রূম্মন রেজা, নারায়নগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে এলিট ফোর্স র্যাবের কাছে গ্রেফতারকৃত নব্য জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের তিন সদস্যরা সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও সুইসাইড স্কোয়াডের সদস্য।
শনিবার দুপুরে সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীনগর এলাকায় র্যাব-১১ এর প্রধান কার্য্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ব্যাটেলিয়ান অধিনায়ক (সিও) লেফটেনেন্ট কর্ণেল কামরুল হাসান।
আটককৃতরা হচ্ছে কুমিল্লার ওয়ালী উল্লাহ চিশতী ওরফে জনি, কামরুল হাসান হৃদয় ও বাগেরহাটের আল আমিন শেখ রাজিব। এদের মধ্যে জনি ও রাজিবের বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১১ এর ব্যাটেলিয়ান অধিনায়ক (সিও) লেফটেনেন্ট কর্ণেল কামরুল হাসান জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের আটককৃতরা নব্য জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছে এবং নাশকতার উদ্দেশ্যে এক শীর্ষ নেতার নেতৃত্বে গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছিল। তারা প্রত্যেকেই সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সুইসাইড স্কোয়াডের সদস্য। প্রয়োজনে এরা জীবন উৎসর্গ করতেও প্রস্তুত রয়েছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে।
তাদের পালিয়ে যাওয়া ওই শীর্ষ নেতাসহ অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতারে র্যাব তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

কামরুল হাসান আরো জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাবের একটি দল সদর উপজেলার ফতুল্লা থানার বক্তাবলী ইউনিয়নের চর বয়রাকান্দি গ্রামের লাল মিয়ার চরে অভিযান চালায়। ওই সময় নব্য জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের কমপক্ষে ২৫ জনের একটি দল বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে ওই চরাঞ্চলের লঞ্চঘাটে গোপন বৈঠক করছিল।
বৈঠকে তারা বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি হামলাসহ নাশকতা সৃষ্টির পরিকল্পনা করছিল। র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে জেএমবির সদস্যরা বেশ কয়েকটি গ্রুপে ভাগ হয়ে পালিয়ে গেলেও র্যাব তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয়। তাদের কাছ কাছ থেকে উদ্ধার হয় নাশকতামূলক কাজে ব্যবহৃত এসব আগ্নেয়াস্ত্র ও জঙ্গিবাদী সরঞ্জাম।

শুক্রবার বিকেল থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত অভিযানে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে নব্য জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের তিন সদস্যকে আটক করে র্যাব-১১। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে দুইটি আগ্নেয়াস্ত্র, বেশ কিছু গুলি, বিস্ফোরক দ্রব্য, জঙ্গিবাদী বই ও লিফলেট।







