জঙ্গি গােষ্ঠী ইসলামিক স্টেটে (আইএস) যোগ দিতে ফ্রান্সের প্রায় ১৫০০ নাগরিক ইরাক-সিরিয়ার পথে রয়েছে। এদের ৬ শতাধিক ফরাসি নাগরিক এরই মধ্য ফ্রান্স ছেড়েছে এবং আরো প্রায় ৮শ জন দেশ ত্যাগের অপেক্ষায় রয়েছে। দেশটির গােয়েন্দার সংস্থার প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছেন স্বয়ং ফরাসি প্রধানমন্ত্রী ম্যানুয়েল ভালাস।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, এই পরিসংখ্যান এটা প্রমাণ করছে যে, আইএস নিধনে ফরাসি কর্তৃপক্ষ ইরাক ও সিরিয়ায় যে বোমা হামলা চালাচ্ছে এবং নানা রকম কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছে তাতে তেমন কোনাে ফল হচ্ছে না।
ফরাসি প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নিজ ভূমিতেই সংগ্রামের মধ্যে আছি’।
গোয়েন্দা বাহিনীর প্রতিবেদনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে ভালাস বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন টেলিফোন, মোবাইলের নেটওয়ার্ক ট্র্যাক করছি, কিছু স্বতন্ত্র ব্যক্তিকে গ্রেফতারও করছি। গোয়েন্দা প্রতিবেদন বলছে, এই মুহূর্তে ২ হাজার ২৯ জন ফরাসি নাগরিক অথবা বাসিন্দা আইএসে সাথে সরাসরি সংযুক্ত রয়েছে।’
সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের ষষ্ঠ বছরে এসে সন্ত্রাসবিরোধী আইন আরো কঠিন করেছে ইউরোপিয়ান দেশগুলো। তারা আরো বেশি গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদানে সম্মত হয়েছে। যাতে করে তাদের নাগরিকরা মধ্যপ্রাচ্যে যেতে না পারে এবং জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরতে না পারে।
পরিসংখ্যান উল্লেখ করে ভালাস বলেন, বর্তমানে ৬০৯ জন ফরাসি নাগরিক অথবা বাসিন্দা জঙ্গিদের হয়ে যুদ্ধ করেছে এবং করছে। যাদের মধ্য ২৮৩ জন নারী ও ১৮ নাবালক রয়েছেন।
ফরাসি প্রধানমন্ত্রী আরো জানান, জঙ্গিদের হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে সিরিয়া ও ইরাকে এ পর্যন্ত তার দেশের ১৭০ নাগরিক অথবা বাসিন্দা নিহত হয়েছে এবং ৩০০ জন জঙ্গি প্রশিক্ষণ নিয়ে ফের দেশে ফিরেছে।
গোয়েন্দা তথ্য উল্লেখ করে ভালাস বলেন, সব মিলিয়ে ৮০০ লোক যুদ্ধ জােনে রয়েছে এবং ১ হাজার জনকে কড়া নজরদারিতে রাখা হয়েছে।






