ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পরও র্যাঙ্কিয়ে’র এক নম্বর সাউথ আফ্রিকার সঙ্গে প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের লড়াই এতটা জমবে, ভাবা যায়নি। চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম তিনদিন টাইগারদের পারফরম্যান্স জাগিয়ে দিয়েছিলো গোটা বাংলাদেশ’কে। সহকর্মীদের কেউ কেউ স্মরনীয় সাফল্যের স্বাক্ষী হতে হাজির হচ্ছিলেন চট্টগ্রামে, অনেকের প্রস্তুতি ছিলো অন্তত: শেষ দু’দিনের ম্যাচ কভার করার।
চতুর্থ দিনের ম্যাচ পন্ড হওয়ার পর হতাশা ছড়িয়েছে সবখানে, এমনকি স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সে। চট্টগ্রামগামী বিমান ধরার প্রস্তুতি ছিলো বিসিবি’র কর্মকর্তাদেরও। সবার স্বপ্ন,আশায় আক্ষরিক অর্থেই পানি ঢেলেছে চট্টগ্রামের আকাশে শ্রাবনের লাগাতার বৃষ্টি। ম্যাচের যা পরিস্থিতি তাতে ড্র একমাত্র পরিণতি।
আগামী কয়েকদিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাষ আরো শংকার। টেস্টের শেষদিন তো বটেই, ৩০ জুলাই ঢাকার দ্বিতীয় ম্যাচেও বাগড়া দিতে পারে বৃষ্টি। শুধু সাউথ আফ্রিকার সঙ্গে নয়, গত মাসে ভারতের সঙ্গে একমাত্র টেস্টটিও ধুঁয়ে নিয়েছে বৃষ্টি।
ফতুল্লার সেই ম্যাচে সাড়ে চারশো ওভার হওয়ার কথা, দ্বিতীয় দিনের পুরোটাই ভেসে যায় বৃষ্টিতে, খেলা মাঠে গড়িয়েছে মাত্র ১৮৫ ওভার। দল পুরোপুরি কোণঠাসা ছিলো বলে সেই ম্যাচ নিয়ে আক্ষেপের বদলে টাইগার ভক্তদের ছিলো স্বস্তি। এবার অস্বস্তি, হতাশা। কারণ তিনদিনে ম্যাচের যা অগ্রগতি তাতে, দুরন্ত ফর্মে থাকা ‘টিম-টাইগার্স’র পক্ষে ক্রিকেট দুনিয়াকে চমকে দেয়ার মতো ঘটনা ঘটানো অসম্ভব ছিলো না।
এর আগে খেলা ৯১ টেস্টের মধ্যে বাংলাদেশ যে ১৩টি ম্যাচ ড্র করেছে, তার ছয়টি ম্যাচে বৃষ্টির উপদ্রপ আর্শীবাদ হয়ে এসেছিলো। তবে ২০১১ সালে এই জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে অধিনায়ক হিসাবে মুশফিকের অভিষেক টেস্টে বৃস্টি বাঁচিয়ে দেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। বৃষ্টিতে সেই টেস্টের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনের খেলা ভেসে না গেলে প্রথম ইনিংসে ১০৬ রানের লিড নেয়া বাংলাদেশের টেস্ট জয়ের পরিসংখ্যানটা আরেকটু সমৃদ্ধ হতো।
সাউথ আফ্রিকার মতো দলকে বাগে পেয়েও বৃষ্টির বাধায় বশে আনতে না পারার হতাশা থাকলেও তার প্রকাশ নেই ২০১৫’র মুশফিকুর রহিমের দলের। বরং কট্টর পেশাদারিত্ব রপ্ত করার সাধনায় ব্যস্ত ‘টিম-বাংলাদেশ’ চট্টগ্রাম টেস্টের পাশপাশি ঢাকায় দ্বিতীয় টেস্টের জন্যও প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে।
টানা বৃষ্টি দেখে চতুর্থ দিন হোটেল ছেড়ে স্টেডিয়ামমুখো হয়নি সাউথ আফ্রিকানরা। সেই পথে হাঁটেনি বাংলাদেশ দল। দুপুরের আগেই স্টেডিয়ামে পৌঁছে যায় মুশফিক, সাকিব, তামিম সহ পুরো দল। স্টেডিয়াম লাগোয়া এক মসজিদে দলবেঁধে জুমার নামাজ আদায় করেই সরাসরি অনুশীলনে। ইনডোর কমপ্লেক্সে ক্লোজ ডোর নেটে টাইগার ব্যাটসম্যানদের সেরেছেন বাউন্সার বা শর্ট বলের বিরুদ্ধে ব্যাটিং’র অনুশীলন। কারণটা পরিস্কার, চট্টগ্রামে পিছিয়ে পড়লেও ঢাকা টেস্টে টাইগারদের কঠিণ চ্যালেঞ্জ জানাতে তৈরী সাউথ আফ্রিকান পেস-ব্যাটারি। স্টেইন-মরকেল’দের গতিময় স্যুইং ও বিধ্বংসী বাউন্সার অপেক্ষা করছে তাদের জন্য। তাই হাপিত্যেশ বাদ দিয়ে কিংবা হোটেলের জানালায় অলস চোখে শ্রাবনের বৃষ্টির সৌন্দর্য উপভোগ না করে প্রস্তুতি আগামীর জন্য।







