বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের মাতৃত্ব ও শক্তির প্রতীক দেবী দুর্গার আশীর্বাদ প্রার্থনায় মণ্ডপে-মণ্ডপে চলছে উৎসবের শেষ আনুষ্ঠানিকতা। এই উপলক্ষ্যে শনিবার সকালে রাজধানীর রমনা কালীমন্দিরে দেখা যায় আবির খেলা ও সিঁদুর পরানোর ধুম। একদিকে আনন্দ অন্য দিকে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার বিদায়ের বেদনার সুর ভক্তদের মাঝে।
নারী ভক্তরা নানা উপচারে ডালি সাজিয়ে নিয়ে আসেন। প্রত্যেকের ডালায় সিঁদুর। দেবীর চরণে সিঁদুর অর্পণের পর সেই সিঁদুর নিজের সিঁথিতে পরেন। তারপর পরিয়ে দেন মণ্ডপে আসা সধবাদের। পুরুষ ভক্তরা রঙ খেলে আনন্দ করছেন। জগন্নাথ হলে বাজছে বিদায়ী রাগ সংগীত। চলছে সিঁদুর রাঙানো ও দেবী দুর্গাকে বিদায়ের প্রস্তুতি।
জগন্নাথ হল মন্দিরের প্রধান পুরোহিত সাধন চক্রবর্তী চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘আজই মর্ত্যে মায়ের শেষদিন। সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে দেবীকে কৈলাসের পথে বিদায় জানানো হয়েছে।’
তিনি জানান, ১০ দিন আগে মহালয়ার পুণ্য তিথিতে দেবীকে মর্ত্যে আবাহনের মাধ্যমে যে উৎসবের সূচনা হয়েছিল, শনিবার সকালে বিজয়া দশমীতে ‘বিহিত পূজা’ আর ‘দর্পণ বিসর্জনে’ দুর্গা পূজার শাস্ত্রীয় সমাপ্তি হয়। বিকালে হবে প্রতিমা বিসর্জন।
‘বাবার বাড়ি বেড়ানো’ শেষে আনন্দময়ী ফিরে যাবেন কৈলাসের দেবালয়ে। এবারের প্রার্থনা নিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথমে কচু ঘেচুর মাধ্যমে মহিষাসুর বা অশুভ শক্তির পূজা করা হয়েছে। তারপর সিদ্ধ চাল, কলা, চিড়াসহ নানা দ্রব্যে দেবীকে ভোগ নিবেদন করা হয়। তারপর শাপলা শালুকে দেবীকে পূজা দেওয়া হয়।
কৈলাসের পথে দেবীকে বিদায় জানিয়ে ভক্ত মানসী বড়ুয়া বলেন, ‘এক সমৃদ্ধশালী, সুখী বাংলাদেশের প্রার্থনা করেছি মায়ের কাছে।’
সিঁদুর খেলতে আসা অনামিকা মণ্ডল বলেন, ‘দুর্গতিনাশিনী দুর্গা যেন মনের সব কালিমা দূর করে সেথায় সুর শক্তি প্রতিষ্ঠা করেন, সমাজে সবাই যেন মিলেমিশে থাকতে পারি, সে প্রার্থনাই করেছি।’ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বন্ধন যেন আরও দৃঢ় হয় সে প্রার্থনা করেছেন প্রকৌশলী পি কে চৌধুরী ও শুক্লা সাহা।
জগন্নাথ হল মন্দিরের প্রধান পুরোহিত সাধন চক্রবর্তী জানান, ‘নগরীর অধিকাংশ মন্দিরের প্রতিমা বিকাল ৩টা নাগাদ পৌঁছাবে ঢাকেশ্বরীর জাতীয় মন্দিরে। তারপর ওয়াইজঘাটে হবে প্রতিমা বিসর্জন। উত্তরা, বনানী ও মিরপুরের প্রতিমা বিসর্জন হবে তুরাগ নদে। এছাড়া বালু নদ ও আশপাশের জলাশয়ে প্রতিমা বিসর্জন হবে।’
বিভিন্ন ঘাটে রাত ১০টা পর্যন্ত রাজধানীর ২৩১টি মণ্ডপের প্রতিমা একে একে বিসর্জন দেওয়া হবে বলে জানান বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি জয়ন্ত সেন দীপু।







