নিধাস ট্রফির প্রথম ম্যাচ ব্যাটে-বলের দারুণ লড়াইয়ে নিষ্পত্তি হয়েছে। ভারতের বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত ৯ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে জয় পেয়েছে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কা।
শেষ ছয় ওভারে ৪৩ রান দরকার ছিল শ্রীলঙ্কার। হাতে ছয় উইকেট। ক্রিজে দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান উপুল থারাঙ্গা। ওই থারাঙ্গাকে ফেরান রিস্ট স্পিনার চাহাল। তিনি এদিন দুটি উইকেট পেয়েছেন। যার একটি রিস্ট স্পিনারদের স্বপ্নের ডেলিভারি ফ্লিপারে। থারাঙ্গাকেও দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন। অফস্টাম্পে পিচ করান। থারাঙ্গা স্লগ সুইপের মতো করে মিডউইকেটে হাঁকাতে যান। বল হঠাৎ নিচু হয়ে সোজা স্টাম্পে! ১৮ বলে তিনি করতে পারেন ১৭।
পরের চার ওভারে লঙ্কানদের দরকার ছিল ৩৫ রান। ক্রিজে থিসারা পেরেরা এবং দাসুন শানাকা। ভারতের অভিষিক্ত ডানহাতি পেসার বিজয় শঙ্কর দিয়ে যান ১১। এই ওভারে তার করা তৃতীয় বলটি নিয়ে নিশ্চয়ই ম্যাচ শেষে আলোচনা হবে। ফুলটস বলটি বেশ উঁচুতে ছিল। আম্পায়ার ইচ্ছা করলে নো ডাকতে পারতেন। গত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের ঠিক এমনই একটি বল ‘নো’ ডেকে বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন সেই ম্যাচের আম্পায়াররা।
১৮তম ওভারে রোহিত আরেক পেসার উনাদকাটকে ডাকেন। শেষ ১৮ বলে লঙ্কানদের তখন ২৪ দরকার। দ্বিতীয় বলে স্কয়ার ড্রাইভে এক্সট্রা-কাভার দিয়ে চার হাঁকান দাসুন শানাকা। পরে ওভারের শেষ দুই বল থেকে দশ রান নেন থিসারা পেরেরা। এই ওভার থেকে রান যায় ১৬। শেষ দুই ওভারে লঙ্কানদের দরকার পড়ে ৮ রান।
১৯তম ওভারে শারদুল ঠাকুরের কাছ থেকে সেটি নিয়ে নেন পেরেরা-শানাকা।
পেরেরা ১০ বলে ২২ রানে অপরাজিত থাকেন। সঙ্গে শানাকা ১৮ বলে গুরুত্বপূর্ণ ১৫টি রান নিয়ে।
ভারত এদিন টস হেরে আগে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৭৪ রান করে। শেখর ধাওয়ান (৯০) টি-টুয়েন্টিতে তার সেরা ইনিংস খেলে দলকে এই সংগ্রহ এনে দেন। ম্যাচ জিততে ১৮.৩ ওভার লাগে শ্রীলঙ্কার।
স্বাগতিকদের মতো ভারতও শুরুতে সাফল্য পায়। দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে কুশল মেন্ডিসকে ফেরান ওয়াশিংটন সুন্দর। কুশল ছয় বলে দুই চারে ১১ রানে ফেরেন। পঞ্চম ওভার শেষ হতে হতে গুনাথিলাকাকে বিদায় করেন ক্যারিয়ারের সপ্তম টি-টুয়েন্টি খেলতে নামা বাঁহাতি পেসার জয়দেব উনাদকাট। গুনাথিলাকা ১২ বলে ১৯ করেন।
এরপর নবম ওভারের পঞ্চম বলে চান্দিমালকে ফেরান রিস্ট স্পিনার যুবেন্দ্র চাহাল। লেগস্পিনের অন্যতম কঠিন এবং শৈল্পিক ডেলিভারি ফ্লিপারে লঙ্কান অধিনায়ককে বোকা বানান ২৭ বছর বয়সী স্পিনার।
ফ্লিপার ডেলিভারি তুড়ি বাজানোর মতো করে ছাড়তে হয়। বল মিডলস্টাম্পে পড়ে দ্রুতগতিতে সামনে মুভ করে। হঠাৎ নিচু হয়। তাতে ব্যাটসম্যান লাইন মিস করে এলবিডব্লিউ কিংবা বোল্ড হন। চান্দিমালের ক্ষেত্রে হয়েছে দ্বিতীয়টি, বোল্ড। চাহাল চার ওভারে ৩৭ রান দিয়ে দুই উইকেট নেন।
দাঁড়িয়ে যান কুশল পেরেরা। ফেরার আগে ৩৭ বলে ছয়টি চার, চারটি ছয়ে ৬৬ করে যান। ১৩তম ওভারের তৃতীয় বলে ওয়াশিংটন সুন্দরকে উঠে খেলতে গিয়ে স্টাম্পিং হন।
চাহালের মতো দুই উইকেট পেয়েছেন ওয়াশিংটন সুন্দরও। তিনি রান দিয়েছেন চাহালের থেকে কম, ২৮।
৮ মার্চ বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় এই প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ-ভারত।










