পণ্য রপ্তানিতে নগদ প্রণোদনা দেয়াসহ নানা ধরনের উদ্যোগ নেয়ার পরও ধারাবাহিকভাবে কমছে রপ্তানি আয়। চলতি অর্থবছরের (২০১৯-২০) প্রথম ৭ মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) রপ্তানি আয়ে প্রবৃদ্ধি কমেছে ৫ দশমিক ২১ শতাংশ। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে ১৩ শতাংশ।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) মঙ্গলবার রপ্তানি আয়ের যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তাতে রপ্তানির এই চিত্র উঠে এসেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশে যে সুতা দিয়ে পোশাক তৈরি করা হয় বিশ্ববাজারে তার চাহিদা কমেছে। এছাড়া বেতন-মজুরি বাড়ার কারণে কম দামে অর্ডার নেয়া যাচ্ছে না। এ কারণে রপ্তানি কমছে। রপ্তানি আয় বাড়াতে পণ্যে বৈচিত্র্য আনা দরকার বলে মনে করেন তারা।
ইপিবির প্রতিবেদনের তথ্যমতে, চলতি অর্থবছরের এই ৭ মাসে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৬শ ৩৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ২ হাজার ২শ ৯১ কোটি ৯৪ লাখ ৭০ হাজার ডলার। গত অর্থবছরের ঠিক এই সময়ে রপ্তানি আয় হয়েছিল ২ হাজার ৪শ ১৭ কোটি ৯৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার।
একক মাস হিসাবেও কমেছে রপ্তানি আয়। ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪২১ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ৩৬১ কোটি ৭৩ লাখ ১০ হাজার ডলার। এতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৪ দশমিক ২৪ শতাংশ আয় কম হয়েছে। আর গত বছরের ঠিক একই মাসের তুলনায় প্রবৃদ্ধি কম হয়েছে ১ দমমিক ৭০ শতাংশ।
ইপিবির তথ্যানুযাযী, গত ৭ মাসের মধ্যে শুধু জুলাই ও ডিসেম্বর মাসে প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক ছিল। এছাড়া বাকি ৫ মাসেই রপ্তানি আয় কমেছে।
মূলত তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কমার কারণে পুরো রপ্তানি আয়ে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ৭ মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) তৈরি পোশাক খাতে রপ্তানি আয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ২১১ কোটি ৮২ লাখ ২০ হাজার ডলার। তবে আয় হয়েছে ১ হাজার ৯০৬ কোটি ৩২ লাখ ৪ হাজার ডলার। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে আয় কম হয়েছে ১৩ দশমিক ৮১ শতাংশ। আর গত বছরের ঠিক একই সময়ের তুলনায় আয় কম হয়েছে ৫ দশমিক ৭১ শতাংশ।
এ বিষয়ে তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এখন রপ্তানি প্রবৃদ্ধি বাড়ার কথা, কিন্ত তা না হয়ে উল্টো কমছে। কারণ বিশ্ব বাজারে পণ্যের চাহিদা কমে গেছে। ফলে রপ্তানি অর্ডার কমে গেছে। এর মূল কারণ বাংলাদেশ যে সব কটন দিয়ে পণ্য তৈরি করে, এর চাহিদা এখন কমছে। পাশাপাশি শ্রমিকের মজুরি ও বেতন-ভাতা বাড়ানোর কারণে কম দামে অর্ডার নেয়ার সক্ষমতা আগের চেয়ে কমেছে।
রপ্তানি বাড়াতে প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে তাল মিলিয়ে সরকারকে সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পাশাপাশি আমাদের পণ্যের বৈচিত্র আনতে হবে। একই সঙ্গে শুধু পোশাকের ওপর নির্ভরশীলতা না হয়ে রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণে জোর দিতে হবে। তা না হলে আগামীতে রপ্তানি আয় আরো কমতে পারে।
ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে পণ্য রপ্তানি করে ৪ হাজার ৫৩ কোটি ৫০ লাখ ৪০ হাজার ডলার আয় করে বাংলাদেশ। রপ্তানির এ আয় তার আগের অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে ১০ দশমিক ৫৫ শতাংশ বেশি, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ দশমিক ৯৪ শতাংশ বেশি।
চলতি অর্থবছরে (২০১৯-২০) পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৫৫০ কোটি ডলার।







