অপচয় রোধ করার জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়া, নো বলে ফ্রি হিট সংযোজনসহ টেস্ট ক্রিকেটের জন্য একাধিক নতুন নিয়ম সুপারিশ করেছে মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি)।
এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে দর্শকদের মাঝে সাদা পোশাকের ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ বাড়বে বলে আশা এমসিসির বিশ্ব ক্রিকেট কমিটির। মঙ্গলবার নিজেদের ওয়েবসাইটে সুপারিশগুলো প্রকাশ করে এমসিসি।
গত সপ্তাহে ভারতের বেঙ্গালুরুতে আলোচনায় বসা ওই কমিটিতে সভাপতিত্ব করেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইক গ্যাটিং। উপস্থিত ছিলেন ভারতের সাবেক অধিনায়ক সৌরভ গাঙ্গুলিও। বাংলাদেশের টেস্ট ও টি-টুয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসানও আছেন এমসিসির এই কমিটিতে।
টেস্ট ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা কমার পেছনে স্লো ওভার রেটকে সবচেয়ে বেশি দায় দেয়া হয়েছে সভায়। সমস্যা রোধে বোলার, ব্যাটসম্যান, ফিল্ডারদের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমার সুপারিশ এসেছে।
‘যখন জিজ্ঞেস করা হয়েছিল টেস্ট ক্রিকেটের জন্য সবচেয়ে বড় বাঁধা কী, জবাবে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং সাউথ আফ্রিকার ২৫ শতাংশ ভক্ত সময়কেই সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে দায় দিয়েছেন।’ এমসিসি তাদের ওয়েবসাইটে এতথ্য প্রকাশ করেছে।
‘এসব দেশগুলোতে বেশিরভাগ সময় স্পিনাররা বল করার সুযোগ পান না। কখনো কখনো ৯০ ওভারে একবারও না। পেসারদের কারণে নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে ৩০ মিনিটও পার হয়ে যায়। অনেক সময় ডিসিশন রিভিউ সিস্টেমের (ডিআরএস) কারণেও সময় অপচয় হয়। কমিটি ভেবেছে যে, টেস্ট ক্রিকেটের গতি বাড়াতে কিছু সিদ্ধান্ত বেশ কার্যকর হবে।’ বলছে এমসিসি।
এমসিসির সভায় যেসব সুপারিশ করা হয়েছে
>ওভার শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্কোরবোর্ডে সময় ভেসে উঠবে। ৪৫ সেকেন্ডের মধ্যে নতুন ওভার শুরু করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। নতুন ব্যাটসম্যান হলে ৬০ সেকেন্ড আর বোলার পরিবর্তন হলে ৮০ সেকেন্ড সময় নেয়া যেতে পারে।
সেই সময় পেরিয়ে গেলে সতর্ক করা হবে খেলোয়াড়দের। প্রয়োজনে পাঁচ রান জরিমানা করা যেতে পারে।
>একইভাবে উইকেট পতনের পরও সময়সীমা বেঁধে দেয়া হবে। ব্যাটসম্যানদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে উইকেটে আসতে হবে। তবে মাঠ থেকে ড্রেসিংরুমের দূরত্ব বেশি হলে সময় ক্ষেত্র বিশেষে বাড়ানো যেতে পারে। পানি পান বিরতির পর সময়সীমা পেরোনোর আগেই ফিল্ডার ও ব্যাটসম্যানদের নিজ নিজ জায়গায় থাকতে হবে।
>ডিআরএস সিস্টেমে বল ব্যাটে লেগেছিল কিনা সেটা দেখতে গিয়েই অনেকটা সময় বেরিয়ে যায়। এলবিডব্লিউয়ের ক্ষেত্রে তাই আগেই নটআউট কিনা সেটা দেখে নেয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
ওয়ানডে বিশ্বকাপের পরপরই শুরু হবে ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। সেই প্রতিযোগিতায় নো-বলে ফ্রি হিটের পরামর্শ দিয়েছে এমসিসি। আর খেলায় সাম্যতা আনতে একটি নির্দিষ্ট ডিউক বলের সুপারিশ রাখা হয়েছে সভায়। কারণ বিভিন্ন দেশ তাদের সুবিধামত বল ব্যবহার করে। এতে স্বাগতিক দেশ অন্যায় সুবিধা পায় বলেও আলোচনা সামনে এনেছে এমসিসি।







