থমকে যাওয়া সভ্যতায় আশার আলো

Pfizer COVID-19 ভ্যাকসিনের সিরিঞ্জ ও বোতল, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও BioNTech এর লোগো সহ।. Channel i News – চ্যানেল আই নিউজ
শেষ পর্যন্ত এই শতকের সব কিছু থমকে দেয় মহামারি করোনার কার্যকরী ভ্যাকসিন আবিস্কৃত হলো এবং আগামী মাস থেকেই এটি নিতে পারবে সাধারণ মানুষ। বিশ্ববাসীর জন্য স্বস্তির সংবাদ। প্রায় এক বছর সারা বিশ্ব থমকে আছে করোনা মহামারির কারণে। দেশে দেশে মানুষের মৃত্যুর সঙ্গে যোগ হয়েছে অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাব। সারা বিশ্বজুড়ে অস্থির অশান্ত এক পরিবেশ বিরাজ করছে। মানুষ হাঁপিয়ে উঠছিল কবে মুক্তি মিলবে এই করোনা অভিশাপ থেকে। শেষতক বিশ্বের কয়েকটি নামীদামি ওষুধ কোম্পানির দশমাস নিরলস প্রচেষ্টায় আলোর মুখ দেখেছে ভ্যাকসিন। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে জানা গেছে ভ্যাকসিনের সর্বশেষ আপডেট।
চ্যানেল আই অনলাইন সংবাদে জানা গেছে: ডিসেম্বরের প্রথমার্ধেই করোনা ভ্যাকসিন দেয়ার কাজ শুরু করবে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। রোববার সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এমনটাই আশা প্রকাশ করেছেন। শুক্রবার নিজেদের তৈরি করোনা ভ্যাকসিন জরুরি ব্যবহারের অনুমোদন চেয়ে এফডিএ’র কাছে আবেদন করেছে মার্কিন সংস্থা ফাইজার ও তার জার্মান অংশীদার বায়োএনটেক।
মার্কিন বায়োটেক কোম্পানি মর্ডানার কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন পেতে গ্রাহকদের ভ্যাকসিন প্রতি ২ থেকে ৩ হাজার টাকা (২৫ থেকে ৩৭ মার্কিন ডলার) দিতে হবে। মূলত দাম কম-বেশি হবে অর্ডারের পরিমাণের ওপর। সে অনুযায়ী একেক দেশকে আলাদা মূল্য পরিশোধ করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী স্টিফেন ব্যানসেল। ইউরোপীয়ান কমিশন মর্ডানার সঙ্গে একটি চুক্তিতে যেতে চায়-যেন মর্ডানা তাদের লাখ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন গ্রাহকদের ২৫ ডলারের কম মূল্যে সরবরাহ করে। এছাড়া অপর এক মার্কিন কোম্পানী মর্ডানা তাদের তৈরি ভ্যাকসিন ৯৫ শতাংশ কার্যকর বলে দাবি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভ্যাকসিন প্রদান কর্মসূচির প্রধান মুনসেফ সালোয়ি সিএনএনকে বলেছেন: যুক্তরাষ্ট্রের ফুড এন্ড ড্রাগ এডমিনিস্ট্রেশান (এফডিএ) অনুমোদন দেয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভ্যাকসিন প্রদান কেন্দ্রগুলোতে ভ্যাকসিন পৌঁছানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সালোয়ি জানান, ডিসেম্বরেই প্রায় ২ কোটি লোককে ভ্যাকসিন দেয়া হবে। এর পর প্রতি মাসে ৩ কোটি লোককে পর্যায়ক্রমে ভ্যাকসিনের আওতায় আনা হবে।
অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন অনেক সুলভমূল্যে মিলবে। সেটা সংরক্ষণ করা সহজ হবে এবং বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে অন্য দুটি ভ্যাকসিন থেকে সহজে পৌঁছানো যাবে। তাই নিয়ন্ত্রকদের অনুমোদন পেলে করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণে তা তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। সেবাদানকারী সংস্থার বাসিন্দা ও কর্মীরা প্রথমে ভ্যাকসিন পাবেন। তারপরে পাবেন স্বাস্থ্যসেবাকর্মীরা এবং ৮৫ বছরের বেশি বয়সীরা। তারপর আস্তে আস্তে কমবয়সীদেরকে দেয়া হবে ভ্যাকসিন।
এই ভ্যাকসিন মানবজাতির কল্যাণে ব্যবহৃত হবে বলে আমরা আশা করি। একই সঙ্গে আমরা শংকা প্রকাশ করছি বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলো এই ভ্যাকসিন নিয়ে রাজনীতি করতে পারে। যাতে গরীব দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ মৃত্যু মুখে পতিত হতে পারে। জার্মান চ্যান্সেলর মার্কেলের যেসব দেশে সুরক্ষা ব্যবস্থা অপ্রতুল সেসব দেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে আমরা আশা করছি আগামী বছর থমকে যাওয়া মানব জাতি আবার তার গতি ফিরে পাবে। মানুষ প্রকৃত অর্থেই তার সৃজনশীলতার জন্য ইতিহাসে স্থায়ী আসনেই রাখবে বিজ্ঞান নির্ভর সভ্যতাকে। আমরা আরও মানবিক হয়ে উঠবো। এটাই ভ্যাকসিন সংবাদে শুভ প্রত্যাশা।




