নিজ দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে উৎসবমূখর পরিবেশে পয়লা বৈশাখ উদযাপন করেছেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। নেতাকর্মীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সঙ্গে দেশবাসীকে বৈশাখের শুভেচ্ছা জানান তিনি। এসময় তিনি দেশ ও মানু্ষের কল্যাণ ও উন্নতির জন্য জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান।
‘শান্তি সুখের কলরবে, এসো মিলি মুক্তির উৎসবে’ স্লোগান নিয়ে জাতীয়তাবাদী সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংস্থা-জাসাস আয়োজিত বৈশাখী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিএনপি চেয়ারপার্সন এসব বলেন।
বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া বলেন, আজ দেশের জন্য একটি শুভ দিন। এদিনে সবাইক নববর্ষের শুভেচ্ছা জানাই। আমি দেশের উন্নতি চাই, মানুষের শান্তি চাই। দেশের মানুষের সত্যিকার প্রত্যাশা পূরণ করতে প্রয়োজন গণতন্ত্র। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, দেশ ও মানু্ষের কল্যাণ ও উন্নতির জন্য জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন।জাতীয় ঐক্য থাকলে দেশে কেউ গুম, খুন, হত্যা করতে পারবে না। জঙ্গিবাদ থাকবে না, থাকবে না কোন ষড়যন্ত্র।
তিনি বলেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু অনেকে আমাদের অগ্রগতি সহ্য করছে না। আমাদের দুর্বল করে দিতে চায়। অভ্যন্তরীণ দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে। দেশের ১৬ কোটি মানুষ ঐক্যবদ্ধ। আমাদের কোন সাহায্য দরকার নেই। আমাদের দরকার জাতীয় ঐক্য।
ভারতকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, আমরা বন্ধুত্ব চাই, প্রভুত্ব নয়।কারো প্রভুত্ব আমরা মেনে নিব না।
তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে বলেন, ভারতে গিয়ে তিনি সবকিছু দিয়ে এসেছেন। তার সাহস থাকলে চুক্তি ও সমঝোতা স্বাক্ষরের আগে বলতে পারতেন, ‘চুক্তির আগে আমি তিস্তা চুক্তি চাই’। তিনি যদি চুক্তি ও সমঝোতা না করে তিস্তা চুক্তি করতেন আমরা সবাই তাকে সমর্থন দিতাম।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তা করতে পারেননি। তিনি দেশের স্বার্থের দিকে না তাকিয়ে নিজের স্বার্থ চেয়েছেন। তিনি দেশের মানুষের অধিকারের কথা বলতে পারেননি। বরং সবকিছু দিয়ে এসেছেন।।
এ সময় খালেদা জিয়া দেশের মানুষের কল্যাণ চান উল্লেখ করে বলেন, দেশের মানুষের জন্য আমরা প্রয়োজনে বৃহতর আন্দোলন দিব এবং আমরা তাতে সফল হবো।
বিএনপির বৈশাখী এই আয়োজনে ছিলো তাড়াহুড়ো আর পরিকল্পনার অভাব। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য ছোট একটি মঞ্চ ও গণমাধ্যমকর্মীদের বসার তেমন জায়গা না থাকাসহ দলের নেতাকর্মীদের বসার জায়গা নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ছিলো বেশ অনিয়ম।
বিকাল সাড়ে চারটার দিকে প্রচন্ড ভীড় ঠেলে মঞ্চের দিকে প্রবেশ করেন খালেদা জিয়া। এরপরে পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে চারিদিকে।
বৈশাখ উদযাপনের এই আয়োজনের বিষয়ে জাসাসের সভাপতি ড.মামুন বলেন, বৈশাখ উপলক্ষে বিশাল র্যালীর আয়োজন করলেও সরকার তাদেরকে অনুমতি দেয়নি। সরকার দেশের সার্বজনীন উৎসবে বাঁধা দিয়েছে। এমনকি তাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পালনেও প্রশাসন অসহযোগিতা করছে বলে অভিযোগ করেন জাসাস সভাপতি।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বিএনপি মহাসটিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ, মির্জা আব্বাস, ড. মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সহ বিএনপির ভাইস চেয়ারনবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।







