ধর্মশালা, হিমাচল প্রদেশ (ভারত): বৃহস্পতিবার দিনটি ছিল ধর্মশালার জন্যে কালো একটি দিন। শুক্রবার দিনটি কি বাংলাদেশের ভালো যাবে? তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছু ঘণ্টা! কারণ টি-২০ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাইং’এ শুক্রবার বাংলাদেশের সামনে বাধার নাম আয়ারল্যান্ড! রাতের হিমাচল প্রদেশের ঠাণ্ডা আবহাওয়ার সঙ্গে শুক্রবার বৃষ্টির সম্ভাবনাও আছে ধর্মশালায়! স্থানীয়রা অবশ্য এর নামটি বলে ধরমশালা।
এখন একটু খুলে বলি এই অঞ্চলটির কালো দিন কাহিনী। ১৯৫৯ সালের এ দিনটায় তিব্বতীয় ভিন্ন মতাবলম্বী আধ্যাত্মিক নেতা দালাইলামা চীন থেকে বিতাড়িত হয়ে এসে আশ্রয় নেন এই হিমাচল প্রদেশে। দালাইলামার অনুসারীরা দিনটিকে কালো দিবস হিসেবে পালন করেন। কালো দিনটির স্মরণে তার অনুসারীরা বৃহস্পতিবার ধর্মশালায় লম্বা মিছিল করেছেন। তাদের মিছিল দেখে একটি কথা মনে পড়েছে!
দালাইলামাসহ তার অনুসারীদের ভারতে আশ্রয় গ্রহণেরও ১২ বছর পর মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করার প্রত্যয়ে আমরা বাঙ্গালিরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলাম। ৯ মাসের যুদ্ধেই আমরা দেশ স্বাধীন করে ফেলেছি। দালাইলামার তিব্বতীয়রা ৫৭ বছরেও তাদের স্বাধীনতার কোন কূলকিনারা করতে পারেনি! কবে পারবে তারা তা জানে না।
ধর্মশালায় আসার আগে থেকে মনে মনে একটা প্ল্যান ছিল দালাইলামার একটা ইন্টারভ্যু করার। কিন্তু এখানে আসার পর সে আশার গুঁড়ে বালি পড়েছে! দালাইলামা এখন অবস্থান করছেন আমেরিকায়। তার সম্পর্কে ছোট্ট আরেকটা তথ্য দেই। ধর্মশালার যত দোকান-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে যাবেন প্রায় সবখানেই আপনি দেখবেন যত্মে বাঁধানো দালাইলামার ছবি!
মনে প্রশ্ন উঠতে পারে এদের সবাই কি তাহলে দালাইলামার অনুসারী? এর উত্তর, না। তাহলে ঘরে ঘরে তার এত ছবি কেনো? কম্পিউটার মেরামতকারী যুবক দিলীপ সিনহা কোন রাখঢাক ছাড়াই সত্য কথাটি খুলে বললেন।
আমাকে তিনি বলেন, ভাইরে এখানে আমাদের খদ্দেরদের ষাটভাগ তিব্বতিয়ান তথা দালাইলামার অনুসারী। ব্যবসার লক্ষী খদ্দেরদের খুশি রাখতে তাদের নেতার ছবি না রেখে কি উপায় আছে? কালো দিবসের দ্বিতীয় পর্বটি হলো গিয়ে ধর্মশালায় ভণ্ডুল হয়ে যাওয়া ভারত পাকিস্তান ম্যাচ! এখানকার ব্যবসায়ীরা ম্যাচটিকে কেন্দ্র করে অনেক আশার সলতে জ্বালিয়ে বসেছিলেন।
ধর্মশালা-দিল্লীর বিলাসবহুল বাসের টিকেটের দাম ৯শ থেকে দুই হাজার রুপিতে চড়েছিল! সেই দুই হাজার রুপি ধপাস করেই বৃহস্পতিবার আবার ৯শ রুপিতে নেমে এসেছে! এমন আরও অনেক ব্যবসায়িক সম্ভাবনার গুঁড়ে বালি পড়েছে! কংগ্রেস-বিজেপির ‘কাইজ্যায়’ নিরাপত্তার কথা বলে ম্যাচটি ধর্মশালা থেকে স্থানান্তরিত হয়েছে কলকাতায়। কিন্তু এই ম্যাচ বিরোধীরা এখানেও দমে যাননি।
বৃহস্পতিবার তারা হিমাচল প্রদেশ ক্রিকেট ফ্যান এলায়েন্সের ব্যানারে মিছিল করে ম্যাচটি কলকাতায় আয়োজনেরও বিরোধিতার কথা জানিয়েছেন। তাদের প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল ‘শেইম টু দ্য এনিমিজ অফ গেম, নাউ গো টু কলকাতা টু স্টপ দ্য গেম’।
কিন্তু সবশেষ জানা গেলো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি পাকিস্তান দলকে শতভাগ নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিয়েছেন। মমতার বার্তা কলকাতার ক্রিকেট দাদা সৌরভ গাঙ্গুলির মাধ্যমে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে। শুক্রবার পাকিস্তান দলের কলকাতা আসার কথা। এখন বাংলাদেশের আশা এতো কালোর মাঝে তাদের দিনটি হবে সাদায় সাফল্যে উজ্জ্বল।
ওমানের কাছে হেরে যে আয়ারল্যান্ড প্রতিযোগিতা থেকে ছিটকে পড়ার শংকায় পড়েছে শুক্রবার তারা জয়ের জন্যে মরিয়া চেষ্টা করবে। প্রথম ম্যাচে ডাচদের হারিয়ে বাংলাদেশ ঝলমলে অবস্থায় আছে। কিন্তু বাংলাদেশ শুক্রবার খেলবে বৈরী আবহাওয়া মোকাবেলা করে!
খেলাটি হবে রাতের বেলা। হিমালয়ের হিম প্রবাহের সঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে পঞ্চাশ ভাগ! গরমের দেশ ওমানের খেলোয়াড়রা যদি ওই কন্ডিশনে খেলে জিততে পারে বাংলাদেশও পারবে। পারতে হবেই। এখানে কোন না’র স্থান নেই।







