চার বছর আগে বেলো হরিজন্তেতে নিজ দেশের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের লজ্জায় ডুবেছিল ব্রাজিল। হুইলচেয়ারে বসে সেই ম্যাচ দেখতে হয় দলের ভরসা নেইমারকে। সেলেসাওদের জন্য যেটা মোটেও সুখকর স্মৃতি ছিল না। সেই ম্যাচের আগে কোয়ার্টারে কলম্বিয়ার হুয়ান জুনিগার ভয়ঙ্কর এক ফাউলে চোট নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল ব্রাজিলিয়ান তারকাকে।
চারবছর বাদে আরেকটি বিশ্বকাপ যখন দুয়ারে, নেইমার লড়লেন আরেকটি চোট থেকে সেরে ওঠার লড়াই। প্রীতি ম্যাচে ফিরে গোল করে ব্রাজিলকে জয়ও এনে দিয়েছেন। তাকে ঘিরেই তাই ব্রাজিলিয়ানদের বিশ্বকাপ স্বপ্নের পালে জোর হাওয়া লাগছে। নেইমার কী পারবেন দেশের স্বপ্ন ফানুস ওড়াতে? ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বসেরার ট্রফি উচিয়ে ধরতে? সাক্ষাৎকারে সেসব নিয়ে বলেছেন রাশিয়া বিশ্বকাপের টপ ফেভারিট ব্রাজিলের এ তারকা-
আবার একটা বিশ্বকাপ চলে এলো। ব্রাজিল কী এবার পারবে?
নেইমার: আমি সবসময় বিশ্বাস করি ব্রাজিল পারবে। আমাদের একটা দারুণ দল আছে। আমরা অনেক পরিশ্রমও করেছি। সবচেয়ে বড় কথা, আমাদের জেতার যোগ্যতা আছে।
একটু খোলাসা করে বলবেন কী?
নেইমার: দেখুন, সাউথ আমেরিকার গ্রুপ থেকে আমরাই প্রথম যোগ্যতা অর্জন করেছি বিশ্বকাপের। প্রায় ১৮টা ম্যাচ বাছাইপর্বে খেলেছি। ভিন্ন দেশ, ভিন্ন পরিবেশে। ফুটবলারদের জন্য কঠিন পরীক্ষা ছিল সেটা। আমরা আমাদের ভঙ্গিতেই খেলেছি। একাধিক ম্যাচ হাতে রেখেই মূলপর্বের যোগ্যতা অর্জন করেছি। দলের সবার কাছেই এটা ছিল দারুণ কিছু। আমরা রাশিয়াতেও একই রকম দাপট দেখাতে চাই।
বিশ্বকাপের বাছাইপর্বে আপনি ছিলেন দলের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ। কিন্তু পিএসজির হয়ে খেলতে গিয়ে ম্যাটাটারসাল হাড় ভাঙলেন, ছুরি-কাঁচির নীচে গেলেন। আপনার ফিটনেস তো ভক্তদের ভীষণ চিন্তার বিষয়…
নেইমার: আমি এখন একদম ঠিক আছি। হ্যাঁ, চোট নিয়ে আমিও চিন্তায় ছিলাম। বিশ্বকাপের কথা ভেবেই কিন্তু আমরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। এখন মনে হয়, আমাদের সবকিছু ঠিকঠাক মতোই যাবে।
২০১৪-র বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে চোটের জন্য খেলতে পারলেন না। ব্রাজিল তাদের সবচেয়ে লজ্জার হারটা পেল। মনে আছে নিশ্চয়ই?
নেইমার: আচ্ছা, ওই সময়টা কিন্তু আমরা পেছনে ফেলে এসেছি। জার্মানির কাছে ১–৭ হার হজম করাটা ছিল খুব কষ্টের। আমার জন্যে তো আরও বেশি। কারণ চোটের জন্য ম্যাচটা খেলতে পারিনি। সেই চোটটা আমার ক্যারিয়ারই শেষ করে দিতে পারত। এটা ছিল জীবন-ধ্বংস করার মতো এক চোট। আঘাতটা আর দুই সেন্টিমিটার ডানে লাগলেই আজীবন হুইলচেয়ারে কাটাতে হতো। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, তাড়াতাড়ি মাঠে ফিরতে পেরেছি। জীবনে যেটা সবচেয়ে ভালবাসি, সেই খেলাটা এখনও খেলতে পারছি। এখনই সময় নতুন চ্যালেঞ্জের জন্য তৈরি হওয়ার।
গ্রুপ ‘ই’তে আপনাদের সঙ্গে আছে সুইজারল্যান্ড, কোস্টারিকা আর সার্বিয়া। প্রতিপক্ষদের নিয়ে কী ভাবছেন?
নেইমার: এটা বিশ্বকাপ। আপনাকে মনে রাখতে হবে এই মুহূর্তে বিশ্বের সেরা ৩২টা দলের মধ্যে আপনি আছেন। বিশ্বকাপে কোনো ম্যাচই সহজ নয়। সুইজারল্যান্ডের ফুটবল ইতিহাস দুর্দান্ত। সার্বিয়া নতুন দেশ হলেও তার ছাপ রাখছে। আর কোস্টারিকা কতটা শক্তিশালী তার প্রমাণ তো আপনি আমেরিকার দিকে তাকালেই পাবেন। তারা তো যোগ্যতা অর্জনই করতে পারেনি। কিন্তু ওরা পেরেছে! এটা একটা কঠিন গ্রুপ, খুবই কঠিন। নকআউটের যোগ্যতা অর্জন করতে গেলে আমাদের সেরাটাই দিতে হবে।
মেসির সঙ্গে খেলেছেন। রোনালদোর বিপক্ষে লড়েছেন। স্পেনে থাকার সময়। এই দু’জনের বিশ্বকাপ জেতার সম্ভাবনা কতখানি?
নেইমার: দু’জনেই গ্রেট ফুটবলার। বর্তমান প্রজন্মের সেরা। মেসির সঙ্গে খেলাটা আমার জন্য দারুণ গর্বের। ফুটবলার হিসেবে তো বটেই, মানুষ হিসেবেও তাকে আমার দারুণ পছন্দের। মেসির সঙ্গে একই ক্লাবে খেলাটা ছিল স্বপ্নের মতো। আমার কাছে মেসিই সেরা। তাই বলে রোনালদোকেও উপেক্ষা করতে পারবেন না। ওর অর্জনটাও অসাধারণ। অবশ্য বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা আর পর্তুগাল- দু’দলকেই ভীষণ পরীক্ষা দিতে হবে। তবে মেসি-রোনালদো নামের দুই জাদুকর সবটুকু উজাড় করে দেবে নিজের দেশকে বিশ্বসেরার ট্রফিটা এনে দেয়ার জন্য।
বিশ্বকাপে আপনার ফেভারিট কে?
নেইমার: অবশ্যই, ব্রাজিল। এব্যাপারে কোনো সংশয় নেই। তবে আমাদের সঙ্গে কয়েকটা দলের নাম উচ্চারণ করতেই হবে। যেমন- সাউথ আমেরিকা থেকে আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে। তবে এবার যেহেতু ইউরোপে বিশ্বকাপ হচ্ছে, তাই ফেভারিটের তালিকায় ইউরোপের দেশগুলোই বেশি থাকবে। জার্মানি তো গতবারের চ্যাম্পিয়ন। তাছাড়া স্পেন, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, পর্তুগালও আছে। তাই যেকোনো একটা দলকে ফেভারিট তকমা দেয়া কঠিন।







