প্রায় দেড় হাজার বছর আগে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় দুর্গনগরী ছিলো ভিতরগড়। কেবল ব্যবসা বাণিজ্যেই নয়,
বহু সংস্কৃতির সম্মিলন ঘটেছিল এই দুর্গনগরীটিকে কেন্দ্র করে। ইতিহাসের
অমূল্য এই সঞ্চয়, আজও অক্ষত পঞ্চগড় জেলার অমরখানা ইউনিয়নের মাটির নিচে।
পঞ্চগড় শহর থেকে ১৬ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়ন। এখানেই মহারাজা পৃর্থী প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে গড়ে তুলেছিলেন চারিদিকে দেওয়াল বেষ্টিত দুর্গনগরী ভিতরগড়। বহিশত্রুর হাত থেকে রক্ষা পেতে চারটি সীমানা প্রাচীর দিয়ে বেষ্টিত ছিলো এই নগরী।
প্রাচীন তিব্বত, সিকিম, ভুটান, আসাম কিংবা নেপালের নৌ বাণিজ্যের সংযোজস্থল ছিল এটি। এরপর কেটে গেছে ১৫শ’ বছর। কালের আবর্তে মাটির গর্ভে ঢাকা পড়েছিলো মহারাজার এই সৃষ্টি।
বসতভিটা কিংবা খোলা মাঠ যেখানেই হোক, মাটি খুড়লেই বেরিয়ে আসছে প্রাচীন সভ্যতার নানা নিদর্শন। গত ৭ বছর ধরে চলছে ইতিহাসের এই সন্ধান। মিলছে প্রাচীন স্থাপত্যের ধ্বংসাবশেষ।
ভিতরগড় খনন প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়ক প্রফেসর শাহনাজ হুসনে জাহান বলেন, বেষ্টনী দিয়ে ঘেরা যে ক্ষেত্রটি এগুলোর মধ্যে রয়েছে স্থাপনা পুরো সিটির লে আউট।
ভিতরগড় প্রমোশনাল সোসাইটির প্রেসিডেন্ট সোহেল এ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে অনেক দুর্গ আছে, কিন্তু দুর্গ নগরী বলতে কিছু নেই, ভিতরগড়ই একমাত্র দুর্গ নগরী।
ইতিহাসের এতোসব প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও, দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকায় জায়গা হয়নি এই দুর্গনগরীর নাম।
তবে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান সবচেয়ে বড় নিদর্শন মহারাজার দিঘি সংস্কারে সম্প্রতি কাজ শুরু করেছে প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর।







