বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ব্যস্ততম সূচি শুরু হবে আসছে মাসের প্রথম সপ্তাহে, দেরাদুনে আফগানিস্তান সিরিজ দিয়ে। সেজন্য মিরপুরে ক্যাম্পও শুরু করেছে জাতীয় দল। খেলোয়াড়দের পদচারণায় বিসিবিপাড়া তাই সরগরমই। কিন্তু গত দু’দিনে অন্য আরেকটি কারণে সাবেক-বর্তমান ক্রিকেটার ও বোর্ডকর্তাদের দৌড়ঝাঁপ চোখে পড়ার মতো। সেটি টাইগারদের সাবেক কোচ গর্ডন গ্রিনিজকে ঘিরে। চলছে সংবর্ধনার জোয়ার। গ্রিনিজ সমাদরটা আবার এমন এক সময়ে, যখন দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের জন্য কোনো কোচই জোগাড় করতে পারছে না বিসিবি।
গর্ডন গ্রিনিজ ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ক্রিকেটার। তার খ্যাতিটা আন্তর্জাতিক। তবে তার নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের আলোকিত একটি অধ্যায়ও। তিনি টাইগারদের ভেতরে স্পৃহা জাগিয়ে দেয়া সাবেক কোচ। বলতে গেলে টাইগার ক্রিকেট ধাপে ধাপে যে পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে, তার ভিত্তি গড়ার নেপথ্য কারিগরদের অন্যতম তিনি। ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন যে জাগরণ, পরে টেস্ট মর্যাদা পাওয়া আর আধুনিক ক্রিকেটের পরাশক্তিগুলোর চোখে চোখ রেখে লড়াই করার জায়গায় পৌঁছানো, সেটির মূল বাঁকটা গ্রিনিজের আমলেই।
যদিও বিদায়টা সুখকর ছিল না গ্রিনিজের জন্য। পত্রপাঠ তাকে সাবেক বানিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। অভিযোগ ছিল ইংলিশ মিডিয়ায় বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা নিয়ে তাড়াহুড়া না করার কথা বলেছিলেন তিনি। তাতেই বিরাগভাজন হন বিসিবি কর্তাদের। ফিরে যেতে হয় কাজ অসমাপ্ত রেখে। তারপর অনেক পানি গড়িয়েছে। ক্ষুরধার আরও অনেক কোচ পেয়েছে বাংলাদেশ দল। সবশেষ জনের অম্ল-মধুর স্মৃতি টাটকাই, চণ্ডিকা হাথুরুসিংহে। তাকে অবশ্য বিদায় নিতে হয়নি, উল্টো পত্রপাঠ বিদায় জানিয়ে চুক্তি বাকি রেখেই কেটে পড়েছেন হাথুরু। শ্রীলঙ্কা দলের কোচিংয়ের চাকরিটা জুটিয়েই।
সেটি হাথুরু করতেই পারেন। পেশাদার বলে। কিন্তু তারপর থেকে কোচের পদটা খালি পড়ে আছে মাশরাফী-সাকিবদের। খেলা অবশ্য থেমে নেই। কাজ চলে অন্য কোচিং স্টাফদের আপদকালীন দায়িত্ব সঁপে। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশ দলের অবস্থানটা এখন কেবল সমীহজাগানিয়াই নয়, অনেক শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীরও। বোর্ড হিসেবে বিসিবিও মাথা উঁচু করে থাকা সংস্থা। এরপরও কোচ আনতে গলদঘর্ম অবস্থা। বলা হচ্ছে ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্টের যুগে অল্প সময়ে বেশি টাকা রোজগারের কাছে হেরে ভালো কোচ আনা যাচ্ছে না। অথচ আফগানিস্তান, এমনকি পাকিস্তানেরও বিদেশি কোচ আছে। প্রশ্নটা তাই থেকেই যায়।
হাথুরু থাকার সময়টাতেই একাধিকবার শিরোনাম হয়েছে কোচ-খেলোয়াড়, কোচ-বোর্ড সম্পর্কের ধরন। যা বহিঃর্বিশ্বে ভুল ধারণা ছড়িয়ে থাকতে পারে! নয়তো বাংলাদেশের মত একটা দলের কোচের লোভনীয় পদ থেকে কেনো মুখ ফিরিয়ে নেবেন আলোচনায় আসা সব কোচই! যেখানে কোচদের বেশি বেতন দেয়া বোর্ডের প্রথম দিকেই আছে বিসিবি।
গ্রিনিজ বহুদিন পর ফিরে যেমন সমাদর পেলেন। দায়িত্ব পালন করে যাওয়া অন্যরাও হয়ত আগামীতে লাল-সবুজের মাটিতে ফিরলে তেমন সমাদরই পাবেন। যার মাধ্যমে ভালো একটা বার্তা ছড়াবে নিশ্চয়। আগামীতে সেই বার্তাটা ছড়াক কেউ টাইগারদের কোচের দায়িত্বে থাকার সময়টাতেই। দাঁত থাকতেই গ্রিনিজদের মর্যাদা বুঝি আমরা।







