মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করলে ইউরোপে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনা করছে ইরান।
বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের শাসকগোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ দুটি সূত্র জানিয়েছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইউরোপের বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করার সম্ভাবনা পর্যালোচনা করছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের কয়েকটি দেশে থাকা মার্কিন সামরিক সম্পদকে সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এর মধ্যে বুলগেরিয়ার একটি মার্কিন ব্যবহৃত বিমানঘাঁটি এবং সাইপ্রাসের একটি ব্রিটিশ বিমানঘাঁটির নাম উঠে এসেছে। বুলগেরিয়া গত মাসে মার্কিন জ্বালানি সরবরাহকারী বিমানকে দেশটির বেজমার বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল। আর সাইপ্রাসের একটি ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটিতে মার্চে ড্রোন হামলা হয়েছিল।
ইরানের এমন চিন্তা বাস্তবায়িত হলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ইউরোপের মাটিতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ইউরোপের ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) ইতোমধ্যে সতর্ক করে বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহৃত কোনো বিদেশি সামরিক ঘাঁটিকে বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান শুধু ইউরোপে থাকা সামরিক স্থাপনাই নয়, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতেও আঘাত হানার সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ সাবমেরিন যোগাযোগ ব্যবস্থা বা ফাইবার-অপটিক কেবলও সম্ভাব্য লক্ষ্য হতে পারে বলে সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে।
তবে ইরানের হাতে থাকা মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ইউরোপের দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুল হামলা চালানোর সক্ষমতা নিয়ে সামরিক বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ড্রোন বা ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে হামলার সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।
এদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর হুমকি দিয়েছেন। ফলে তেহরানের পাল্টা পদক্ষেপের এই সম্ভাবনা সংঘাতকে আরও বিস্তৃত ও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।










