যত বড় কর্তাই হোক না কেন দায়িত্বে অবহেলা করলে কেউ আইনের উর্ধ্বে নয়, এই রায়ে সেটাই প্রমাণ হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এই মামলার পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শওকত হোসেন। শিশু জিহাদের মৃত্যুর ঘটনায় মামলার রায় ঘোষণার পর তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে এ কথা বলেন।
রোববার দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটে ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. মো. আকতারুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে চারজনের ১০ বছর জেল, দুইজনকে খালাস দেন আদালত। পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে জরিমানার দণ্ড দেয়া হয়। মামলার রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, তাদের প্রত্যেকের দায়িত্বে চরম অবহেলার কারণে পাইপে পড়ে জিহাদের মৃত্যু হয়েছে।

এ মামলার আসামিরা হচ্ছে— রেলওয়ের জ্যেষ্ঠ উপসহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স এসআর হাউজের মালিক মো. শফিকুল ইসলাম ওরফে আবদুস সালাম, কমলাপুর রেলওয়ের সহকারী প্রকৌশলী মো. নাসির উদ্দিন, ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার জাফর আহমেদ শাকি, সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) দীপক কুমার ভৌমিক এবং সহকারী প্রকৌশলী-২ মো. সাইফুল ইসলাম।
তবে এদের মধ্যে সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) দীপক কুমার ভৌমিক এবং সহকারী প্রকৌশলী-২ মো. সাইফুল ইসলামকে মামলা থেকে খালাস দেয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিকেলে শাহজাহানপুরে রেলওয়ে মাঠে পরিত্যাক্ত পানির পাম্পের পাইপে পড়ে যায় চার বছরের শিশু জিহাদ। ফায়ার সার্ভিসের ২৩ ঘণ্টার অভিযানে তাকে উদ্ধার করা যায়নি। পরে ২৭ ডিসেম্বর বেলা তিনটার দিকে একদল স্বেচ্ছাসেবী পাইপের ভেতর থেকে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক জিহাদকে মৃত ঘোষণা করেন। অবহেলায় জিহাদের মৃত্যুর অভিযোগে পাম্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আবদুস সালামসহ দুজনের বিরুদ্ধে ২৭ ডিসেম্বর শাহজাহানপুর থানায় মামলা করেন জিহাদের বাবা মো. নাসির ফকির।









