আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্বভাবতই তাই ফার্স্ট লেডি হচ্ছেন মেলানিয়া ট্রাম্প। কিন্তু ফার্স্ট লেডি হিসেবে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার সময় মেলানিয়ার যেসব দ্বায়িত্ব পালন করার কথা ছিলো তার বেশিরভাগই পালন করতে দেখা গেছে ইভানকাকে।
বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সি গ্রহণ করার পর ট্রাম্পের মেয়ে ইভানকাকেও নানান রাজনৈতিক দ্বায়িত্ব পালন করতে হবে। কেননা একজন ফার্স্টলেডির বেশ কিছু ছায়া আছে তার মধ্যে। ফার্স্টলেডির যোগ্য কন্যা বলা যেতে পারে।

ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্যাম্পেইনের পুরোটা সময় জুড়ে ৩৫ বছর বয়সী ইভানকা ট্রাম্পের পাশেই ছিলেন, র্যালিতে কথা বলেছেন এবং ট্রাম্পের জয়ের জন্য চেষ্টা করেছেন সর্বাত্মকভাবে। এমনকি ট্রাম্পের ক্যাম্পেইনের সময় গর্ভকালীন অবস্থাতেও মাইলের পর মাইল ভ্রমণ করে প্রচারণা চালিয়েছেন ইভানকা।
ট্রাম্পের নারী বিষয়ক বিরুপ মন্তব্য নিয়ে ক্ষিপ্ত ছিলেন অনেক অনেক নারী ভোটার। একজন সফল ব্যবসায়ী নারী ও মা হিসেবে তিনি সেই সব নারী ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিপক্ষে চলে যাওয়া সেই সব নারী ভোটারদের সামলান ইভাংকা।
জুলাইতে এক বক্তব্যে তিনি বলেন, সন্তানসহ যেসব নারী উন্নতি করে সেটা নতুন কিছু হওয়ার কথা নয়, বরং এমনটাই সবার ক্ষেত্রে হওয়া উচিত। রাজনীতিবিদরা আয়ের সমতার কথা বলেন, আমার বাবা সেটা চালু করেছেন তার কোম্পানিতে।

ইভানকার ভাই ডোনাল্ড জুনিয়র তাকে বাবার সবচেয়ে প্রিয় সন্তান হিসেবেই উল্লেখ করেন।
ডোনাল্ড জুনিয়র বলেন- সে এখনো বাবার ছোট্ট মেয়ে। আলাদা থাকলেও দিনে অন্তত পাঁচবার তাদের মধ্যে কথা হয়ই। কিছু কিছু গণমাধ্যমতো ইভানকাকে ‘প্রক্সি ওয়াইফ’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। কারণ রিপাবলিকান নমিনেশন পাওয়ার পর ট্রাম্পকে সবার কাছে পরিচিত করেন ইভানকা- মেলানিয়া নয়। ট্রাম্পও নিজের ম্যাসেজ ছড়িয়ে দিতে মেয়েকেই বেশি পছন্দ করতেন স্ত্রীর চেয়ে।
সোশ্যাল মিডিয়াতেও বেশ সরব ইভানকা। সেখানে তার ফলোয়ার ১.৫ মিলিয়ন আর মেলানিয়ার মাত্র ১২,৫০০। প্রচারণার সময়গুলোতে সেখানে নিজের পরিবারের ছবি ও সুন্দর সুন্দর কোটেশন শেয়ার করেন ইভাংকা।
নিজস্ব ক্যারিয়ারের ক্ষেত্রেও বেশ সফল ট্রাম্পকন্যা। ভাই এরিক ও ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রকে ট্রাম্প অর্গানাইজেশন এবং ট্রাম্প হোটেল চালাতে সহায়তা করেন তিনি। পারিবারিক ব্যবসাতেও প্রধানের মতো দ্বায়িত্ব পালন করেন যেটা ট্রাম্পের আর কোনো স্ত্রী করেন নি।
কোম্পানির বড় বড় বেশ কিছু চুক্তিও নিয়ন্ত্রণ করেছেন ইভাংকা। নিজের একটি ফ্যাশন ব্র্যান্ডও চালান তিনি। যেটার লক্ষ্যই হলো কর্মজীবী নারীদের নিয়ে কাজ করা।

এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো, প্রেসিডেন্ট হলে তিনি তার কেবিনেটে কোন নারীকে রাখবেন।
ট্রাম্প জবাব দিয়েছিলেন, অনেকের মধ্যে থেকে একজনকে বেছে নিতে হবে। সবাই নিশ্চয়ই বলবে ইভানকাকে রাখুন। ইভানকার কোনো রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা নেই। যেমনটা নেই ট্রাম্পেরও। তবে হোয়াইট হাউজের ইনার সার্কেলে ইভাংকা থাকবেন বলেই মনে করছেন অনেকে।
তবে ভবিষ্যতে কখনো ইভানকা প্রেসিডেন্ট পদের জন্য লড়বে কিনা জানতে চাইলে ইভানকা বলেন, তেমনটা করবো বলে মনে করি না। কিন্তু ‘কখনোই না’ এমন শব্দও আমি বলতে চাই না।









