গত দশ বছরে দেশে মাতৃমৃত্যুর হার প্রায় ৬ শতাংশ হারে কমেছে। এই হার ধরে রাখতে পারলেই আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ মাতৃমৃত্যু প্রতি লাখে মাত্র ৭০ জনে নামিয়ে আনা সম্ভব মনে করছেন সরকারের নীতি-নির্ধারকরা।
এ বিষয়ে এক অনুষ্ঠানে কিশোরী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বর্ণকিশোরী নেটওয়ার্কের প্রশংসা করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী।
নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস উপলক্ষে কিশোরী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শক্তিশালী নেটওয়ার্ক স্বর্ণ কিশোরীর এই আয়োজন। চ্যানেল আই ভবনে আয়োজিত আলোচনায় মা-মৃত্যু প্রতিরোধে সরকারের পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ১৮ বছরের আগে বিয়ে নয় আর বিশ বছরের আগে গর্ভধারণ নয়। এই শ্লোগানে কিশোরী সুরক্ষায় স্বর্ণ কিশোরী মায়েদের প্রসবকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার হার বাড়তে পারি এবং সচেতনা সৃষ্টি করতে পারি এবং যেভাবে আমরা গ্রামে গ্রামে যে কমিউনিটি ক্লিনিক তৈরি করে দিয়েছে আমরা শুধু চাই আমাদের দেশের মায়েরা ভালো থাকুক সুখে থাকুক এটিই স্বপ্ন।
প্রসবের আগে-পরে মায়েদের নিয়মিত চিকিৎসা গ্রহণে জনসচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। তিনি বলেন, মেয়েদের যদি আমরা নিরাপদ মাতৃত্বের বিষয়টি বুঝাতে পারি, বিশেষ করে গর্ভধারণের আগে। এ নিয়ে কি করণীয় তা যদি পাঠ্য বইয়ে দেয়া যেতে পারে; তাহলে অনেকেই উপকৃত হবে।
নিয়মিত চেকআপ ও গর্ভবর্তী মায়েদের রেজিষ্ট্রেশনের আওতায় আনা এবং দক্ষ হাতে প্রসব নিশ্চিত করতে দশ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগে সরকারের উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম।
স্বর্ণ কিশোরী নেটওয়ার্কের সিইও ফারজানা ব্রাউনিয়ার সঞ্চলানায় আলোচনায় কর্মজীবী বিশেষ করে গার্মেন্টখাতে কর্মরত মায়েদের প্রসবকালীন ছুটি ও সেবা নিশ্চিত করতে নানান উদ্যোগের কথা জানান শিল্প সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া। তিনি বলেন, নারীদের যত অংশগ্রহণ বাড়বে তত বাল্যবিবাহ, অনিরাপদ মাতৃত্ব এগুলো আস্তে আস্তে কমে যাবে।
কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্বর্ণ কিশোর-কিশোরী ক্লাব কিভাবে নিরাপদ মাতৃত্ব নিয়ে কাজ করছে তা তুলে ধরেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, মাতৃমৃত্যুহার মূলত কোন হচ্ছে তা আমরা খুঁজে বের করব। কিন্তু প্রথমে বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে হবে।
শিক্ষা সচিব সোহরাব হোসাইন বলেন, মেয়েদের প্রজনন স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সচেতনা বাড়াতে শিক্ষা মন্ত্রনালয় ধর্ম শিক্ষক এবং মসজিদের ইমামকে কাজে লাগাচ্ছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
২০০৫ সাল থেকে ২০১৫ পর্যন্ত মা মৃত্যুর হার প্রায় ছয় শতাংশ ধারায় ধরে রাখতে দক্ষ হাতে মায়েদের প্রসব নিশ্চিত করা, বাল্যবিবাহ রোধ জরুরী বলছেন বক্তারা।
মা মৃত্যুর হার কমাতে প্রসবের আগে-পরে নিয়মিত চেকআপ, গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে থাকা নিশ্চিত করতে সচেতনা বাড়ানো জরুরী বলছেন বক্তারা। তবে আশার কথা শিক্ষা ও চাকরী ক্ষেত্রে মেয়েদের অংশ গ্রহণ বাড়ছে যা মায়েদের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখছে।








