চিন্নাস্বামীতে বাংলাদেশ যখন আজ অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে তখন স্বাভাবিক খেলার জন্য ‘তাসকিন কষ্ট’ ও অস্ট্রেলিয়ার অবজ্ঞার কথাও ভুলে থাকতে হবে। রাত আটটায় নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে উভয় দলই নামবে আসরে টিকে থাকার লড়াইয়ে।
নিরাপত্তা শঙ্কায় অস্ট্রেলিয়া দলের গত বছরের বাংলাদেশ সফর বাতিল ও অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে খেলতে না আসার দুঃখজনক ঘটনাও নিশ্চয়ই স্মরণে থাকবে টাইগারদের।
এশিয়া কাপের পর বিশ্বকাপের বাছাইপর্বসহ মূল ম্যাচেও ১৪০ থেকে ১৪৫ কিমি গতির একেকটি গোলা ছোড়ে দারুণ উপভোগ্য মুহুর্ত উপহার দিচ্ছিলেন তাসকিন। কিন্তু হঠাৎ করেই বজ্রাঘাতের মতো আসা নিষেধাজ্ঞার ফলে গতির ঝড় তোলা তারকা অজিদের বিপক্ষে থাকছেন না। আইসিসির ঘোষণায় এ্যাকশন ত্রুটির কারণে থাকছেন না ঘূর্ণিতে সাফল্য দেখানো আরাফাত সানিও।
বিশ্বকাপের মূল পর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষেও দুইটি করে উইকেট পেয়েছিলেন তাসকিন আর সানি। অবশ্য অ্যাকশনে সন্দেহের আওতায় ছিলেন বাছাইপর্বের প্রথম নেদারল্যান্ডসকে হারানোর ম্যাচ থেকেই। অসাধারণ ডেলিভারির পর ফিল্ডারের ক্যাচ মিসে ব্যক্তিগত ও দলীয় সাফল্যে পালক যোগ করতে না পারার মনোঃকষ্টে তাসকিনের সেই হতাশামিশ্রিত দুঃখের হাসি হৃদয়ে নাড়া দিয়েছিলো অনেকেরই। কিন্তু সেই তরুণ সেনসেশনেরই একটি ঘটনা যে পরে এতটা বিষাদময়তায় সিক্ত করবে তা কে জানত?
সাম্প্রতিক এই ঘটনা ছাড়াও অজিদের নিয়ে আরও একটি তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে ম্যাশ বাহিনীর। আর তা হলো নিরাপত্তা ঝুঁকির অজুহাতে বাংলাদেশে একটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ এবং বৈশ্বিক আসর বর্জন করার ঘটনাও।
গত বছরে অক্টোবরে বাংলাদেশে এসে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলার কথা ছিলো অস্ট্রেলিয়া দলের। কিন্তু অজি ক্রিকেটারদের নিরাপত্তাহীনতার কারণ দেখিয়ে পহেলা অক্টোবর তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিত ঘোষণা করে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। ভারত, পাকিস্তান, সাউথ আফ্রিকাকে পরাজিত করে দুর্দান্ত দাপটে থাকা টাইগারদের পরাশক্তি বধের আসক্তির উপর মর্মান্তিক আঘাতই ছিলো সেই ঠুনকো অজুহাত।
কর্কশ সেই অবজ্ঞায় ২০১৫’কে অর্জনে আরও সমৃদ্ধ করার সুযোগও বঞ্চিত হয় ম্যাশ বাহিনী, এমনটাই মনে করেন অনেকে।
বাংলাদেশ দলের সাথে ৯ অক্টোবর চট্টগ্রামে এবং ১৭ অক্টোবর ঢাকায় দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে ২৮ সেপ্টেম্বর আসার কথা ছিলো অজি দলের।
অস্ট্রেলিয়ান পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য বিষয়ক অধিদপ্তর বাংলাদেশে জঙ্গি হামলার শঙ্কায় সতর্কতা জারির প্রেক্ষিতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার নিরাপত্তা প্রধান শন ক্যারেল, অস্ট্রেলিয়া টিম ম্যানেজার গেভিন গভে ও দলের নিরাপত্তা কর্মকর্তা ফ্রাঙ্ক ডিমাসিকে সেপ্টেম্বরের ২৭ তারিখে বাংলাদেশ এসে নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখেছিলেন।
বিসিবি প্রধান নাজমুল হাসান পাপন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে দফায় দফায় বৈঠকে রাষ্ট্রিয় নিরাপত্তা দেয়ার আশ্বাসেও মন গলেনি তাদের।
বড়দের দেখানো পথে একই কারণ দেখিয়ে চলতি বছরের জানুয়ারির ২৭ তারিখে শুরু হওয়া অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপও পরিহার করে ছোটরা।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ড জানান, সরকারের পরামর্শমতো পূর্বের মতোই অস্ট্রেলিয়ানদের স্বার্থে ঝুঁকি বিদ্যমান থাকায় এই সিদ্ধান্ত। তাদের পরিবর্তে সেই আসরে খেলে বাছাইপর্বের রানার্স-আপ দল আয়ারল্যান্ড।
সর্বশেষ ২০১৪ টি-টোয়েন্টির বৈশ্বিক আসরের সুপার টেনের ম্যাচসহ অজিদের মুখোমুখি হওয়া ক্ষুদ্র সংস্করণের তিনটি ম্যাচেই হারের স্বাদ পেয়েছে টাইগাররা। তবে অজিদের হারানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে টাইগারদের, হয়তো তামিম-মুস্তাফিজসহ নতুন পরাশক্তি বাংলাদেশ মাঠে আবার প্রমাণ দিয়ে ভুলিয়ে দিতে পারে সব পরিসংখ্যান।






