সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানিতে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মালয়েশিয়ায় জনশক্তি পাঠাতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাড়তি সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা নেয়ার অভিযোগের অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে এ-সংক্রান্ত অভিযোগের সন্ধানের জন্য একজন সহকারী পরিচালককে নিয়োগ করা হয়েছে।
দুদকে আসা একাধিক অভিযোগ এবং গণমাধ্যমে প্রচারিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তাদের নজরে আসে। জনশক্তি রপ্তানিতে কী ধরনের অনিয়ম হয়েছে, সেটা যাচাই করে দেখা হবে। পাশাপাশি এর সঙ্গে যারা যুক্ত আছেন, তাদের সম্পদের অনুসন্ধানে বেশি নজর দেওয়া হবে। অনেকগুলো দেশে বাংলাদেশ দক্ষ জনশক্তি রপ্তানি করে। তার ভেতর মালয়েশিয়ায় ছিল বিশেষ ব্যবস্থা।
বাংলাদেশের ১০টি জনশক্তি রপ্তানিকারক (রিক্রুটিং এজেন্সি) একচেটিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ‘জি টু জি প্লাস’পদ্ধতিতে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাত। তাদের সঙ্গে যুক্ত ছিল মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে গড়া একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এই অভিযোগে ১ সেপ্টেম্বর থেকে জি টু জি প্লাসপদ্ধতিতে জনশক্তি নেয়া বন্ধ করে দেয় মালয়েশিয়ান সরকার। মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের সভাপতিত্বে গত ১৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত এক বিশেষ কমিটির বৈঠকে কর্মী নিয়োগের বিশেষায়িত পদ্ধতি এসপিপিএ (যা জি টু জি প্লাস নামে পরিচিত) থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে। বিদেশের জনশক্তি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সবচেয়ে বড় অবদান রেখে যাচ্ছে। গত মাসেও ছিল আমাদের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসার মাস।
কিন্তু এই বিশাল রাষ্ট্রীয় আয়ের জন্য সরকারের নজরদারি বরাবরই শিথিল। যার কারণে সরকার জনশক্তি রপ্তানিতে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। শুধু মালয়েশিয়া নয় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশের জনশক্তি রপ্তানি নানাভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। মানুষের হয়রানি বাড়ছে। দেশের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। আর মানুষের ভোগান্তি বাড়ছে। কিছু মানুষ শোচনীয় কষ্টের ভেতর পতিত হচ্ছে।
শুধু মালয়েশিয়া নয় পৃথিবীর যেসব দেশে বাংলাদেশ বৈধভাবে জনশক্তি রপ্তানি করে তাদের সবাইকে নজরদারিতে এনে যে কোনো অনিয়ম ভোগান্তির জন্য কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা এখন সময়ের দাবি। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় কোনভাবেই তাদের দায়িত্ব এড়াতে পারে না। অসাধু সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কঠোর শাস্তির অাওতায় আনতে হবে। প্রয়োজনে দুদককে কাজে লাগাতে হবে। মালয়েশিয়ার অসাধু চক্র ধরতে দুদকের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই আমরা।








