বিশ্বকাপের ঠিক আগেই অবসর ভেঙে সাউথ আফ্রিকা দলে ফিরতে চেয়েছিলেন এবি ডি ভিলিয়ার্স। তার সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে সাউথ আফ্রিকা ক্রিকেট বোর্ড (সিএসএ)।
বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণার ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে টিম ম্যানেজমেন্টের কাছে ফেরার আবেদন করেছিলেন এবি। দলের অধিনায়ক ফ্যাফ ডু প্লেসিস, কোচ ওটিস গিবসন এবং নির্বাচক প্রধান লিন্ডা জোন্ডির কাছে এই আবেদন করেন। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই প্রত্যাখ্যান হয়ে যায় সেই আবেদন।
প্রধান নির্বাচক লিন্ডা জোন্ডি বলছেন, এবি ডির আবেদন খারিজ করাতে কোনো অনুশোচনা নেই তাদের।
বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচেই হেরেছে সাউথ আফ্রিকা। মিডলঅর্ডারে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা বারবার মনে করাচ্ছে ডি ভিলিয়ার্সের কথা। এই অবস্থাতেই আবার এবির ফেরার আবেদন প্রত্যাখ্যানের খবর আসে। কিন্তু এনিয়ে বোর্ডের কোনো আক্ষেপ নেই বলেই জানাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সিএসএ’র প্রধান নির্বাচক জোন্ডি বলেন, ‘এক বছর আগে অবসর নিয়ে তিনি (এবি) নিজেই নিজেকে নির্বাচনের বিবেচনার বাইরে নিয়ে গেছেন। আমাদের স্কোয়াড চূড়ান্ত এবং নিশ্চিত হয়ে যাওয়ার একদিন আগে যখন আমার কাছে খবরটা এল, তখন কিছুই করার ছিল না।’
এরপর জোন্ডি বলেন, ‘এবি নিঃসন্দেহে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের মধ্যে অন্যতম, তবে সর্বোপরি, আমাদের নৈতিকতা এবং নীতিগুলোর প্রতি সত্য থাকতে হবে। এই সিদ্ধান্তে আমাদের কোনো দুঃখ বা অনুশোচনা নেই।’
সিএসএ মনে করে, ডি ভিলিয়ার্সের পক্ষ থেকে এটা (বিশ্বকাপ) এখন সুযোগ-সুবিধাজনক বলে অনুভূত হয়েছে, যিনি এই ইভেন্টের আগেই সাউথ আফ্রিকার সঙ্গ ছেড়ে চলে গেছেন। কিন্তু শেষমুহূর্তে আবার অংশ হতে চেয়েছিলেন।
জোন্ডি বলেন, ‘২০১৮ সালে অবসর না নেয়ার জন্য এবি ডি ভিলিয়ার্সের সঙ্গে আমি জোরাজুরি করেছিলাম। যদিও তখন একটি ধারণা ছিল যে, তিনি কোন ম্যাচগুলো খেলবেন বা খেলবেন না, এ নিয়ে একটা মতপার্থক্য আছে। কিন্তু কথাটা সত্য না। বরং আমি তাকে বিশ্বকাপে তরতাজা এবং ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য মৌসুম ধরে ধরে পরিকল্পনা এবং পর্যবেক্ষণ করার বিকল্প বাতলে দিয়েছিলাম।’
ক্ষুব্ধ প্রধান নির্বাচকের আরও সংযোজন, ‘আমরা এটা পরিষ্কার করছি যে, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি সেটা না করে, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে সই করেন। তিনি আমাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেন, অবসর নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি সুখে আছেন।’
জোন্ডি স্বীকার করছেন, ডি ভিলিয়ার্সের অন্তর্ভুক্তির অনুরোধে তারা অবাক হয়েছেন এবং দলটির অন্যান্য খেলোয়াড়দেরও বিষয়টি একইরকম অবাক করেছে। বিশেষ করে যারা বিশ্বকাপের অংশ হিসেবে দলের সাথে থাকার জন্য কাজ করেছে।
জোন্ডি কথায়, ‘অধিনায়ক ফ্যাফ ডু প্লেসিস এবং কোচ ওটিস গিবসন ১৮ এপ্রিল আমাদের বিশ্বকাপ দল ঘোষণার দিনটিতে যখন এবির অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ইচ্ছার কথা সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করেন, তখন সেটা আমাদের সকলের জন্য একটি ধাক্কা ছিল।’
‘এবি অবসরে যাওয়ায় একটা বড় শূন্যস্থান দেখা দেয়। আমরা সেই ফাঁকা পূরণ করতে একটা বছর ধরে ফ্র্যাঞ্চাইজি স্তরে খেলোয়াড় খুঁজেছি। আমাদের খেলোয়াড়দের কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে, যারা তখন তাদের হাত বাড়িয়ে ছিল এবং তারাই বিশ্বকাপে যাওয়ার সুযোগ দেয়ার যোগ্য ছিল।’
গত বছরের মে’তে সবধরনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেন ডি ভিলিয়ার্স। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি স্তরে বিশ্বজুড়ে টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট খেলে যাচ্ছেন। ২০১৫ বিশ্বকাপে প্রোটিয়াদের অধিনায়ক ছিলেন এবি, ওই আসরের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নেয় তার দল।







