একুশ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলার ১৯ আসামি এখনো পলাতক। তাদের ফিরিয়ে আনতে আইনগত কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে বলে জানিয়েছে সরকার।
বিএনপি-জামায়াত শাসনামলে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী শান্তি সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দু’টি মামলায় আদালতে দাখিল করা চার্জশিটে মোট ৫২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
বর্বরোচিত ও ভয়াবহ ওই গ্রেনেড হামলার ১৩ বছর হতে যাচ্ছে সোমবার। বর্তমানে এ মামলায় আসামি পক্ষের ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। আসামি পক্ষের আরো ৮ থেকে ১০ জনের সাক্ষী নেয়া হবে। পরে এ মামলায় উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ঘোষণা করা হবে রায়।
মামলায় ৪৯১ জনের মধ্যে ২২৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে।
হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দু’টি মামলার চার্জশিটে মোট ৫২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। পলাতক ১৯ আসামির মধ্যে, তারেক রহমান লন্ডনে, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন কায়কোবাদ সৌদি আরবে, হানিফ এন্টারপ্রাইজের মালিক হানিফ কলকাতায়, ব্রিগেডিয়রি জেনারেল (অব.) এ টি এম আমিন আমেরিকায়, লে. কর্নেল (অব.) সাইফুল ইসলাম জোয়ারদার কানাডায়, বাবু ওরফে রাতুল বাবু ভারতে, আনিসুল মোর্সালীন এবং তার ভাই মুহিবুল মুক্তাকীন ভারতের কারাগারে এবং মাওলানা তাজুল ইসলাম দক্ষিণ আফ্রিকায় রয়েছে।
জঙ্গি নেতা শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, মাওলানা আবু বকর, ইকবাল, খলিলুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে বদর, মাওলানা লিটন ওরফে জোবায়ের ওরফে দেলোয়ার দেশের বাইরে অবস্থান করছেন বলে জানা যায়। তবে অপর অভিযুক্ত পলাতক হারিস চৌধুরীর অবস্থান জানা যায়নি।
পলাতকদের মধ্যে মাওলানা তাজউদ্দিন ও বাবু বিএনপি সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই। পিন্টুও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় অভিযুক্ত।
অভিযুক্ত ৫২ জনের মধ্যে বিএনপি আমলের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু কারাগারে রয়েছেন। মামলায় পুলিশের সাবেক আইজি আশরাফুল হুদা, শহুদুল হক ও খোদাবক্স চৌধুরী এবং সাবেক তিন তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি’র সাবেক এসপি রুহুল আমিন, সিআইডি’র সাবেক এএসপি আতিকুর রহমান ও আবদুর রশিদ জামিনে রয়েছেন।
এই মামলায় সে সময়ের মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ মোট ২৪ জন নেতাকর্মী নিহত এবং অপর ৫০০ জন আহত হন।
বিএনপি অামলে ‘জজ মিয়া’ নাটকের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২১ আগস্টের ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের দু’টি মামলায় ২০০৮ সালের ১১ জুলাই চার্জশিট দাখিল করা হয়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু এবং ২১ হুজি নেতাকর্মীসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে দাখিল করা হয় অভিযোগপত্র।
পরে অধিকতর তদন্তের পর ২০১২ সালের ৩ জুলাই অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ৩০ জনকে অভিযুক্ত করে দু’টি সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করে। দু’টি মামলায় মোট অভিযুক্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২।









