গণহত্যা দিবসের আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির প্রেসিডেন্ট হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ২৫ মার্চকে জাতীয় ভাবে গণহত্যা দিবস এবং বঙ্গবন্ধুকে জাতির জনক উপাধিকে ভূষিত করতে না পারার জন্য আক্ষেপ করেন। এ সময় তিনি তার সময়কালের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি তুলে ধরে।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন: বঙ্গবন্ধু ছিলেন বলেই বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিলো। স্বাধীন হয়েছিলো বলেই আমি সেনা প্রধান হতে পেরেছিলাম। পরে রাষ্ট্রপতি হয়েছি। কিন্তু আক্ষেপের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, আমি চাইলেও বঙ্গবন্ধুকে জাতির পিতা হিসেবে স্বীকৃতি দিতে পারিনি। মন্ত্রীপরিষদে প্রস্তাবও আনা হয়েছিলো। কিন্তু, কয়েক জনের বিরোধিতায় শেষ পর্যন্ত ইচ্ছের বাস্তব রূপ দিতে পারিনি।
মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ না করতে পারারও আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। তিনি বলেন: আমার প্রবল ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে পারিনি। কারণ, ‘ওই সময় সেনাবাহিনীতে আমার পোস্টিং ছিলো পাকিস্তানে। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় আমাকে দেশে ফিরিয়ে আনেন। যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে না পারলেও মুক্তিযুদ্ধোদের জন্য কিছু করার ইচ্ছে আমার সব সময় ছিলো।’
এসময় এরশাদ তার সময় মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য করা বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের চিত্র সংসদের সামনে তুলে ধরেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমি কেনো গণহত্যা দিবসের স্বীকৃতি দিতে পারলাম না!
প্রস্তাবের ওপর দীর্ঘ আলোচনা শেষে কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে প্রস্তাবটি পাস হয়। পাস হওয়ায় এখন থেকে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস জাতীয় ভাবে পালিত হবে। এর পাশাপশি দিবসটির আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।








