এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের বন্যা পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় জেলার চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরি ও রামু উপজেলার বিস্তীর্ণ জনপদ এখনও পানির নিচে। এতে প্রায় দেড় লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেন্টমার্টিনের সঙ্গে টেকনাফের নৌ যোগাযোগও বন্ধ রয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় আজ (১১ জুলাই) শনিবার পর্যন্ত জেলার ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬২ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ৬৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছেন ১৪ হাজার ৬১ জন। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য সরকারিভাবে ২০০ মেট্রিক টন চাল, ৪৫০ প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে চকরিয়া, পেকুয়া, মাতামুহুরি ও রামুর প্রায় ১০০টি গ্রামের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বিশেষ করে পেকুয়া উপজেলার মেহেরনামা এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে মাতামুহুরি নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। চকরিয়ার কাকারা, কৈয়ারবিল, লক্ষারচর, ফাঁসিয়াখালী, মাতামুহুরি উপজেলার পূর্ব বড় ভেওলা ও বিএমচর, পেকুয়া সদর, মেহেরনামা ও শীলখালী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে রয়েছে। অন্যদিকে রামুর গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া ও রাজারকুল ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামেও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, মাতামুহুরি ও বাকখালী নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সাগরে জোয়ারের প্রভাব থাকায় বন্যার পানি ধীরে নামছে, ফলে কয়েকদিন ধরেই নিম্নাঞ্চল প্লাবিত অবস্থায় রয়েছে।বন্যাকবলিত এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
চকরিয়ার কাকারা এলাকার বাসিন্দা ফরিদুল আলম জানান, তিন দিন ধরে তার বাড়ির অধিকাংশ অংশ পানির নিচে। রান্না বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আত্মীয়দের কাছ থেকে খাবার এনে চলতে হচ্ছে। পেকুয়ার সুরাজপুর-মানিকপুর এলাকার বাসিন্দা তহিদুল আনোয়ার বলেন, দুই দিন ধরে পরিবার নিয়ে বাড়িতে আটকা রয়েছেন। টিউবওয়েল ডুবে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকটও তীব্র হয়েছে।
বৈরী আবহাওয়ার কারণে গত এক সপ্তাহ ধরে সেন্টমার্টিনের সঙ্গে টেকনাফের নৌ যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এতে দ্বীপে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সংকট দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ক্ষতিগ্রস্ত ১০০টি পরিবারের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে।
এদিকে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল থাকায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আজও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, তবে রোববার থেকে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে।
টানা বর্ষণে পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বেড়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় মাইকিং করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত এক সপ্তাহে কক্সবাজারে পাহাড়ধসে রোহিঙ্গা নারী-শিশুসহ ২২ জন এবং পানিতে ডুবে এক কিশোরীসহ চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে।







