।
তবে এত সমীকরণ খাটছে না দলটা পাকিস্তান বলে। মোহাম্মদ আমির আর জুনায়েদ খানের মতো পেসাররা আছেন বল হাতে আগুন ঝরাতে। ব্যাটিংয়ে বাবর আজম, মোহাম্মদ হাফিজ, শোয়েব মালিকরা খেলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন। আর ইমাদ ওয়াসিম, হাসান রাজার মতো তরুণ অলরাউন্ডাররা তো আছেনই।
গত কয় বছর ধরে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে ভারতের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলতে না পেরে মনে-মনে ফুঁসে আছে পাকিস্তানিরা। তার প্রতিফলন ঘটতে পারে রোববারের ম্যাচেই!







