স্বাধীন বাংলাদেশে বিএনপির প্রতিষ্ঠা সেনা ছাউনীতে, প্রথম দল যেটি সরাসরি ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থেকে জন্ম। প্রথমে জাগোদল পরে জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট তারপর মূলদল বিএনপি প্রতিষ্ঠা পায়। এ প্রসঙ্গে ‘বিএনপির সময় অসময়’ বইয়ের লেখক মহিউদ্দীন আহমদ লিখেছেন- “জিয়া বিএনপি তৈরি করেছিলেন ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে।
ওই সময় যারা বিএনপিতে যোগ দিয়েছিলেন, তারা যে বিএনপির আদর্শের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিলেন তা হয়ত বলা যাবে না। প্রাপ্তিযোগের ব্যাপারটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল সন্দেহ নেই। তবে আর্দশের ব্যাপারটা যে একেবারে ছিল না তা নয়। যারা আওয়ামী লীগ বা কমিউনিস্ট রাজনীতি পছন্দ করেন না তাদের তো একটা অবলম্বন দরকার, বিএনপি হয়ে দাঁড়াল ওই রকমের একটা প্লাটফর্ম।”[পৃষ্ঠা-৩১৯] এখানে লেখক কিছুটা এড়িয়ে গেলেও বিএনপি নেতা মওদুদ আহমদ তার বইতে আরো সত্য প্রকাশ করেছেন- “বিএনপির সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল এই দলের জন্ম কোনো স্বাভাবিক সামাজিক বিবর্তনের মধ্য দিয়ে হয়নি।……….একদিকে ছিল সুযোগসন্ধানী, সুবিধাবাদী, গণবিরোধী, স্বার্থপর এবং রাজনৈতিকভাবে সমাজে ধিক্কৃত ব্যক্তিরা।………বিএনপির জন্ম হয়েছিল ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু থেকে।”[চলমান ইতিহাস: জীবনের কিছু সময় কিছু কথা-১৯৮৩-১৯৯০, পৃষ্ঠা-১৫৯-১৬০]
সেই সুবিধাবাদী দলছুট ধিক্কৃতরা এখনও বিএনপিতে আছে এবং শক্তিশালী তা তৃণমূল নেতাদের কথায় কাউন্সিলে প্রকাশ পেয়েছে। কাউন্সিলদের বক্তব্যে দলের নেতৃত্বের ব্যর্থতার কথাও উঠে এসেছে যা খালেদা জিয়াও স্বীকার করেছেন কিন্তু আদৌ কোনো প্রতিকার হবে কিনা সে আশার আলো নেই।
২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর জাতীয় কাউন্সিল শেষে ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি ৩৮৬ সদস্যের জাতীয় নির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। ২০১১ সালের ১৬ মার্চ মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন মারা যাওয়ার পর ৬ এপ্রিল সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার পর থেকে তিনি এখনও ভারপ্রাপ্তই আছেন। ৫ম কাউন্সিলে দল ঘুরে দাঁড়ানোর কথা উঠেছিল কিন্তু দলের ভেতরে বাইরে রাজপথে সর্বত্রই ব্যর্থ হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সাংগঠনিকভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে দলটি। সেটা ঘুচাতে ৬ বছর পর ১৯ মার্চ ছিল বিএনপির ৬ষ্ঠ কাউন্সিল। বর্তমানে সংসদেও নেই, তাই কার্যত বিরোধীদল তারা নয়।
কাউন্সিলে খালেদা জিয়া শুধু বক্তব্য দেয়া ছাড়া আর কোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেননি বা নিতে পারেননি বরং দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড তৃণমূল নেতারা তুলে ধরেছেন যা কাউন্সিল এর আগেই কয়েক নেতা বিবৃতিতে বলেছিলেন কিন্তু এতোটা তোপের মুখে কেন্দ্রীয় নেতারা পড়বেন তা হয়ত তারা আশা করেননি। যেহেতেু ক্ষমতা কেন্দ্র থেকে জন্ম তাই দেখা যায় বিএনপির রাজপথে নিজেদের মেলে ধরতে কখনই পারেনি।
কাউন্সিলে দ্বিতীয় অধিবেশনে বক্তৃতায় মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলা সভাপতি মনিরুল ইসলাম মনি বলেন, ম্যাডাম আজকের নির্বাহী কমিটিতে মুখোশধারী রয়েছে। তাদের চিহ্নিত করতে হবে। নেতাদের টিভিতে দেখা গেলেও আন্দোলনে নেই। আবার অনেককে প্রয়োজনের সময় মোবাইলে পাওয়া যায় না। কুষ্টিয়ার নেতা গোলাম মোহাম্মদ বলেন, কাউন্সিলে ব্যর্থতার বিষয়টি উত্থাপন করা উচিত ছিল। ম্যাডাম ভারতে একটি নির্বাহী কমিটি ৬৫ সদস্যবিশিষ্ট আর আমাদের কমিটি কয়েকশ’। এটা কমাতে হবে। {দৈনিক যুগান্তর ২০ মার্চ ২০১৬}
খালেদা জিয়াও এসব বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করেছেন এবং আশ্বাস দিলেও কার্যকর করতে পারবেন কিনা সন্দেহ। কারণ ৩৭ বছরের ইতিহাসে দেখা যায় সুবিধাবাদীদের পাল্লাই বিএনপিতে ভারী, মুক্তিযোদ্ধাদের দল বলে বক্তৃতা দিয়ে থাকলেও মুক্তিযোদ্ধারা বিএনপিতে কোণঠাসা, বরং ডানপন্থী ধর্মীয় উগ্র ও কট্টরবাদীরাই বিএনপিতে শক্তিশালী ফলে তাদের আন্দোলন শান্তিপূর্ণ না হয়ে ধ্বংসাত্নক হয়, মানুষ পুড়িয়ে তাদের আন্দোলন কর্মসূচী চালানো হয়। সেই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা খুবই কম যদিও বক্তৃতায় খালেদা জিয়া অনেক কথা বলেছেন আবার রুদ্ধদ্বার বৈঠকে সেই চিরচেনা ষড়যন্ত্র-অসহিষ্ণুতার মনোভাবই প্রকাশ পেয়েছে।
কাউন্সিলের প্রথম পর্বে খালেদা জিয়া বক্তব্যে সেখানে অনেক কথা বলেছেন, ভিশন দেখিয়েছেন কিন্তু দলের রাজনৈতিক আদর্শগত অবস্থান পরিস্কার করেননি। রাজনৈতিক দলের প্রথম কাজ সময়ের দাবীগুলোর সাথে নিজ দলের অবস্থান পরিষ্কার করা। বর্তমানে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক আদর্শিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর মধ্যে মহান মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, জঙ্গিবাদ, চরমপন্থা, জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুর প্রতি ব্যবহার ও আচরণ, অসাম্প্রদায়িকতা, পার্শ্ববর্তী দেশের সাথে সম্পর্ক, এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান নিশ্চিত করা জরুরি কিন্তু খালেদা জিয়া সেসব বিষয় পরিষ্কার করেননি।
তার ভাষণ একটি নির্বাচনী ইশতেহার অথবা কর্মসূচির মতো লেগেছে যাতে আর্দশিক অবস্থানের চাইতে সরকার গঠন করে কি করবেন তা বোঝাতে চেয়েছেন কিন্তু আবার নির্বাচনে আসবেন কিনা বা কিভাবে নির্বাচন চান তা না চেয়ে শেখ হাসিনা ছাড়া নির্বাচন করতে চেয়েছেন যাতে ষড়যন্ত্রের আভাস ঘটেছে এবং ইতোমধ্যেই বিষয়টি সমালোচিত হয়েছে। দুই পর্বের বক্তব্যে তার দ্বিচারিতাই প্রকাশ পেয়েছে।
এমনকি বক্তৃতায় অনেক পরিকল্পনার কথা বললেও দলটি স্বাধীনতাবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক থেকে সরে আসার কোনো ঘোষণা আসেনি বরং জামায়াতে আমীর কাউন্সিলে উপস্থিত ছিল এবং যুদ্ধাপরাধী ফাঁসি কার্যকর হয়ে মৃত সালাহউদ্দীন কাদের চৌধুরীর নামও শোকপ্রস্তাবে উচ্চারিত হয়। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিদের সাথে নিয়ে চলার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে না এসে আগের মতোই অপরাজনীতি এবং স্বাধীনতাবিরোধী দলের সঙ্গে জোট করেই রাজনীতি করতে চায় যা প্রবলভাবে দৃশ্যমান হয়েছে এবং সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ধারাই ধরে রাখবেন বলে ধরে নেয়া যায়।
বেগম জিয়া ‘ভিশন ২০৩০’ বলে যে কর্মপরিকল্পনার কথা বলেছেন এসবের অনেক কিছুই আওয়ামী লীগ আগেই তাদের দেয়া ‘ভিশন ২০২১’ এবং ‘ভিশন ২০৪১’ এ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে বিএনপি নেতারাই বলছেন বিদেশিদের খুশি করতেই এমন পরিকল্পনা পেশ। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু সমকালকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশি-বিদেশিরা বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কী করবে- তার পরিকল্পনা জানতে চাইতেন। কাউন্সিলের মাধ্যমে তা উপস্থাপন করা হয়েছে। (দৈনিক সমকাল. ২১.৩.২০১৬, পৃষ্ঠা-১)
আর গত কয়েক বছর যাবৎ বিএনপি বিদেশমুখী রাজনীতিই বেশি করছেন, সেই নরেন্দ্র মোদিকে তড়িঘড়ি করে শুভেচ্ছা জানানো, সুষমা স্বরাজের সাথে আগ বাড়িয়ে সাক্ষাত করতে যাওয়া, কয়েকদিন পরপরই বিদেশি কূটনীতিকদের সাথে সাক্ষাত, এমনকি এও দেখা গেছে অবরোধের সময় তৃণমূলের খোঁজ না নিয়ে নেতৃবৃন্দ বিদেশীদের সাথেই বেশী সময় দিচ্ছেন। এটা শুধু যে ক্ষমতার জন্য রাজনীতি সেটাই প্রতীয়মান হয়। আবার ড. ইউনূসকে তাদের লোক হিসেবে মনে করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে নতুবা ক্ষুদ্র ঋণ সংক্রান্ত সম্পাদক অন্তর্ভূক্তির হেতু কি? এই ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচী নিয়ে অনেক সমালোচনা সত্ত্বেও বিএনপি নেতৃত্ব অনেক কথায়-বক্তৃতায় ড. ইউনূসকে বিশেষ সমীহ দেখায় সেটা কি ইউনূস সাহেবের একটি শক্তিশালী দেশে তার সহপাঠী বান্ধবী থাকার কারণে?? এমন সমীহ করে বিএনপি কি নিজেদেরই হেয় করছে না?? তবে তাদের ভিশন যেমনই হোক এতে কোনো নতুনত্ব নেই। কারণ ভিশন ২০২১ এর পথ ধরে ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ অনেকদূর এগিয়ে গেছে এবং ২০৩০ এর অনেক কথা ভিশন ২০৪১ এর মধ্যে আগেই অর্ন্তভূক্ত রয়েছে আর ২০৪১ কে সামনে রেখেই বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
খালেদা জিয়ার ভাষণের মধ্যে অতীতের অপকর্ম সন্ত্রাস দুর্নীতির জন্য কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি, ইতিহাস বিকৃতি মুক্তিযুদ্ধকে কটাক্ষ করা, শহীদদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এসব বিষয়ের কোনো নিষ্পত্তি তার কথায় আসেনি যা কোনো রাজনৈতিক দল এড়িয়ে যেতে পারে না বরং এসব বিষয় এড়িয়ে গিয়ে বিএনপি যে স্বাধীনতাবিরোধী আর্দশকে ধারণ করছে তাই প্রকাশ পেয়েছে। কারণ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সমর্থন করছেন কিনা এবং জামায়াত নিয়ে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কিছুই বলেননি খালেদা জিয়া বরং ২০ দলীয় জোট থাকবে বলে ইশারা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, খালেদা জিয়া এমন লোভনীয় বক্তব্য আগেও দিয়েছেন কিন্তু তাদের কথা ও কাজে মিল নেই। ২০১৩ সালে ২৫ অক্টোবরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে তিনি যখন ভাষণ দিয়ে বলছিলেন, তিনি শান্তি চান, অশান্তি বিশৃঙ্খলা চাননা তখন কিন্তু সারাদেশে তাদের দলের নেতাকর্মীরা তাণ্ডব করছিল, যানবাহন পুড়ছিল, আগুন দিচ্ছিল। এরপর ২০১৪ এর ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে ও পরে সহিংসতার চিত্র কারো মন থেকে বিস্মৃত হয়নি। আর ক্ষমতায় থাকতে তাদের অপশাসন দুর্নীতি লুটপাট কেউ এখনও ভুলেনি। দুর্নীতির দায়ে তার দুই ছেলেকে বিদেশ যেতে হয়, বিদেশের কোর্টে তাদের দুর্নীতির বিচারে দণ্ড হয়, বিদেশ পাঠানো টাকা দেশে ফেরত আসে-এসব শুধরাবেন কি করে আর এসব অপকর্মের পর কেনইবা মানুষ তাদের বিশ্বাস করবে? বিশ্বাস করার কোনো কারণও নেই কারণ ২০১৫ সালের শুরুতে ১০০ দিন যে তাণ্ডব সহিংসতা করেছেন তা ভুলবার নয়, এসব নৃশংসতা একাত্তরে পাকহানাদারদের অত্যাচার নির্যাতনকেই মনে করিয়ে দেয়।
এখন নতুনধারার রাজনীতির কথা বলছেন ঠিক কয়েকবছর আগে মানিকগঞ্জে বলেছিলেন ক্ষমতায় যেতে আরো লাশ চাই রক্ত চাই। বিএনপির চরিত্র এতো দ্রুত কি করে পাল্টাবে যেখানে দলের তৃণমূল নেতারা বলছে সুবিধাবাদী, সুযোগসন্ধানী দলে অনেক। খালেদা জিয়া নিজে বলছেন যে দলে বেঈমান ও মীরজাফর আছে। এদের নিয়ে কি নতুন ধারার রাজনীতি করবেন তিনি, এতো মনে হচ্ছে নতুন বোতলে পুরাতন পানীয়!! খালেদা জিয়া সে আশার কথা বলছেন তাতে মনে হয় না দল জাগবে জনগণ তো অনেক পরের কথা। এখনও মহাসচিবের নাম ঘোষণা করতে পারেননি তাদের মতানৈক্যের কারণে তবে তিনি কিভাবে দেশকে গণতন্ত্রের বাতাবরণে আবদ্ধ করবেন ভিশন বাস্তবায়ন করবেন?? আমাদের অনেক সুশীলদের মধ্যে খালেদা জিয়ার বক্তৃতা নিয়ে উচ্ছাস দেখা যাচ্ছে, এসব সুশীলদের ভূমিকা আমরা বিভিন্ন সময় দেখেছি, গণতন্ত্রহীনতায় যেন তাদের বেশি বিশ্বাস, ১/১১ এর সময় তাদের প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকা মানুষের মনে নেতিবাচক হিসেবে দাগ কেটে আছে। আবার সাম্প্রতিক সময়ে বিএনপি জামাতের তাণ্ডবের সময় তাদের নীরবতাও অনেক প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে!
বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ধারণ না করলে জনগণকে উদ্ধুদ্ধ করার চিন্তা করে লাভ হবে না, তাই কাউন্সিল করে বা আশ্বাসের বুলি শুনিয়ে নেতাকর্মীদের বাড়ী ফেরত পাঠালেও বিএনপি মানুষের কাছে যেই তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই থাকবে, নেতাকর্মীরাও উজ্জীবিত হবে না এবং ভেতরে বাইরে যে স্বাধীনতা বিরোধী উগ্রপন্থীদের ঘুণপোকাদের আস্ফালন তা দলকে আরো ডুবাবেই।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)






