দেশে প্রথমবারের মতো উদ্বোধন হলো নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নারী হলিডে মার্কেট। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মহাখালী বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় এই মার্কেট উদ্বোধন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এর উদ্বোধন করে বলেন, এই মার্কেটে সব ধরণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং নারীদের নিরাপত্তা নিয়ে কোনো উদ্বেগ থাকবে না। মেয়র আনিসুল হক জানান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে পর্যায়ক্রমে একটি করে নারী হলিডে মার্কেট খোলার পরিকল্পনা আছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের এই উদ্যোগ একটি আধুনিক ও সময়োচিত পদক্ষেপ। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে এই ধরণের বাজারের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। দেশে তেমন নারী বান্ধব কোনো ক্ষেত্র নেই। গণপরিবহণ থেকে শুরু করে সর্বত্র নারীদের জন্য বিশেষ ধরনের কোন ব্যবস্থা চালু নেই। বাংলাদেশে অনেক নারী উদ্যোক্তা রয়েছেন, কর্মজীবী নারী রয়েছেন যারা এই ধরনের বাজার আরো চালু হলে সুবিধা পাবেন। আবার ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় হকারদের উচ্ছেদ করা হয়েছে। এতে করে নিম্ন আয়ের লোকজন যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি বহু ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। হকারদের পুনর্বাবানের ব্যবস্থা করতে এই ধরনের আরো মার্কেট চালু করা এখন সময়ের দাবি। নারী হলিডে মার্কেট শুধু উদ্বোধন করলে হবে না, এই প্রকল্প যেন অন্য আরো বহু প্রকল্পের মতো মুখ থুবড়ে না পড়ে, সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে। অতীতে সিটি কর্পোরেশনের এরকম বহু উদ্যোগ এখন বিলীন হয়ে গেছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নগরে বহু নতুন নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে যা প্রশংসার দাবি রাখে। আমরা চাই এই উদ্যোগটি যেনো সফলভাবে এগিয়ে যায়। এত শুধু কর্মজীবী নারী নয়, এই শহরের সকল নারীই উপকৃত হবেন। আরো একটি প্রধান কাজ যেটি সতর্কতার সঙ্গে করা দরকার সেটি হলো, মার্কেটে আসা নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কথা ও কাজের যেন সমন্বয় ঘটে তাও আমরা তা দেখতে চাই। আর মেয়রকে সাধুবাদ জনিয়ে বলতে চাই, এ ধরনের উদ্যোগ যেন সচল থাকে সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি সবার আগে। অবশ্যই এটি একটি মহৎ উদ্যোগ। তবে এখন দেখার বিষয়, সিটি কর্পোরেশন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কীভাবে এটি পরিচালিত করে। এটি যেন আরো দশটি অন্তসারশূন্য প্রকল্পে পরিণত না হয়।









