বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস একটি স্থায়ী সমস্যায় রূপ নিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চলমান এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনা তদন্তে বিচার বিভাগীয় ও প্রশাসনিক কমিটি গঠন করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এই ঘটনায় সরকারের নিস্ক্রিয়তাকে কেন অবৈধ ঘোঘণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন। বিষয়টি নজিরবিহীন, অতীতে যখন দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নকল করে পরীক্ষা দেয়ার মহামারী চলছিল তখনও আদালতকে হস্তক্ষেপ করতে হয়নি। চলমান এসএসসি পরীক্ষা বাতিলের আবেদন করে দায়ের করা রিটের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দিয়েছেন। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষা সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ২০ জনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। ঢাকা জেলা ও দায়রা জজের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের যে বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এই কমিটির কাজ হচ্ছে, প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে কারা জড়িত এবং তাদের শাস্তি কী হওয়া উচিত, তা খুঁজে বের করা। সেই সঙ্গে আদালত বুয়েটের অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদের নেতৃত্বে একটি প্রশাসনিক কমিটি করে দিয়েছেন। পাঁচ সদস্যের এই কমিটির কাজ হচ্ছে, প্রশ্নফাঁস প্রতিরোধে কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়, কী কী সমাধান আছে, সেগুলো নির্ধারণ করা। আদালতের আদেশের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব নিজেদের অবস্থান ও করণীয় সম্পর্কে জানানোর চেষ্টা করেছেন। সচিব বলেছেন, আমরা আদালতের নির্দেশনা প্রতিপালন করবো। তাছাড়া, প্রশ্নপত্র ফাঁস রোধের জন্য প্রশ্ন প্রণয়নে নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবনের চেষ্টা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রশ্নফাঁসের হোতাদের ধরতে এর মূলে পৌঁছানোর জন্য গোয়েন্দা বাহিনী আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি। একটা সময় অর্থের বিনিময়ে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটলেও বর্তমানে বিনামূল্যে ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্নপত্র পাওয়া যাচ্ছে। প্রশ্নফাঁসের ঘটনার এই পরিস্থিতি মাদকের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে উল্লেখ করে হাইকোর্ট বলেছেন, যেকোনো ভাবেই তা বন্ধ করতে হবে। আর অসহায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ও আদালতের করে দেয়া কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছে। চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস হতে থাকে। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের পদত্যাগেরও দাবি উঠেছে। শুধু মন্ত্রীর পদত্যাগে প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ হবে না। অভিভাবকদেরও প্রশ্নপত্র সংগ্রহের প্রবণতা বেড়ে যাওয়া প্রশ্নফাঁসকে উৎসাহিত করছে বলে নানা বিশ্লেষণে উঠে আসছে। বিষয়টি আসলেই জাতির জন্য একটি মারাত্মক সমস্যায় রূপ নিয়েছে। আদালতের তৈরি করে দেয়া কমিটি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, অভিভাবক মহলসহ সর্বসাধারণের সহযোগিতায় এই চিরস্থায়ী সমস্যা দূর হবে, এই আমাদের প্রত্যাশা।







