পর্যায় সারণিতে যুক্ত হলো আরও চারটি নতুন মৌল। বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ৩০ ডিসেম্বর রাসায়নিক নামকরণের পরিভাষা এবং পরিমাপ পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা-ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন অব পিওর অ্যান্ড অ্যাপ্লায়াইড কেমিস্ট্রি (আইইউপিএসি) নতুন এ চারটি মৌলের স্বীকৃতি দেয়।
তবে নতুন এ চারটি মৌলের নাম এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। এ চারটি মৌল পর্যায় সারণিতে ফাঁকা থাকা ১১৩, ১১৫, ১১৭, ১১৮ ঘরে স্থান পাচ্ছে।
রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের একদল বিজ্ঞানী ইউনানট্রিয়াম (১১৫), ইউনানপেন্টিয়াম (১১৭), ইউনানসেপ্টিয়াম (১১৮) আবিষ্কারের এ কৃতিত্ব দেখান। এদের পাশাপাশি উনানঅক্টিয়াম (১১৩) আবিষ্কারের কৃতিত্ব দেখান জাপানের রিকেন ইন্সষ্টিটিউটের একদল বিজ্ঞানী।
নতুন এ চার মৌলের আবিষ্কারক বিজ্ঞানীদেরকে মৌলের নাম চূড়ান্ত এবং রাসায়নিক সংকেত নির্ধারণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছে আইইউপিএস।
আগামী ৫ মাসের মধ্যে মৌলগুলোর নাম ও সংকেত ঠিক করা হবে বলে জানায় সংস্থাটি।
এর আগে পর্যায় সারণিতে সর্বশেষ অন্তর্ভূক্তি ছিলো ২০১১ সালে। সেসময় ১১৪ ও ১১৬ নম্বর ঘরে ইউনানকোয়াড্রিয়াম (Uuq) ও ইউনানহেক্সিয়াম (Uuh) আইইউপিএস স্বীকৃতি লাভ করে।
আধুনিক পর্যায় সারণির শুরুটা ১৮৬৯ সালে। রুশ বিজ্ঞানী ম্যান্ডেলিফ এবং জার্মান বিজ্ঞানী লুথার মেয়র ওই সময়ে সর্বপ্রথম আধুনিক পর্যায় সারণি প্রকাশ করেন। সেসময় মাত্র ৬৭টি মৌলকে পর্যায় সারণিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছিলো।
তবে এ প্রচেষ্টা বেশ পুরনো। ১৭৮৯ সালে অ্যান্তেনি ল্যভয়সিয়ে ৩৩টি রাসয়নিক উপাদানের সমন্বয়ে পর্যায় সারণি প্রকাশ করেন। তবে তার প্রকাশিত ওই তালিকায় বায়বীয়, ধাতু, অ-ধাতু এবং শিলা’য় বিভক্ত করা হয়।
কিন্তু তার ওই পর্যায় সারণি সকলের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। সমসাময়িক বিজ্ঞানীরা আরও ভালো পর্যায় সারণির সন্ধান করছিলেন। ১৮৬৪ সালে ইংলিশ বিজ্ঞানী জন নিউল্যান্ড পারমাণবিক সংখ্যা অনুসারে সাজিয়ে পর্যায় সারণি তৈরীর চেষ্টা চালান।
সব শেষে ১৮৬৯ সালে ম্যান্ডেলিফের হাত ধরে পর্যায় সারণি বর্তমানের আলো দেখে।






