চট্টগ্রাম থেকে: ‘বাবু, এদিকে আসেন’ চট্টগ্রামের পিচ কিউরেটর জাহিদ রেজা বাবু মাহেলা জয়াবর্ধনের ডাক শুনে এগিয়ে গেলেন। সাগরিকার উইকেট নিয়ে খুলনা টাইটানসের কোচ দারুণ খুশি। বাবুর পিঠে হাত রেখে বললেন, ‘সব ঠিক আছে। আমার কোনো অভিযোগ নেই।’ প্রত্যেক ম্যাচে রান বেশি হওয়ায় উইকেট নিয়ে মাহেলার মত আয়োজকরাও খুশি। তবে সেই খুশির ভিড়ে তরুণ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ কঠিন চ্যালেঞ্জ উতরানোর চেষ্টা করছেন।
সোমবার খুলনার বিপক্ষে মোস্তাফিজ আর মিরাজ প্রায় ১০০ রান খরচ করেন। অথচ জাতীয় দলের খেলা হলে এই চট্টগ্রামের উইকেটই মিরাজের জন্য স্বর্গ হয়ে যায়। প্রতিপক্ষ তাকে খেলতে হিমশিম খায়। এমন ভেন্যুতে একদিন খারাপ করে এতটুকু মন খারাপ হয়নি মিরাজের। বরং পরের চ্যালেঞ্জটা জেতার কথা জানিয়ে গেলেন, ‘এমন কঠিন কন্ডিশনে না খেললে তো শিখতে পারবো না। আমার একটা অভিজ্ঞতা হল। আজকে ভাল করতে পারিনি। পরে এখানে বুদ্ধি করে, মাথা খাটিয়ে বল করতে পারবো। তখন এমন হবে না।’
বিপিএলের পঞ্চম আসর শুরু হয় সিলেট দিয়ে। সেখানে মোটামুটি রান উঠলেও ঢাকায় হয়েছে লো স্কোরিং ম্যাচ। গতবারও বিপিএলে এই অবস্থা ছিল। যা নিয়ে আয়োজকরা একটু চিন্তিত ছিলেন। বিপিএল চট্টগ্রামে আসতেই রান উঠছে ধেই ধেই করে। ২৪ তারিখ দ্বিতীয় ম্যাচেই ২১১ রান তোলে চিটাগং ভাইকিংস। জবাবে সিলেট ১৭১ পর্যন্ত গিয়েছিল। পরের দিন প্রথম ম্যাচে রাজশাহী ১৮৫ করে জয় পায়। দ্বিতীয় ম্যাচটা আরও জমজমাট হয়। চিটাগং ১৭৬ করে রংপুরের কাছে হেরে যায়। ২৭ তারিখ খুলনা টাইটানস ২১৩ করে। স্কোরবোর্ডে এমন উৎসব চলছেই।

বন্দরনগরীতে বিপিএল নিয়ে প্রচারণার ক্ষেত্রে স্থানীয় আয়োজকদের উদাসীনতা থাকলেও মাঠের খেলায় আসর ‘সুপারহিট’। যার অনেকখানি কৃতিত্ব ওই জাহিদ রেজা বাবুর। চ্যানেল আই অনলাইনকে বলছিলেন, ‘মানুষ তো খেলা দেখতে আসে মজা পাওয়ার জন্য। বিশেষ করে এমন লিগগুলোয়। রান ওঠায় সবাই খুব খুশি। সবচেয়ে যে মানুষটাকে বেশি খুশি মনে হচ্ছে তার নাম মাহেলা জয়াবর্ধনে।’
জয়াবর্ধনের খুলনা ৯ ম্যাচে ছয় জয় নিয়ে পরের রাউন্ডের দিকে অনেকটা এগিয়ে গেছে। খুশি তিনি হতেই পারেন। অন্যদিকে মিরাজের রাজশাহী ৯ ম্যাচে তিন জয় নিয়ে সাত দলের মধ্যে ষষ্ঠ স্থানে। এর মধ্যে সোমবার খুলনা তাদের ৬৮ রানে হারিয়ে দেয়। এমন হারের পেছনে মিরাজ নিজেকে আর মোস্তাফিজকে দুষছেন, ‘আমি আর মোস্তাফিজ প্রায় ১০০ রান দিয়েছি। আমরা আরেকটু ভাল করলে বিদেশিদের জন্য কাজটা সহজ হয়ে যেত।’

মোস্তাফিজ সাউথ আফ্রিকা সফরে ইনজুরিতে পড়েন। সুস্থ হয়ে মাঠে নেমে সেভাবে নিজেকে মেলে ধরতে পারছেন না। বন্ধুর জন্য মিরাজের প্রার্থনা, ‘আমরা চাই মোস্তাফিজ তাড়াতাড়ি ফিট হয়ে ফিরুক। ও আমাদের অন্যতম সেরা বোলার। শুধু বিপিএল নয়, সামনে আমাদের জাতীয় দলের খেলা আছে। ওর ফেরাটা দেশের জন্য ভাল হবে।’







