দেশের প্রথম ডিজিটাল চ্যানেল হিসেবে চ্যানেল আই’র হাত ধরে এদেশের টেলিভিশন জগতে বিস্তৃত হয় এক নতুন দিগন্তের। গত দেড় যুগে বিশ্বব্যাপী বাংলাভাষী মানুষ এবং টেলিভিশন শিল্পকে অনেক ‘প্রথম’ উপহার দিয়েছে চ্যানেল আই।
চ্যানেলটির উদ্যোক্তারা বলেছেন, তালিকা করতে বসলে দেখা যাবে তা অনেক দীর্ঘ, চ্যানেল আই এরকম অনেক কিছু করেছে যা আগে কেউ করেনি।
চ্যানেল আই’র পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ‘জেনারেল এন্টারটেইনমেন্ট এর পাশাপাশি চ্যানেল আই একটি নিউজ চ্যানেলও। তাই এর অনুষ্ঠান পরিকল্পনায় সব স্তরের দর্শকের কথা মাথায় রাখতে হয়।’
তিনি বলেন: শুরু থেকেই চ্যানেল আই ‘অডিয়েনন্স পার্টিসিপেশন’ দর্শনটি মাথায় রেখেছে। আর তাই ‘প্রথম’ অনেক কিছুর শুরু আমরা করতে পেরেছি যাতে আমাদের সাথে দেশের আপামর জনগোষ্ঠির সম্পৃক্ততা থাকে।
উনিশের উচ্ছ্বাসে চ্যানেল আই যখন প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করতে যাচ্ছে তখন চ্যানেল আই’র এরকম ১৯টি বিষয় বাছাই করেছে চ্যানেল আই অনলাইন যেগুলো বাংলাদেশের টেলিভিশন শিল্পে ঘটেছে প্রথমবারের মতো।
- দেশের স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর মধ্যে চ্যানেল আই-ই প্রথম সরাসরি সংবাদ প্রচার শুরু করে।
- দেশের টেলিভিশনগুলোর মধ্যে দেশের বাইরে থেকে নিজেদের সাংবাদিকের মাধ্যমে সরাসরি সংবাদ প্রচারেও প্রথম ছিল চ্যানেল আই। বাংলাদেশের চ্যানেলগুলোর মধ্যে একমাত্র চ্যানেল আই-ই ইরাক যুদ্ধ সরাসরি কাভার করেছে।
- চ্যানেল আই’র ক্যামেরা যেমন ঘুরে এসেছে বিশ্বের নানা প্রান্তে, তুলে এনেছে অজানা সব খবর; তেমনি দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে খবর তুলে এনে ‘জনপদের সংবাদ’ প্রচারও প্রথম শুরু করে চ্যানেল আই।
- সত্যিকারের গণমুখী গণমাধ্যম হয়ে উঠার নিরন্তর প্রচেষ্টায় দেশের গণমাধ্যমের ইতিহাসে সর্বপ্রথম সংবাদের মাঝে ‘কৃষি সংবাদ’ প্রচার শুরু করে চ্যানেল আই। ২০০৭ সাল থেকে প্রতিদিনের জাতীয় সংবাদের সঙ্গে যুক্ত হয় কৃষকদের দুঃখগাথা আর সাফল্যের গল্প নিয়ে কৃষি সংবাদ। এখন প্রতিদিন বিকেলে তা আলাদাভাবে প্রচারিত হচ্ছে।
- বাংলাদেশের টক-শো জগতে নতুন এক ধারা নিয়ে আসে জিল্লুর রহমানের ‘তৃতীয় মাত্রা। এই প্রথম সব দলের আর সব মতের মানুষকে একই টেবিলে বসিয়ে টক-শোকে এক ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে যায় চ্যানেল আই। বাংলাদেশের আর কোন টক শো এতো বেশি দর্শকপ্রিয়তা পায়নি যেটা তৃতীয় মাত্রা পেয়েছে।
- ঠিক রাত ১২টা বাজলেই পরদিনের পত্রিকার সব খবর নিয়ে হাজির হয় ‘সংবাদপত্রে বাংলাদেশ। মূলতঃ মতিউর রহমান চৌধুরী এবং তার অনুপস্থিতিতে অন্য কোন বিশিষ্ট সাংবাদিকের সঞ্চালনায় চলে ঘটনার চুলচেরা বিশ্লেষণ। মানুষ পত্রিকা দেখার আগেই পত্রিকার খবর নিয়ে এরকম সংবাদভিত্তিক অনুষ্ঠান চ্যানেল আইয়েই প্রথম শুরু হয়।
- শুধু সংবাদ নয়, বিনোদনেও অনেক কিছু প্রথম শুরু করে চ্যানেল আই। তার একটি চলচ্চিত্র প্রযোজনা। চ্যানেল হিসেবে প্রথম চলচ্চিত্র প্রযোজনার কৃতিত্ব ইমপ্রেস টেলিফিল্ম তথা চ্যানেল আই-এর। সিনেমা হলের বাইরে চ্যানেল আই-এর পর্দাতেই সর্ব প্রথম ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয় দেশের কোন সিনেমার।
- কেবল চলচ্চিত্রই নয়, শুদ্ধ সঙ্গীতের প্রসারে চ্যানেল আই জন্ম দিয়েছে অনেক প্রথমের। মিউজিক অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠান তেমন এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। শুদ্ধ সঙ্গীতের প্রসারে মোট ১৬টি ক্যাটাগরিতে শিল্পীদের পুরস্কারের প্রচলন করে চ্যানেল আই। সেসঙ্গে আছে প্রতিদিন ‘গানে গানে সকাল শুরু’।
- দেশের সংস্কৃতিকে প্রবাসে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও চ্যানেল আই এগিয়ে এসেছে সবার আগে। বাংলাদেশের সীমা ছাড়িয়ে বিদেশে (দুবাইয়ের বিখ্যাত শারজা স্টেডিয়ামে) অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের আয়োজনের কৃতিত্ব চ্যানেল আই পরিবারের। এরকম অনুষ্ঠান হয়েছে বিশ্বের অন্য জায়গাতেও।
- স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি শব্দের বানান প্রতিযোগিতা ‘স্পেলিং বি’ সবার মাঝে প্রথম পৌঁছে দেয় চ্যানেল আই। শুধু কি তাই! বাংলা ভাষা নিয়ে মেধাভিত্তিক টিভি রিয়েলিটি শো ‘বাংলাবিদ’ও শুরু হয়েছে এ বছর। নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাভাষার গৌরবগাথা আর সৌন্দর্য পৌঁছে দেয়ার এ এক অনন্য সংযোজন।
- চ্যানেল আইয়ের লোক সঙ্গীতশিল্পী অন্বেষণমূলক রিয়েলিটি শো ‘বাংলার গান’ সঙ্গীতের এক মহাউৎসব। লোকজ ধারার নতুন শিল্পীদেরকে সবার সাথে প্রথম পরিচয় করিয়ে দিয়েছে চ্যানেল আই।
- টেলিফোনে তারকাদের সঙ্গে দর্শকদের ভরপুর আড্ডা দেবার অনুষ্ঠান তারকাকথন। এ বছর ১৪ বছরে পা দিল এ অনুষ্ঠানটি। তারকাদের সঙ্গে দর্শকের এমন মেলবন্ধনটাও চ্যানেল আই-এরই প্রথম করে দেয়া।
- বাংলাদেশে শিশুদের নিয়ে প্রথম রিয়েলিটি শো ‘ক্ষুদে গানরাজ’ এর উদ্যোক্তাও চ্যানেল আই।
- মাটি ও মানুষের কথা বরাবরই ধ্বনিত চ্যানেল আই-এ। আর তাই দেশের প্রথম ফার্মাস গেইম শো ‘কৃষকের ঈদ আনন্দ’ যেখানে প্রোথিত শেকড়ের ঘ্রাণ সেটা প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র চ্যানেল হিসেবে প্রচার করছে চ্যানেল আই।
- ২০১০ সালে চ্যানেল আই এর পর্দায় প্রচার শুরু হয় ‘ প্রকৃতি ও জীবন’ নামের পরিবেশ বিষয়ক প্রামাণ্য অনুষ্ঠানের। মুকিত মজুমদার বাবুর পরিকল্পনা ও উপস্থাপনায় এ অনুষ্ঠানটি একের পর এক তুলে এনেছে অপার সৌন্দর্যের এক নৈসর্গিক বাংলাদেশকে।
- বেসরকারি চ্যানেলগুলোর মধ্যে কৃষি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ অনুষ্ঠান প্রচারও প্রথম চ্যানেল আই-ই শুরু করেছে।
- শুধু বিনোদন কিংবা সংবাদভিত্তিক অনুষ্ঠান নয়, ধর্মীয় অনুষ্ঠান প্রচারেও এগিয়ে চ্যানেল আই। কাফেলা নামে ভ্রমণভিত্তিক ধারাবাহিক টেলিভিশন অনুষ্ঠান তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। এ ধরণের অনুষ্ঠান নির্মাণ চ্যানেল আই-য়েই প্রথম।
- খেলাধূলা বিষয়েও অনেক কিছুতে প্রথম চ্যানেল আই। বেসরকারি চ্যানেলগুলোর মধ্যে চ্যানেল আই-ই প্রথম সরাসরি দেশ/বিদেশের খেলা সম্প্রচার করেছে।
- বিবিসি বাংলার সাথে যুক্ত হয়ে চ্যানেল আই এ সম্প্রচারিত হয় ‘বিবিসি প্রবাহ’। সপ্তাহের চলতি গুরুত্বপুর্ণ ঘটনাবলীর গভীরে গিয়ে তার বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যা তুলে ধরে এ অনুষ্ঠান। বিবিসির এ যাত্রার সঙ্গী চ্যানেল আই। এছাড়া বিবিসি সংলাপও অনন্য এক প্রথম উদ্যোগ।

চ্যানেল আই’র সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রথমের এ তালিকা অনেক দীর্ঘ। ভবিষ্যতে এমন আরো অনেক প্রথমের শুরু হবে চ্যানেল আই এর হাত ধরেই। এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।









