ভালো বেতন এবং উন্নত পরিবেশে চাকরির কথা বলে নেত্রকোনার বাসিন্দা সাদ্দাম হোসেনকে (২৩) লিবিয়ায় নিয়ে যায় একটি চক্র। তারপর পাসপোর্টসহ সকল বৈধ কাগজপত্র হাতিয়ে নেয়ে একটি ক্যাম্পে সাদ্দামকে আটকে রাখে সে দেশে অবস্থানরত জালিয়াতি চক্রের সদস্যরা।
আশ্বাস অনুযায়ী কাজ দেওয়ার পরিবর্তে চলতে থাকে তার উপর অমানুষিক নির্যাতন। আর সেই নির্যাতনের ছবি, ভিডিও দেশে অবস্থানরত স্বজনদের কাছে পাঠিয়ে অর্থ আদায় করতে থাকে চক্রটি।
এভাবে কয়েক দফায় সাড়ে নয় লাখ টাকার বিনিময়ে সেই চক্রের হাত থেকে ছাড়া পান সাদ্দাম।
জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পাওয়া সাদ্দাম বলেন, গত বছরের ডিসেম্বরে লিবিয়া যাওয়ার পরই সেখানকার বিমানবন্দর থেকে কয়েকজন আমাকে রিসিভ করে একটি ক্যাম্পে নিয়ে যায়। তারপরই টানা তিনমাস একই স্থানে রেখে মারধর করে অর্থ আদায় করে। টাকার জন্য আমাকে সাড়ে তিনমাস সূর্যের আলোও দেখায়নি ওরা।
পরে তারা আবার এক পাকিস্তানীর কাছে আমাকে বিক্রি করে দেয়। সেখানেও আবার নির্যাতন করে অর্থ দাবি করতে থাকে। আমাকে তিন-চারবার বিক্রি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সেখানে বাঙ্গালী-পাকিস্তানী-লিবিয়ানরা মিলে এই কার্যক্রম চালাচ্ছে। সেখানে আমার মত আরো ১৩-১৪ জন বাঙ্গালীকে জিম্মি অবস্থায় দেখেছি।
লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসের মাধ্যমে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সাদ্দামকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। 
এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ০৬ অক্টোবর রাজধানী ঢাকা ও কিশোরগঞ্জ থেকে দেশে ঐ চক্রের চার সদস্যকে আটক করে পিবিআই।
আটককৃতরা হলেন- তাসলিম উদ্দিন (৫০), মোফাজ্জল হোসেন (৪৮), আইয়ুব আলী (৫২) ও আরমান সরকার (৪২)।
শনিবার দুপুরে রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই’র বিশেষ পুলিশ সুপার (এসএস) আহসান হাবীব পলাশ।
তিনি বলেন, লিবিয়া এবং ইরাকে মানবপাচারকারীর এই চক্রটি সক্রিয় রয়েছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। ঠিক কতটি চক্র সক্রিয় রয়েছে তা আমাদের জানা নেই। আমরা এখনো চক্রের সে দেশের কোন সদস্যকে গ্রেফতার করতে পারিনি, তবে চেষ্টা চলছে।








