এসএসসি পরীক্ষার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে রোববার সকালের পূর্বনির্ধারিত অনুষ্ঠান ৩০ মিনিট পিছিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষার হলে প্রবেশের পর প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন ‘গণভবন’ থেকে ওই অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। শুধু তাই নয়, বাকি পরীক্ষার দিনগুলোতেও তাঁর অন্যান্য অনুষ্ঠানগুলোর সময়সূচিও একইভাবে নির্ধারণের জন্য ইতোমধ্যে ব্যক্তিগত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে ই-নাইন ফোরামের মন্ত্রী পর্যায়ের একটি পর্যালোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেয়ার কথা রয়েছে। পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে প্রধানমন্ত্রীর এ উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। পরীক্ষার সময় এমনিতেই শিক্ষার্থীরা বাড়তি মানসিক চাপে থাকে। এর মধ্যে আবার যদি তাদের যানজটের কারণে বাড়তি সময় রাস্তায় কাটাতে হয়, পড়ার সময় কাটছাঁট করে রাস্তায় সময় দিতে হয় তাহলে শিক্ষার্থীদের সেই মানসিক চাপ আরো বেড়ে যায় এতে কোন সন্দেহের নাই। এমন মানসিক চাপে অনেকের পরীক্ষা খারাপ হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। তাই আমরা মনেকরি পরীক্ষার্থীদের বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতেই দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর এই দৃষ্টান্ত কী আমরা সরকারের অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা সমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে পেতে পারি না? রাজধানী ঢাকায় অতিরিক্ত যানজটের কারণে অনেক মুমূর্ষু রোগীকে আমরা দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে দেখি। এতে অনেক রোগীর অবস্থা আরো সঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়ে। অথচ আমরা জানি এ যানজটের অন্যতম কারণ অনিয়ম আর ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা। ট্রাফিক আইন না মেনে মন্ত্রী-আমলা-কর্মকর্তাদের উল্টো পথে গাড়ী চালানোর ঘটনা রাজধানীতে নতুন নয়। পাশাপাশি আছে যেখানে-সেখানে গাড়ী পার্কিং, রাস্তা-ফুটপাথ দখল এমনকি সাধারণ মানুষেরও ট্রাফিক আইন না মানার অনীহা। সম্প্রতি ঢাকার দুই মেয়র রাস্তা দখলমুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছেন। জানিয়েছেন আরো কাজ করার জন্য তাদের পরিকল্পনার কথা। তবে তা করতে গিয়ে তাদেরকেও বেশ বেগ পেতে হচ্ছে। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি ফ্লাইওভার ও সংযোগ সড়কও নির্মাণ করা হয়েছে। যা যানজট কমাতে কিছুটা হলেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে। তবে এর সঙ্গে যদি রাজধানীবাসী ট্রাফিক আইন মেনে চলেন, তাহলে যানজট আরো কমতো বলেই আমাদের বিশ্বাস। অবশ্য আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে ট্রাফিক বিভাগ প্রচারণামূলক ও উদ্বুদ্ধকরণ কিছু কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারে। যানজট এড়াতে উল্টো পথে গাড়ী না চালিয়ে মন্ত্রী-আমলারাও রাজধানীবাসীকে সহযোগিতা করতে পারেন। অদূর ভবিষ্যতে যানজট কমাতে রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারে। যেমন: শুধুমাত্র ভিভিআইপিদের চলাচলের জন্য হতে পারে বিকল্প আন্ডারপাস বা টানেল। সর্বোপরি ডিজিটাল যুগে প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠক, জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সাপ্তাহিক বৈঠক সেরে নিতে পারেন। অথবা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েই হতে পারে এসব নিয়মিত বৈঠক। অামাদের দৃঢ় বিশ্বাস এসব উদ্যোগে নগরবাসীর যানজটের কষ্ট অনেকটাই লাঘব করবে।








