‘এল ক্ল্যাসিকো’ বিশ্ব ফুটবলের সেরা যুদ্ধ। যুগের পর যুগ যে ম্যাচ উপহার দিয়েছে নানা রোমাঞ্চকর মুহূর্ত। রোববার আবার সেই দিন। যেদিন স্পেন দ্বিখণ্ডিত হবে। এক দিকে রাজকীয় রিয়াল মাদ্রিদ। অন্য দিকে কাতালোনিয়ার প্রিয় বার্সেলোনা।
গত কয়েকটি মৌসুমে চেনা ছবি ছিল একটাই, ‘এল ক্ল্যাসিকো’ মানেই লিওনেল মেসি বনাম ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর লড়াইয়ের সরাসরি ‘অ্যাকশন’। গত কয়েক মৌসুমে সে চিত্র কিছুটা পাল্টেছিল। এই মহারণে বার্সেলোনার ‘রাজপুত্র’ আর রিয়াল মাদ্রিদের ‘মিসাইল’ শুধু নন, বরং হয়েছে ত্রিফলার লড়াই। মেসি-নেইমার-সুয়ারেজ বনাম রোনালদো-বেনজেমা-বেল। কে কাকে ছাপিয়ে যেতে পারেন সেই যুদ্ধ নিয়ে ফুটবল দুনিয়ার আগ্রহ থাকত তুঙ্গে। ক্ল্যাসিকোর রাতে আবার ইউরোপ বনাম লাতিন আমেরিকা যুদ্ধ দেখা যেত। বার্সার মেসি-নেইমার-সুয়ারেজ বনাম রিয়ালের রোনালদো-বেল-বেনজেমা।
তবে সবকিছু ছাপিয়ে রোববারের ক্ল্যাসিকো ব্যতিক্রমী। ন্যু ক্যাম্পের ক্ল্যাসিকোর আগে এই মহারণে যেন এক শোকের ছায়া। এক মৌসুম আগেই বার্সেলোনা ছেড়ে চলে গেছেন নেইমার। মেসি-রোনালদো থাকাতে তার রেশ তেমন একটা টের পাওয়ার যায়নি। কিন্তু গত এক দশকের বেশি সময় ধরে এই লড়াইকে অন্যমাত্রা দেয়া মেসি-রোনালদোকে ছাড়াই এবার হতে যাচ্ছে এল ক্ল্যাসিকো। বেল-বেনজেমার সঙ্গে সুয়ারেজ থাকলেও নেই মেসি-রোনালদো ও নেইমার।
সেই ২০০৭ সাল, মানে ঠিক ১১ বছর আগে। সবশেষ মেসি ও রোনালদোকে ছাড়া হয়েছিল বিশ্ব ক্লাব ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় এই ম্যাচ। লা লিগার এই মেগা ম্যাচ হয়ে উঠত একই সঙ্গে দুই সেরা প্রতিভার নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের চূড়ান্ত মঞ্চ। তারা না থাকায় এবার নতুন ‘নায়কের’ খোঁজে এল ক্ল্যাসিকো। যে ম্যাচ শুরু হবে বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ১৫মিনিটে।
মেসি-রোনালদো না থাকায় এই ম্যাচকে ‘রাজা ছাড়া দাবা খেলা’ বলেছেন রিয়াল-বার্সার দুই সাবেক গ্রেট জর্জ ভালদানো ও অস্কার গার্সিয়া।
এই মৌসুমেই বার্নাব্যু ছেড়ে রোনালদো গেছেন ইতালির জুভেন্টাসে। তার চলে যাওয়ার পর থেকেই অবশ্য ধুকছে রিয়াল। পর্তুগিজ তারকাকে ছাড়া নিজেদের যেন গোছাতে পারছে না লস ব্লাঙ্কোসরা।
রিয়ালের মতো বার্সেলোনা পাচ্ছে না তাদের প্রধান সেনা ও জাদুকর মেসিকে। লা লিগার ম্যাচে সেভিয়ার বিপক্ষে ইনজুরিতে পড়েন এলএম টেন। তিন সপ্তাহ মাঠের বাইরে থাকতে হবে তাকে।
রোনালদো নেই। জয়ের স্বাদ পাওয়াও ভুলে গেছে লস ব্লাঙ্কোসরা। কোনো একভাবে তাই জয় পেতে চায় হুলেন লোপেতেগির দল। আর এই ম্যাচ হারলেই ঝুলে থাকা চাকরির শেষ সুতোটাও ছিঁড়ে যাবে রিয়াল কোচের। জয়ের আর তাই কোনো বিকল্পও নেই লোপেতেগির।
সবরকম পরিস্থিতি মিলিয়ে রিয়ালকে আহত বাঘের সঙ্গে তুলনা করেছেন বার্সেলোনা কোচ ভালভার্দে। রোনালদো না থাকলেও রোববারের ম্যাচটাতে তাই ভয়ঙ্কর এক রিয়ালকে দেখার আশঙ্কা বার্সা কোচের, ‘আমি সেরা রিয়ালকেই আশা করছি। ওরা এমন এক দল যারা গোলের যথেষ্ট সুযোগ তৈরি করে। লেভান্তের বিপক্ষে ম্যাচটা দেখে থাকলে আপনি বুঝতে পারবেন। সে ম্যাচে ওরা ১০ গোল পেতে পারতো। এটাই প্রমাণ করে যে ওদের আক্রমণভাগ এখনো যথেষ্ট ভয়ঙ্কর। ’
আর জয়ের জন্য মরিয়া হয়েই যে ঝাঁপাবে রিয়াল না বুঝতে পারার কথাও নয়। লোপেতেগি তার শিষ্যদের মধ্যে জয়ের ক্ষুধা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছেন। আর যদি হেরেই যায় দল, তাহলে যে শিরোপা হারাবেন সেটাও মানতে নারাজ রিয়াল কোচ।
‘আমাদের অবস্থা যে অপরিবর্তনীয় এমনটা কিন্তু নয়। আমরা মাত্র অক্টোবরে আছি। আর আমার কোন সন্দেহ নেই যে খেলোয়াড়রা সমর্থকদের মুখে হাসি ফোটাতে সর্বোচ্চটাই দিতে চাইবে ম্যাচে। আমরা আগামীকাল দারুণ এক ম্যাচের অপেক্ষায় আছি। ’
লা লিগায় ১৭৮ ও সবরকম প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২৩৯ বারের মত মুখোমুখি হতে চলেছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। রোনালদোবিহীন অস্থির-দুঃসময় পার করা রিয়াল তার পাশে পাচ্ছে কেবল সমীকরণকেই। লিগে আগের ১৭৭ দেখায় তারা বার্সাকে হারিয়ে ৭২ ম্যাচে আর হেরেছে ৭০টিতে। বাকি ৩৫ ম্যাচে দুই দলই মাঠ ছেড়েছে এক পয়েন্ট ভাগাভাগি করে অর্থাৎ, ড্র মেনে। আর সবরকম প্রতিযোগিতা মিলিয়ে রিয়ালের জয়ের সংখ্যা ৯৫ আর বার্সার ৯৩। ড্রয়ের সংখ্যাটা কাটায় কাটায় ৫০।
মৌসুমের অর্ধেক যাওয়ার আগে এই ম্যাচ হয়তো নির্ধারণ করে দিতে পারে লা লিগার শিরোপাও। কারণ ‘এল ক্লাসিকো’ জেতা দলের শিরোপা জেতার সম্ভাবনা বেশি থাকে। যার হার ৬৬.৭।







