বাংলাদেশ ছাত্রলীগ উপমহাদেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠন। গৌরব, ঐতিহ্য ও সংগ্রামের সংগঠনের নাম বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পেছনে সংগঠনটির রয়েছে অনেক ভূমিকা।
শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতির পতাকাবাহী; জাতির মুক্তির স্বপ্নদ্রষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া, জীবন ও যৌবনের উত্তাপে শুদ্ধ এই সংগঠন। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি সময়ের দাবিতেই বাংলাদেশ ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। জন্মের প্রথম লগ্ন থেকেই ভাষার অধিকার, শিক্ষার অধিকার, বাঙালির স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থান, সর্বোপরি স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনের সফল সাহসী সারথি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ।
আমি এই সংগঠনের একজন কর্মী হতে পেরে গর্ব বোধ করি। কিন্তু সংগ্রাম ও ঐতিহ্য ভরা এই সংগঠন কেন মাঝে মাঝে প্রশ্নবিদ্ধ হয়? আমার মত হাজারো কর্মীর কাছে এর একটি উত্তর- সেটা হলো “অযোগ্যতা”।
দেশের অনেক জেলা, উপজেলা, মহানগর, বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে আজ তেলবাজ ও হাইব্রিডদের দাপট। তেলবাজদের দাপট এতটাই বেড়েছে যে, এদের জন্য যোগ্যরা একবুক কষ্ট নিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে। হ্যাঁ, যোগ্যরাও নেতা হচ্ছে, কিন্তু সেটা কি হাইব্রিড ও তেলবাজদের চেয়ে বেশি? হয়তো আমার সাথে সবাই একমত হবেন- উত্তর: “না”।
পদ পেলেই সবাই বলে যোগ্য। সবাই যদি যোগ্য হয় তাহলে কেন টানা ১০ বছর ক্ষমতায় থাকার পরেও জামাত-শিবির ও সন্ত্রাসীদের হাতে আমাদের ছাত্রলীগের ভাইটির প্রাণ দিতে হয়? কেন ইয়াবা সেবক হিসেবে কিছু ছাত্রলীগের পদধারী নেতার ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়? কেন মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে ছাত্রলীগের পদধারী কিছু নেতার নাম আসে? কেন বিভিন্ন কমিটিতে ছাত্রদল/শিবির পদ পায়? এসব কিছুর উত্তর কোথায়?

পদ পাওয়াটাই যদি যোগ্যতা হয়, তাহলে কি তারেক রহমানও যোগ্য নেতা? প্রায় এক দশক ধরে লন্ডন প্রবাসী তারেক জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত। এছাড়াও মুদ্রাপাচারের আরেক মামলায়ও সাজা রয়েছে তার। বাংলাদেশি পাসপোর্ট জমা দিয়ে ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকায় তার বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
দুর্নীতি মামলায় দণ্ডিত হয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর তারেককেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করা হয়। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটূক্তি করার মতো সীমাহীন ধৃষ্টতাও দেখিয়েছে তারেক।
এছাড়াও, বাংলাদেশের ইতিহাসের কলঙ্কজনক ও রক্তাক্ত দিন ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় মতিঝিল থানায় দায়ের হওয়া হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের দুটি মামলার অন্যতম আসামি তারেক রহমান।
গত ১১ ও ১২ মে ছাত্রলীগের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হলেও এখনও সংগঠনটির নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়নি। মাননীয় নেত্রী, মমতাময়ী মা দেশরত্ন শেখ হাসিনার এবারের সিদ্ধান্ত ভাল লেগেছে সবার। তিনি গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে সবার খোঁজ নিয়ে নিজের হাতেই নেতৃত্ব সৃষ্টি করবেন।
ঠিক এভাবেই পরবর্তী নেতৃত্ব প্রতিটি ইউনিটে তাদের গোয়েন্দা টিম দিয়ে খবর নিয়ে যোগ্য নেতৃত্ব সৃষ্টি করবেন- এটাই তৃণমূলের দাবি।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)










