রাজধানীর নাখালপাড়ার রুবি ভিলায় জঙ্গি অভিযানে নিহত নাফিস তিন মাস আগে আরেক নিহত জঙ্গি রবিনের শেরপুরের নকলার বাসায় গিয়েছিল।
রবিন মিয়ার বড় ভাই গোলাম মোস্তফার বরাত দিয়ে চ্যানেল আই অনলাইনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে র্যাব-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এমরানুল হাসান।
রোববার সন্ধ্যায় এমরানুল হাসান বলেন, রবিনের লাশ শনাক্ত করতে ঢাকায় আসে তার বড় ভাই গোলাম মোস্তফা। তখন তিনি ছবিতে নাফিসকে দেখে চিহ্নিত করেন।
‘তিনমাস আগে বন্ধু পরিচয়ে শেরপুরের বাড়িতে গিয়েছেল নাফিস। রবিনকে জিজ্ঞাস করায় বলেছিল নাফিস ওর বন্ধু।’-বলেন গোলাম মোস্তফা।’
র্যাবের কাছে ছোট ভাই রবিন সম্পর্কে বেশ কিছু তথ্য দিয়েছে তার ভাই মোস্তফা। র্যাব জানায়, বিগত পাঁচ বছর যাবত মুঠোফোন ব্যবহার করত রবিন। মুঠোফোনের ইন্টারনেটে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধকরণের বিভিন্ন সাইট ও জসিম রাহমানির বিভিন্ন লেখা সে পড়ত।
এক বছর বয়সে বাবা মারা যাওয়ার পর থেকেই বড় ভাই গোলাম মোস্তফার পরিবারেই বড় হতে থাকে রবিন। তিন ভাই এক বোনের মধ্যে রবিন সবার ছোট। ষষ্ঠ শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করে ভাইয়ের ব্যবসা দেখভাল করছিল রবিন। ২০১৩ সালে লেখাপড়া বাদ দেয় রবিন।
এমরানুল হাসান বলেন, ছয় মাস আগে গাজীপুরে বড় বোন হিমা খাতুনের বাসায় এসেছিল রবিন। ৭ জানুয়ারি নিখোঁজ হওয়ার আগে বড় ভাই গোলাম মোস্তফার চালের ব্যবসার ক্যাশ বাক্স থেকে পাঁচ হাজার টাকা চুরি করে। পরদিন নিখোঁজ মর্মে নকলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছিল রবিনের ভাই গোলাম মোস্তফা।
গত ১১ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) গভীর রাত থেকেই পশ্চিম নাখাল পাড়ার ১৩/১ রুবি ভিলা নামের ৬ তলা বাড়িটি ঘিরে ফেলে র্যাব সদস্যরা। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৬ তলা বাড়িটির পঞ্চম তলায় কয়েকজন জঙ্গি সদস্য রয়েছেন বলে তারা জানতে পারেন। এই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালাতে গেলে বাড়ির ভিতর থেকে গুলিবর্ষণ ও গ্রেনেড ছুড়ে মারা হয়। র্যাব সদস্যরা পাল্টা গুলি ছুড়লে তিনজন নিহত হয় । এসময় দুই র্যাব সদস্যও আহত হন।
জঙ্গি আস্তানায় অভিযান শেষে র্যাব জানায়, নিহত তিন জঙ্গি জেএমবির সদস্য। ঢাকা শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নাশকতা ও ধ্বংস করার পরিকল্পনা ছিলো তাদের। ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে এ মাসের চার তারিখে বাসা ভাড়া নিয়েছিলো তারা।










