ভারতের বিপক্ষে গল টেস্টে ৩০৪ রানে হেরে বসেছে শ্রীলঙ্কা। জিততে হলে ৫৫০ রানের পাহাড় টপকাতে হত। হাতে ছিল দুটো দিন, আর অক্ষত সবকটি উইকেট। ক্রিকেটীয় বাস্তবতা বলছিল, লক্ষ্যটা ছোঁয়া অসম্ভব শ্রীলঙ্কার জন্য। আবার ক্রিকেট তো গৌরবময় অনিশ্চয়তারই খেলা। এই কদিন আগেই লঙ্কানরা পৌনে চারশ টপকে জিতেছে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এবার অবশ্য সেটা হল না।
অশ্বিন ও জাদেজাতেই ধরাশায়ী হয়েছে শ্রীলঙ্কা। দুই উইকেট হাতে রেখেই হয়েছে অলআউট। একে তো বিশাল লক্ষ্য, সঙ্গে দুই লঙ্কান ব্যাটিংয়েই নামতে পারেননি দ্বিতীয় ইনিংসে। অ্যাসেলা গুনারত্নে আঙুলে চোট নিয়ে পুরো সিরিজের জন্যই ছিটকে গেছেন, প্রথম ইনিংসেও ব্যাট করেননি তিনি। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট হাতে নামতে পারেননি রঙ্গনা হেরাথ।
অবশ্য সেটা হলেও খুব একটা হেরফের হত না। লঙ্কানদের দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪৫ রানে গুটিয়ে যাওয়া বোঝায় না তারা নিজেরাই বিশ্বাস করেছিল পাহাড় টপকানোর বিষয়টি। শুরুতে দিমুথ করুনারত্নের ব্যাট হেসেছে। ৩ রানের আক্ষেপ নিয়ে ৯৭ রানে থেমেছে এই উদ্বোধনীর ইনিংস।
নিচে নেমে যাওয়া নিরোশাল ডিকেভেল্লা ৬৭ ও কুশল মেন্ডিস ৩৬ ছাড়া বলার মত অবদান রাখতে পারেননি আর কেউই।
ভারতের হয়ে রবিচন্দ্র অশ্বিন ও রবীন্দ্র জাদেজা ৩টি করে উইকেট নিয়েছেন। একটি করে গেছে মোহাম্মদ সামি ও উমেশ যাদবের দখলে।
এর আগে শ্রীলঙ্কাকে রানের বোঝায় পিষ্ট করার মঞ্চটা শুক্রবারই সাজিয়েছিল ভারত। বিরাট কোহলির সেঞ্চুরিতে শনিবার কেবল সেটির ষোলোকলাই পূর্ণ হয়। প্রথম ইনিংসে ভারতের সংগ্রহ ছিল ৬০০ রান। পরে শ্রীলঙ্কাকে ২৯১ রানে অলআউট করে দিয়ে ৩০৯ রানের লিড নেয় সফরকারীরা। প্রতিপক্ষকে ফলোঅনে না পাঠিয়ে ভারতই আবার ব্যাটিংয়ে নেমে পড়ে।
তৃতীয় দিন শেষে ৩ উইকেটে ১৮৯ রানের সংগ্রহ ছিল। ৪৯৮ রানের লিড ছিল তখনই। চতুর্থ দিনে আর কোনও উইকেট না হারিয়ে ইনিংসটাকে ২৪০ রানে টেনে নিয়ে থামার ঘোষণা দেন কোহলি। লঙ্কানদের সামনে সাড়ে পাঁচশর লক্ষ্য আসে তাতেই।
এই পাহাড় গড়ার পথে ভারত দারুণ একটি কীর্তি গড়ে বসেছে। প্রতিপক্ষকে দেয়া নিজেদের সবচেয়ে বড় টেস্ট লক্ষ্যের দ্বিতীয় স্থানটি তারা নতুন করে লিখেছে। আগে ২০০৮-০৯এ ওয়েলিংটনে নিউজিল্যান্ডকে দেয়া ৬১৭ রানের লক্ষ্যটাই কেবল ওপরে।
সেটা গড়ার পথে আরেকবার অনবদ্য ছিলেন কোহলি। সকালে ৭৬ রানে থেকে ক্রিজে এসেছিলেন। ভারত অধিনায়ক অপরাজিত থেকেই মাঠ ছেড়েছেন। মাঝে তুলে নিয়েছেন নিজের ১৭তম টেস্ট সেঞ্চুরি। হার না মানা ১০৩ রানের ইনিংসটি ১৩৬ বল আর ৫ চার এক ছয়ে সাজানো। তাতে কোহলির টেস্ট ব্যাটিং গড়ও এখন ৫০-এর ওপরে!







