বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিজেপি নেতা অটল বিহারি বাজপেয়ির পক্ষে স্বাধীনতা সম্মাননা স্মারক গ্রহণ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, তিনি বাজপেয়ির স্বপ্ন পূরণ করতে দু’ দেশের সম্পর্ককে নতুন এক মাত্রা দিতে চান।
বঙ্গভবনের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে মোদি বলেন, তিনি আগে কখনো কোথাও যে কথা বলেন নি সেটা আজ জানাবেন। বিশিষ্টজনদের তুমুল করতালির মধ্যে তিনি জানান, একাত্তরে বাজপেয়ি যখন ভারতের জনগণকে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সত্যাগ্রহ করেছিলেন, তখন মোদি নিজেও গ্রাম থেকে ওই আন্দোলনের সমর্থনে দিল্লিতে এসেছিলেন।
কোটি কোটি ভারতীয়র মতো মোদিও স্বাধীন বাংলাদেশকে সমর্থন জানিয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সফরে তিনি নতুন প্রতিশ্রুতি এবং নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে চান।
‘বাজপেয়ি বলেছিলেন, বাংলাদেশের মানুষের সঙ্গে ভারতের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যুদ্ধ করেছে, তাদের সবার রক্ত একই ধারায় বয়ে নতুন ইতিহাস তৈরি হয়েছে। ফলে এই দুই দেশের সম্পর্ককে কোনো চাপ বা কূটনীতির কূটচালই নষ্ট করতে পারবে না,’ বাজপেয়ির অবস্থান ব্যাখ্যা করে দিল্লীর ক্ষমতায় তার উত্তরসূরি মোদি বলেন, বাজপেয়ির দর্শনকে তিনি নতুন আঙ্গিক দিতে চান।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে বাজপেয়ির অবদান উল্লেখ করে মোদি বলেন, আজ বাজপেয়ি নিজে এসে এই পুরস্কার গ্রহণ করলে তাৎপর্য আরো বাড়তো। কিন্তু তার স্বাস্থ্য এখানে আসার মতো না থাকায় তিনি আসতে পারেন নি।
তবে বাজপেয়ির হয়ে সম্মাননা স্মারক নিতে পেরে খুবই সম্মানিত তিনি। মোদি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস সাক্ষী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা (রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ) এবং বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু কন্যার উপস্থিতিতে বাজপেয়ির পক্ষ থেকে এই পুরস্কার গ্রহণ করতে পেরেছেন বলে তিনি গর্বিত।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় তখন এর সমর্থনে বাজপেয়ি ভারতের লোকসভায় সংহতি প্রকাশ করেন এবং এ বিষয়ে একটি প্রস্তাবও উত্থাপন করেন। সেখানে লেখা ছিলো, বাংলাদেশের জন্মকে কেউ রোধ করতে পারবে না।






