ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে র্যাবের অভিযানে বৈধ আমদানি করা মদকে অবৈধ বলে জব্দ করার বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে তিন তারকা মানের হোটেল আরজে টাওয়ার রিসোর্টের পক্ষ থেকে উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন দাখিল করা হয়েছে।
সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত ওই বারে দুই দফায় দুটি মামলায় গ্রেপ্তারদের মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে দেখায় কিশোরগঞ্জের ভৈরব র্যাব। তবে র্যাবের দাবি তাদের অভিযান সঠিক।
পিটিশনের বিষয়ে হাইকোর্টের বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি খোন্দকার দিলীরুজ্জমান এক মাসের রুল ইস্যু করেন।
কেন এই অভিযান অবৈধ হবে না এই বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিচালক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, আইজিপি, ডিজি র্যাব, এডিজি র্যাব, জেলা প্রশাসক ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কমান্ডিং অফিসার র্যাব ও ভৈরব র্যাব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে এক মাসের মধ্যে রিটের জবাব দিতে বলা হয়। কিন্তু তিন মাস পেরিয়ে গেলেও রুলের জবাব দেয়নি কেউ।
আরজে টাওয়ার হোটেল ও রিসোর্ট সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন আইন ২০১৮ এর ধারা ১০ ও ১৩ মোতাবেক ২০১৯ সালের ১৩ মার্চ আর জে টাওয়ার হোটেল ও রিসোর্ট এর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নামে বার লাইসেন্স (১/২০১৮-১৯) অনুমোদন করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয়। এরপর ২০২০ থেকে আশুগঞ্জ গোলচত্তর এলাকায় অবস্থিত আর জে টারওয়ার হোটেল এন্ড রিসোর্ট এর নিচ তলায় বারের কার্যক্রম শুরু করেন তারা।
এছাড়াও ২০১৯ সালের ১৮ জুন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের বন্ডেড ওয়্যারহাউস থেকে আমদানি করা ১৮ টি ব্যান্ডের বিদেশি মদ ও মদ জাতীয় পানীয় কেনার অনুমোদন পায় আর জে টাওয়ার হোটেল ও রিসোর্ট।
কিন্ত কিছুদিন যেতে না যেতেই দুই দফা অভিযান চালায় কিশোরগঞ্জের ভৈরব র্যাব ক্যাম্প।
২০২০ সালের ২৯ অক্টোবর ও ২০২১ সালের ১৪ অক্টোবর দুই অভিযানে শতাধিক হুইস্কি, ভোডকা ও বিয়ার ক্যান জব্দ করা হয়। এছাড়াও ২২ জন স্টাফকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে প্রত্যেককেই মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে এজাহারে উল্লেখ করে আশুগঞ্জ থানায় নিয়মিত মামলা করে র্যাব।
এই অভিযানকে চ্যালেঞ্জ করে গত বছরের ২৯ নভেম্বর উচ্চ আদালতে আপিল করা হয়। অভিযান কেন অবৈধ হবে না জানতে চেয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত। কিন্তু প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও রুলের জবাব দেয়নি কেউ।
আরজে টাওয়ার হোটেল ও রিসোর্টের পরিচালক সরওয়ার শফিক জানান, লাইসেন্স করা বারে অভিযান চালিয়ে বৈধ আমদানি করা মদকে অবৈধভাবে জব্দ করে হয়রানি করা হচ্ছে। কারণ দুটি ঘটনাতেই র্যাবের অভিযানের সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা কিংবা জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট র্যাবের সাথে ছিল না। বৈধ মাল ফেরতের জন্য আমরা নিম্ন আদলতে আবেদন করেছি।
র্যাব জানায়, তাদের দিক থেকে ঠিক থেকেই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কেউ সংক্ষুব্ধ হলে উচ্চ আদালতে যেতে পারবেন।
বুধবার ৯ মার্চ এ বিষয়ে রিটকারির আইনজীবি মাজেদুল হাসান মাজেদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, হাইকোর্ট রুল দিয়েছেন। শুনানির জন্য লিস্টে রয়েছে। শুনানি হলে একটা ফলাফল আসবে।
এর আগে গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংজ্ঞায় মদকে অন্তর্ভুক্ত করা কেন বেআইনি হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
মদকে (পানযোগ্য অ্যালকোহল) মাদকদ্রব্যের বাইরে রাখার নির্দেশনা চেয়ে রিট করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের আরজে টাওয়ার হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ফারুক।
আদালতের আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আহসানুল করিম। এই আইনজীবী বলেন, ‘পানযোগ্য অ্যালকোহল এবং নিষিদ্ধ মাদককে একই সংজ্ঞায় সংজ্ঞায়িত করায় অ্যালকোহল যারা বিক্রি করে, আমদানি করে বা রপ্তাানি করেন, তাদের জন্য সমস্যা তৈরি হয়েছে। কারণ, পানযোগ্য অ্যালকোহল তখন মাদক দ্রব্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যার ফলে তাদের (পানযোগ্য অ্যালকোহল) ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই মাদকদ্রব্যের আইনের সংজ্ঞায় ”মদকে” অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে রিট করা হয়। আদালত শুনানি নিয়ে রুল জারি করেছেন।’










