প্রায় পাঁচ বছর পর আবারো ঢাকায় বসছে দাতা ও উন্নয়ন সহযোগীদের বৈঠক। স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতা করছে এমন দেশ ও সংস্থার সদর দপ্তরের প্রতিনিধিরা দু’দিনের সম্মেলনে অংশ নেবেন।
বাংলাদেশের উন্নয়নে আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া দেশ ও সংস্থার প্রতিনিধিদের জোটের নাম বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ফোরাম বা বিডিএফ, যা আগে পরিচিত ছিলো প্যারিস কনসোর্টিয়াম হিসেবে। মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালের ১৫-১৬ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ ঢাকায় হয়েছিলো বিডিএফ সম্মেলন।
মাঝে একবার সরকার সম্মেলন আয়োজনের চেষ্টা করলেও নানা কারণে তা হয়নি। এখন এসডিজি এবং ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত হওয়ার পর হচ্ছে বিডিএফ সম্মেলন।
নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশের যে অবস্থানে বাংলাদেশ গেছে, সেখান থেকে আরো উপরে যেতে হলে, উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশ হতে হলে কী কী কাজ করা উচিৎ, কী ধরণের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে এবং কীভাবে সেগুলো থেকে উত্তরণ পাওয়া সম্ভব সেটা নিয়েই প্রথম আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মেজবাহউদ্দিন আহমেদ।
তিনি জানান, ওই বৈঠকের পর উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে মিলে ঠিক করা হবে যেনো বিভিন্ন সেক্টরে সরকারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো পূরণে সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করা যায়।
কর্মকর্তারা বলছেন, এক সময় উন্নয়ন বাজেটের প্রায় পুরোটাই বিদেশী ঋণ ও মঞ্জুরির ওপর নির্ভর করে হতো। সেই অবস্থা বদলে গেছে। সরকারও তাই অনেক শক্তিশালী অবস্থানে।
এ ব্যাপারে মেজবাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, এখন নতুন কোনো প্রকল্প বা সাহায্য নেওয়ার আগে সরকার বিস্তারিতভাবে দেখে নেয় সেটি জাতীয় স্বার্থে কতোটা ব্যবহার করা যাবে। আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক আগে যে কোনো প্রকল্পে অনেক ধরণের শর্ত জুড়ে দিতো, যা এখন প্রায় অনুপস্থিত।
তিনি বলেন, বৈদেশিক সহায়তার ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা চাইবে বাংলাদেশ, তবে জোর করে কিছু চাপিয়ে দেওয়ার দিন শেষ।
বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে দু’দিনের সম্মেলনে আর্থ-সামাজিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা হবে ৭টি সেশনে।






