দিনের ব্যস্ততা শেষে রাতের নীরবতায় কিছু সময় কোরআন তিলাওয়াত করা একজন মুমিনের জন্য প্রশান্তির একটি মাধ্যম হতে পারে। বিশেষ করে সূরা আল-মুলক নিয়ে মুসলিমদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।
সূরা আল-মুলক কোরআনের ৬৭ নম্বর সূরা। এতে ৩০টি আয়াত রয়েছে। ‘আল-মুলক’ শব্দের অর্থ রাজত্ব, কর্তৃত্ব বা সার্বভৌম ক্ষমতা। সূরাটির শুরুতেই আল্লাহ তাআলার সর্বময় ক্ষমতা ও সৃষ্টির নিখুঁত ব্যবস্থার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
সূরা আল-মুলকের ফজিলত কী?
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পক্ষ থেকে এমন একটি সূরার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যাতে ৩০টি আয়াত রয়েছে এবং সেটি তার পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করতে থাকে, যতক্ষণ না তাকে ক্ষমা করা হয়। সেখানে সূরাটিকে ‘তাবারাকাল্লাজি বিইয়াদিহিল মুলক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
—জামে আত-তিরমিজি, হাদিস ২৮৯১
তবে হাদিসটির সনদ নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে মতামত রয়েছে। তাই এটিকে উল্লেখ করার সময় সূত্রসহ উপস্থাপন করাই সতর্ক পদ্ধতি।
সূরা আল-মুলকের মূল বার্তা
এই সূরায় আল্লাহর ক্ষমতা, জীবন ও মৃত্যুর উদ্দেশ্য, আকাশমণ্ডলীর সৃষ্টি এবং মানুষের পরিণতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
আল্লাহ বলেন—
“যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন, যাতে তিনি তোমাদের পরীক্ষা করেন কে তোমাদের মধ্যে কর্মে শ্রেষ্ঠ।”
—সূরা আল-মুলক, ৬৭:২
এই আয়াত মনে করিয়ে দেয়, মানুষের জীবন শুধু দুনিয়ার সাফল্য অর্জনের জন্য নয়, বরং এটি একটি পরীক্ষা। তাই প্রতিটি কাজের ক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তুষ্টির কথা মনে রাখা জরুরি।
ঘুমানোর আগে পড়া কি সুন্নাহ?
সূরা আল-মুলক রাতে পড়ার বিষয়ে বিভিন্ন বর্ণনা পাওয়া যায়। তবে ‘প্রতিদিন ঘুমানোর আগে অবশ্যই সূরা আল-মুলক পড়তে হবে’ এমন নির্দিষ্ট সহিহ নির্দেশ হিসেবে বিষয়টি বলা ঠিক নয়।
তবে কোরআন তিলাওয়াত নিজেই একটি মর্যাদাপূর্ণ ইবাদত। তাই রাতে ঘুমানোর আগে সূরা আল-মুলক পড়া যেতে পারে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো শুধু তিলাওয়াত নয়, এর অর্থ ও শিক্ষা বোঝার চেষ্টা করা।
দিন শেষে কয়েক মিনিট কোরআনের সঙ্গে কাটানো আমাদের মনে করিয়ে দিতে পারে জীবন, মৃত্যু, সময় ও সামর্থ্য সবই আল্লাহর দেওয়া আমানত।









