রাজধানীর ধানমন্ডির ম্যাপল লিভের ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের গণিত বিষয়ের শিক্ষিকা ফেরদৌসি ইকরাম ফৌসিয়া (৩১) নিখোঁজের দুই সপ্তাহ অতিক্রম হলেও তার সম্পর্কে কোনো খোঁজ জানা নেই পুলিশের।
চলতি মাসের ২ জুলাই রাতে গ্রীণ রোড়ের বাসা থেকে বের হয়ে যাবার পর আর ফেরেন নি তিনি। পরদিন কলাবাগান থানার তার বাবা ইকরামউল্লাহ সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করলেও দুই সপ্তাহের বেশি সময় অতিক্রম করলেও এখনো এ ব্যাপারে কিছুই জানা নেই পুলিশের।
পুলিশ জানিয়েছে তারা শিক্ষিকার স্কুলে, পরিচতজনের কাছ থেকে এখনো খোঁজ খবর নিচ্ছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ঈদের পর স্কুল খোলার পর তিনি আর আসেন তিনি, শিক্ষার্থীদের সমস্যার কথা বিবেচনা করে তারা কয়েকদিনের মাথায়ই নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছে।
সোমবার দুপুরে গ্রীণ রোডের ফৌসিয়াদের বাসায় গিয়ে যোগাযোগ করা হলেও তার বাবা বাসায় নেই জানানো হয়, এছাড়া পরিবারের কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি।
ফৌসিয়াদের মাল্টি প্লাজা অ্যাপার্টমেন্টের কেয়ার টেকার হোসেন চ্যানেল আই অনলাইনকে জানায় ওই রাতে বৃষ্টি ছিল স্যার যখন আমাকে জানায় অনেক রাত হয়ে যাচ্ছে তারপরও তার মেয়ে ফেরেন নি, তখন আমি আশেপাশের হাসপাতাল ও তাদের নিকট আত্মীয়দের সঙ্গেও যোগাযোগ করি।
বাসা থেকে সাধারণত কখন ফৌসিয়া বের হতেন জানতে চাইলে হোসেন বলেন: সাধারণত তিনি সকাল ৮ থেকে ৯ টার মধ্যেই বাসা থেকে বের হতেন, সন্ধ্যার পর পর বাসায় ফিরতেন। কিন্তু ওইদিন তিনি সকালে বাসা থেকে বের হন নি, সন্ধ্যায় যখন বের হয় তখনও আমরা দেখি নি, তবে পরিবার বলছে তিনি নাকি রাত ৮টার দিকে বাসা থেকে বের হয়েছে।
মাল্টি প্লাজার কেয়ার টেকার থাকায় খুব কাছ থেকেই ফৌসিয়াদের পরিবারকে দেখেছে হোসেন। তিনি জানান, তারা খুবই পরহেজগার পরিবার, ফৌসিয়াও পর্দানশীল ছিল ও হিজাব করতেন। চার বোন এক ভাইয়ের মধ্যে সে বড়।

ফৌসিয়ার নিখোঁজ হওয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইয়াসির আরাফাত চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: আমরা খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছি, তার মোবাইল বাসায় রেখে যাওয়ায় তাকে ট্র্যাকিং করা সম্ভব হচ্ছে না।
স্কুল শিক্ষিকা নিখোঁজ না অপহরণ হয়েছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওসি জানান, এখনো কোনো প্রকার অস্বাভাবিক কিছু নজরে পড়ে নি। আমরা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। আমাদের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) ও এসআই বাবলুর রহমান বিষয়টি দেখছে।
কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) শ্রী সমীর সরকার চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: আমরা এখনো স্কুল শিক্ষিকা ফৌসিয়ার খবর পাই নি, আমরা তার স্কুল, আত্মীয় ও ফেসবুকের মাধ্যমে তাকে খোঁজার চেষ্টা করছি।
সকালে ফৌসিয়ার ম্যাপল লিভ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে গিয়ে তার সস্পর্কে খোঁজ নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তা চ্যানেল আই অনলাইনকে জানায়, যতোটুকু কাছ থেকে দেখেছি খুব ভদ্র ও শান্ত টাইপের নারী ছিলেন তিনি। এখানে চার বছর ধরে চাকুরি করতেন তিনি। তার বাবা ইকরামউল্লাহও এই স্কুলের শিক্ষক।
স্কুলের প্রিন্সিপাল আলী কারাম রেজা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন: তিনি গণিতের শিক্ষক ছিলেন, ঈদের পর খোলার স্কুল খোলার পর থেকেই তিনি অনুপস্থিত ছিলেন, বাসায় যোগাযোগ করলে কখনো অসুস্থতা বা আর এখানে কাজ করবেন না এমনটা পরিবার থেকে জানান। পরে স্কুলের শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে আমরা নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেই।
জানা যায়, ফৌসিয়া বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি থেকে অনার্স এবং আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স করেছেন।










