আওয়ামী লীগ সরকার বিএনপিকে নিবন্ধন বাতিলের ভয় দেখিয়ে পাতানো নির্বাচনে অংশগ্রহন করাতে চায় বলে অভিযোগ করেছে বিএনপি। তবে নিবন্ধনের এই ভয় দেখিয়ে নির্বাচনে বিএনপিকে অংশগ্রহন করাতে পারবে না বলেও জানিয়েছে দলটির নেতারা।
তারা বলছেন, নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার না দিয়ে নিবন্ধন বাতিলের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই, কারণ জনগণের রায়ই বিএনপির নিবন্ধন।
৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার পৃথক দুটি সভায় বিএনপি নেতারা এসব কথা বলেছেন। সকাল দশটায় পুরানা পল্টনের সিদ্দিক ম্যানশনে মুক্তিযোদ্ধা দল কার্যালয়ে লিডারশীপ ওয়ার্কশপে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ।
অন্যদিকে দুপুর সাড়ে ১২টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদী নাগরিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এড. আহম্মেদ আজম খাঁন।
রিজভী আহমেদ বলেন, এদেশে মানুষের ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষার কোন নিরাপত্তা নেই, জীবনের গুরুত্ব নেই। বলা হচ্ছে, বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে রেজিস্ট্রেশন বাতিল হবে। রাজনৈতিক দলের প্রতি জনগণের ইচ্ছা-অনিচ্ছাই হচ্ছে বড় নিবন্ধন।
মঈনুদ্দিন, ফখরুদ্দিনরা একটি বৃহত্তর পরিকল্পনা থেকে এসব নিবন্ধন চালু করেছিল জানিয়ে রিজভী বলেন, এর মধ্যদিয়ে তারা আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা এনে দীর্ঘকাল টিকিয়ে রাখার ব্যবস্থা করেছে। এরপর নিয়মিত পাতানো নির্বাচন দিয়ে বিএনপিকে ধ্বংস করার পায়তারা করতেই এই প্রক্রিয়া। বিএনপি এতে ভয় পায় না।
ওবায়দুল কাদেরের উদ্দেশে এড. আহম্মেদ আজম খাঁন বলেন, জুজুর ভয় দেখাবেন না। জুজুর ভয় দেখিয়ে বিএনপিকে নির্বাচনে নেয়া যাবে না। বিএনপি নির্বাচন করবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। সেই নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে আপনাদেরকেও নির্বাচনে আসতে হবে। বাংলাদেশে খালেদা জিয়া ছাড়া কোন নির্বাচন হবে না।
প্রেস ক্লাবের প্রতিবাদী নাগরিক সভায় ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, সরকার চায় মিথ্যা মামলা দিয়ে খালেদা জিয়া ও বিএনপি নেতাকর্মীকে বন্দি করে একটি পাতানো নির্বাচন দিতে। কিন্তু বারবার প্রতারণা করে ক্ষমতায় আসা যায় না। জনগণ ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে আপনাদের ওপর ক্ষুব্ধ। জনগণ রোষে উঠলে পালিয়ে বাঁচতে পারবেন না।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ জনগণের ভোটে বিশ্বাস করে না।তারা পাতানো নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতায় আসতে পারবে না বলেই আরেকটি ৫ জানুৃযারি চায়। আর সেখানে বিএনপির নিবন্ধন বাতিলের স্লোগান তুলে নতুন করে ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখছে। এই ষড়যন্ত্র আর সম্ভব হবে না বলে হুশিয়ার করে দেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন।
বিএনপির সিনিয়র এই নেতা বলেন, দেশকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে না দিয়ে একটি নির্দলীয় সহায়ক সরকারের অধীনেই নির্বাচন করতে হবে।
নির্দলীয় সহায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে সেই নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে বলে জানান ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন।










