স্ত্রী হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড নিয়ে স্বামী ছিলেন কারাগারের কনডেম সেলে। সেখান থেকেই করুণ ভাষায় লিখলেন এক চিঠি। সে চিঠি পড়ে কোন টাকা ছাড়াই মামলা লড়লেন আইনজীবী। অবশেষে ফাঁসির আসামির সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
২০০৬ সালের ১৬ অক্টোবরের ঘটনা। নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় নয়াটোল গ্রামে স্বামীর ভাড়া বাড়িতে স্বপ্না ঘোষকে হত্যা করে তার স্বামী কুষ্টিয়ার স্বপন কুমার বিশ্বাস। স্বপ্নাকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করা নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে স্বপ্নার মাথায় আঘাত করে হত্যার পর গলায় দড়ি বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়।
সেই ঘটনায় করা মামলায় পরে স্বপন কুমার বিশ্বাসকে গ্রেফতার করা হয়।২০০৮ সালের ১৮ নভেম্বর এই মামলার রায়ে স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বপন কুমারকে মৃত্যুদণ্ড দেন নীলফামারীর আদালত। এই রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিলের শুনানি শেষে ২০১৪ সালের ৯ এপ্রিল হাইকোর্ট স্বপন কুমারের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।
হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধে স্বপন কুমার বিশ্বাস আপিল করেন। এসময় কারাগার থেকে স্বপন কুমার বিশ্বাস সিনিয়র অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনের কাছে একটি চিঠি লেখেন। সে চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘কিভাবে বেঁচে আছি তা লিখে বোঝাতে পারব না। এটাকে বেঁচে থাকা বলে না। এ জীবন সত্যিই আমার আর সহ্য হচ্ছে না।….. আমার জীবনটাকে বাঁচান। আমি বাঁচতে চাই।’
এই চিঠি পেয়ে টাকা ছাড়াই সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে স্বপন কুমার বিশ্বাসের আপিলের পক্ষে আইনি লড়াই করার সিদ্ধান্ত নেন অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন। সে অনুযায়ী তিনি আপিল বিভাগে স্বপনের পক্ষে শুনানি করেন।
এই শুনানিতে তার সাথে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। আর রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরসেদ।
উভয় পক্ষকে শুনে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির ভার্চুয়াল বেঞ্চ আজ রায় দেন। সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়ে স্বপন কুমার বিশ্বাসের সাজা মৃত্যুদণ্ড থেকে কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এছাড়া এই আসামিকে কারাগারের কনডেম সেল থেকে সাধারণ সেলে নিতে নির্দেশ দেয়া হয়।
সবশেষে সর্বোচ্চ আদালত বলেন, ‘এটার (লিখিত) রায়ে একটা প্যারা অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেনকে নিয়ে বিশেষ ভাবে লিখে দেবেন। পত্রিকায় পড়েছি ওনি এই মামলাটি আসামির চিঠি পেয়ে বিনা ফি-তে (প্রো বোনো) করেছেন।’








