এবারের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ‘আবহাওয়া’ বা নির্বাচনী পরিস্থিতি কোনো দিক থেকেই শান্ত ছিল না। দেখা গেছে, সবসময়ই কিছু না কিছু ঘটেছে, যা কোনো না কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে যাচ্ছে। আর তা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা সমালোচনা।
দুই প্রার্থী ডেমোক্র্যাট হিলারি ক্লিনটন আর রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে প্রায় প্রতিটা দিনই চলেছে ব্যক্তিগত থেকে রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কাদা ছোঁড়াছুড়ি আর ঝগড়াঝাঁটি। কিন্তু এবার নির্বাচনের ‘আবহাওয়া’র মতো পুরো দেশে নির্বাচনের দিনের আবহাওয়াও কিছুটা অশান্ত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রে বেশ কিছু জায়গায় হালকা বৃষ্টি বা তুষারপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এই দু’টো জিনিসই লোকজনকে ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত করে, যদিও বৃষ্টি বা তুষারপাতের পরিমাণ খুব বেশি হওয়ার কথা না।
তবে তুলনামূলক ভারী তুষারপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে আলাস্কা অঙ্গরাজ্যে। এছাড়া গ্রেট লেকস এবং মধ্যপশ্চিম অঞ্চলের বেশ কয়েকটি রাজ্যে বৃষ্টিপাতে ভোটকেন্দ্রগুলো ভিজে প্যাচপ্যাচে অবস্থা হয়ে যেতে পারে।
দেশের মধ্যভাগে ঠাণ্ডা মৌসুমী বায়ুর কারণে মধ্যপশ্চিম, ওহাইয়ো রিভার ভ্যালি এবং দক্ষিণপূর্ব অঞ্চলে বেশ ভারী বৃষ্টি হতে পারে। আইওয়া ও উইসকনসিনে ভোর থেকেই ঝিরিঝিরি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে দুপুর হতে হতে আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাবে। কারণ ততক্ষণে সেই মেঘ বৃষ্টি ঝরাতে ঝরাতে মিশিগানকে ভিজিয়ে ওহাইয়োতে পৌঁছে যাবে এবং ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত সেখানে বৃষ্টি চলতে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এছাড়া পশ্চিম পেনসিলভানিয়ায় ভোটকেন্দ্র বন্ধ হওয়ার আগে হালকা বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে উত্তরপূর্বাঞ্চলের বড় বড় শহরগুলো বুধবার পর্যন্ত শুকনো থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তাপমাত্রাও নভেম্বরের সাধারণ তাপমাত্রার চেয়ে ১০-১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি থাকার কথা জানানো হয়েছে।
আবহাওয়া সবসময়ই নির্বাচনের ওপর বেশ বড় একটা প্রভাব ফেলে। আবহাওয়া খারাপ থাকলে সাধারণত ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে চান না। বিভিন্নবারের নির্বাচন নিয়ে গবেষণায় দেখা গেছে, বিরূপ আবহাওয়া কিছু কিছু নির্বাচনের সম্ভাব্য ফল পুরোপুরি পাল্টে যাওয়ার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।
২০০৭ সালে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, ১৯৬০ সালে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যে আবহাওয়া খারাপ হয়ে গেলে হয়তো রিচার্ড নিক্সন হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে সেবার জন এফ কেনেডিকে হারিয়েই দিতে পারতেন। আবার, ফ্লোরিডায় অতিবৃষ্টি না হলে ২০০০ সালের নির্বাচনে অ্যাল গোরই প্রেসিডেন্ট হয়ে যেতেন।








