বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য বিশেষ বৈঠকের আগে মঙ্গলবার রোহিঙ্গা ইস্যুতে আরেকটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ। বৈঠকে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর নৃশংস নির্যাতন আর সহিংসতার নিন্দা জানানো হয়।
মঙ্গলবারের ওই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের উদ্দেশ্য ছিল বৃহস্পতিবার নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলো রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের বিষয় নিয়ে যে বৈঠকটি করতে যাচ্ছে, তার জন্য আগে থেকে প্রস্তুতি নিয়ে রাখা এবং উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা। ওই বৈঠকে রোহিঙ্গা ও মিয়ানমার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্টনিও গুতেরেস ব্রিফিং করবেন।
বৈঠক সম্পর্কে নিরাপত্তা পরিষদ কোন আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দিলেও জাতিসংঘে নিযুক্ত ব্রিটিশ উপ-রাষ্ট্রদূত জনাথন অ্যালেন বলেছেন, রাখাইনে সহিংসতা বন্ধ, রোহিঙ্গাদের অবিলম্বে মানবিক সাহায্য কার্যক্রম শুরু ও কফি আনান কমিশন রিপোর্টের বাস্তবায়নের ওপর জোর দিচ্ছে নিরাপত্তা পরিষদ। নিরাপত্তা পরিষদকে মিয়ানমার সরকারের কাছে একটা স্পষ্ট বার্তা পাঠাতে হবে যে, বর্তমানে সেখানে যে সহিংসতা চলছে তা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।
রাখাইন রাজ্যে মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে দিতে হবে এবং আপাতঃ রাষ্ট্রবিহীন রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব নির্ধারণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন অ্যালেন।
ফরাসি রাষ্ট্রদূত ফ্রাসোঁয়া দেলাত্রে জানান, মঙ্গলবারের বৈঠকে তিনি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের ওপর চাপ বাড়ানোর উদ্দেশ্যে দৃঢ় ও ঐক্যবদ্ধ প্রতিক্রিয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর বহুদিন ধরে চলমান সংঘর্ষ-সহিংসতা সঙ্কট সমাধানে ২০১৬ সালের আগস্টে গঠিত হয় অ্যাডভাইজরি কমিশন অন রাখাইন স্টেট। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে ওই কমিশন এক বছরের তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের প্রধান অং সান সু চির কাছে জমা দেয় চলতি বছরের ২৪ আগস্ট।
৬৩ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদন জমা দেয়ার কয়েক ঘণ্টা পরই ২৪ আগস্ট দিবাগত রাতে ত্রিশটি পুলিশ ও সেনাচৌকিতে রহস্যজনক হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় নিহত হয় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ সদস্য। তারপরই হামলার জন্য রোহিঙ্গা ‘জঙ্গি’দের দায়ী করে জবাব হিসেবে সেনাবাহিনী পুরো অঞ্চলে হত্যাযজ্ঞ শুরু করে।
সেনাবাহিনীর ওই হামলায় এখনও পর্যন্ত প্রায় ৫শ মানুষ মারা গেছে, আর প্রাণভয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে পাড়ি জমাচ্ছে বাংলাদেশে। নৌপথে পালিয়ে আসার পথে নৌকাডুবিতেও বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।
সেনাবাহিনীর হামলা ও সহিংসতার মাত্রার ভয়াবহতার কারণে জাতিসংঘ একে ‘পাঠ্যবইয়ে যোগ করার মতো জাতিগত নিধনের উদাহরণ’ বলে অভিহিত করেছে।আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন না করার উদ্দেশ্যেই মিয়ানমারের সেনাবাহিনী এই হত্যাকাণ্ড শুরু করে।








