গর্ভবতী মায়েদের দক্ষ হাতে সন্তান প্রসব নিশ্চিত করতে ‘লেবার রুম প্রটোকল’ তৈরি
করেছে প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ চিকিৎসকদের সংগঠন ‘ওজিএসবি’। আগামী এপ্রিল
মাসের মধ্যে আটটি সরকারী মেডিকল কলেজ হাসপাতালে আধুনিক প্রযুক্তির মানসম্মত
মডেল ‘লেবার রুম’ তৈরিতেও সহায়তা দিবে ‘ওজিএসবি’।
দেশে বর্তমানে মাত্র ৩২ শতাংশ মায়ের প্রসব হয় হাসপাতাল-ক্লিনিক বা প্রতিষ্ঠানে দক্ষকর্মীর হাতে। বাকী ৬৮ শতাংশ মায়েরা এখনো বাড়িতেই প্রসব করেন। এক্ষেত্রে ঐ মায়েদের বেশির ভাগই প্রসবকালে দক্ষ ধাত্রীর সহায়তা পান না। এতে প্রসবকালীন রক্তক্ষরণে মায়ের মৃত্যুর হার এখনো অনেক বেশি। এছাড়াও প্রসবকালীন জটিলতায় অনেক মা নানা রোগে আক্রান্ত হন।
‘ওজিএসবি’র প্রেসিডেন্ট ও হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. রওশন আরা বেগম বলেন, বাংলাদেশের প্রত্যকটি জায়গায় লেবার ওয়ার্ডটা সবচেয়ে নিগৃহীত। এমনও লেবার রুম আমরা দেখেছি, যেখানে পঞ্চাশ বছর আগের একটি বালতি পড়ে রয়েছে, বেডের অবস্থায় একই রকম। আমরা যদি এই লেবার ওয়ার্ডটাকে মহিলাবান্ধব ও রোগীবান্ধব করতে না পারি তাহলে কিন্তু মানুষ আসতে চাইবে না।
চিকিৎসকরা মনে করেন, এখনো প্রসবের সময় বাড়ির সবচেয়ে নোংরা, ঘিঞ্জি ও অন্ধকার কক্ষটিই ব্যবহৃত হয়। তেমনি ভাবে সরকারী এমনকি বেসরকারী হাসপাতালেও ‘লেবার কক্ষটি’ হয় বহু ব্যবহারে জীর্ণ-অন্ধকারাচ্ছন্ন। এমনকি মজুদ থাকে না প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও নিত্য ব্যবহার্য ওষুধপত্রও।‘রক্ষক্ষরণ’ ও ‘একলামসিয়া’র মতো জটিলতা নিয়ে গর্ভবর্তী মায়েদের সময়মতো জরুরী সেবা দেয়া সম্ভব হয় না।
অধ্যাপক ডা. রওশন আরা বেগম আরও বলেন, ওজিএসবি’র পক্ষ থেকে যেন আমরা একটা লেবার রুম প্রটোকল তৈরি করে দিতে পারি, শুধু তাই নয় লেবার রুমের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য চারজন লেবার রুম ইনচার্জও দরকার হবে। সব কিছু নিয়েই আমরা মন্ত্রিপরিষদ পর্যায়ে ও বিভিন্ন এনজিও’র সঙ্গে আলোচনা করেছি।
অবস্থার উত্তরণে ‘অবট্রিটিক্যাল এন্ড গাইনোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশ-‘ওজিএসবি’ সরকারকে ঐ প্রটোকল তৈরি করে দিয়েছে। ঐ প্রটোকল অনুযায়ী লেবার রুমের সাথে অবর্জাভেশন কক্ষ অবশ্যই থাকতে হবে। ‘লেবার রুম’ হবে খোলামেলা। পর্যাপ্ত আলো-বাতাস পূর্ণ। কমপক্ষে ২টি আধুনিক টেবিল থাকবে। অবশ্যই থাকবে অক্সিজেন সিলিন্ডার, সাকার মেশিন।
প্রসবের আগে-পরে রক্তক্ষরণ ঠেকাতে ‘পিপিএইচ কিট’ রাখা বাধ্যতামূলক। ‘একলামসিয়া’ আক্রান্ত গর্ভবর্তী মায়েদের জরুরী ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় ওষুধও মজুদ রাখতে হবে।
ওজিএসবি’ মনে করছে ঐ প্রটোকল বাস্তবায়ন হলে মা ও শিশুর মৃত্যু প্রতিরোধ সম্ভব হবে। নিশ্চিত হবে গর্ভবর্তী মায়েদের অধিকারও।
‘ওজিএসবি’র দাবি ঐ প্রটোকল মেনে আগামী জুন মাসের মধ্যে সরকারী-বেসরকারী পর্যায়ের সিংহভাগ হাসপাতাল-ক্লিনিক-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মায়েদের প্রসবকালীন উন্নত সেবায় ‘লেবার রুম’ তৈরি সম্ভব হবে।







