বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি অভিনেত্রী ববিতা। প্রায় তিনশোর মতো ছবিতে অভিনয় করা আন্তর্জাতিক ভাবে খ্যাতি সম্পন্ন এই অভিনেত্রী ৩০ জুলাই পা রাখলেন ৬৫ বছরে। জন্মদিনে বাংলার অগনিত সিনেমা প্রেমী মানুষের শুভেচ্ছায় সিক্ত হচ্ছেন তিনি। কিংবদন্তি এই অভিনেত্রীকে জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানিয়েছে চ্যানেল আই পরিবার।
সেই সাথে এমন বিশেষ দিনে চ্যানেল আই অনলাইন ও চ্যানেল আই অনলাইন বিনোদন-এর ফেসবুকে কাভারে জায়গা করে নিয়েছেন তিনি। কর্তৃপক্ষ বলছেন, জন্মদিনে বাংলা চলচ্চিত্রের গুণী এই অভিনেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। সেই সাথে দিনব্যাপী চ্যানেল আইয়ে থাকছে ববিতাকে নিয়ে একাধিক অনুষ্ঠান।
চ্যানেল আইয়ের সাথে ঢাকাই চলচ্চিত্রের তুখোড় এই অভিনেত্রীর সম্পর্কটা বহু পুরনো। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের বেশকিছু ছবিতেও তাকে অভিনয় করতে দেখা গেছে। সর্বশেষ চ্যানেল আইয়ের নিয়মিত আয়োজন ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’-এর বিশেষ একটি পর্বে দেখা গেছে ববিতাকে। শাইখ সিরাজের পরিকল্পনা, উপস্থাপনা ও পরিচালনায় সেই বিশেষ পর্বে অজানা এক ববিতাকে আবিস্কার করেছেন দর্শক।
গেল ফেব্রুয়ারিতে চ্যানেল আইয়ে প্রচারিত ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’-এর সেই বিশেষ পর্বে দেখা যায় প্রকৃতি প্রেমী এক ববিতাকে। যিনি ভালোবাসেন গাছ, পাখি। ঘরে-বাইরে সবখানে শৌখিন কৃষির সঙ্গে তাঁর বসবাস। সবুজে সবুজে ভরে তুলেছেন নিজের বাসা। বাসার সবখানেই গাছ। বারান্দাগুলোয় সতেজ ফুল আর পাতাবাহারের সৌন্দর্য। ছাদে অন্য এক পরিবেশ। এখানেও রয়েছে ফল, ফসল আর সৌন্দর্যময় গাছের সমাবেশ।
শুধু তাই নয়, ওই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ববিতা পুরো ঢাকাবাসীর কাছে সবুজের আহ্বান জানান। তিনি স্বপ্ন দেখেন, এই নগর সেজে উঠুক সবুজে, সৌরভে। প্রকৃতির প্রতি চিত্রনায়িকার এমন অবারিত প্রেমের কথা বের করে আনায় সর্ব মহলে প্রশংসিত হয় ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’-এর বিশেষ পর্বটি।
৬৫ বছর পূর্ণতা কোথায় উদযাপন করছেন এই চিত্রনায়িকা? এমন দিনে সবার এটাই প্রশ্ন। তাকে নাকি পাওয়া যাচ্ছে কোথাও? হ্যাঁ, নিজের ৬৫তম জন্মদিন উদযাপন করতে ববিতা এখন অবস্থান করছেন সুদূর কানাডায়। সেখানে বাস করেন একমাত্র পুত্র অনিক। এবারের জন্মদিনটি সেখানেই কাটাচ্ছেন তিনি।
কানাডায় যাওয়ার আগে ববিতা চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেছেন, পরপর দুই বছর দেশে জন্মদিন কাটিয়েছি। এতে করে অনিকের কিছুটা মন খারাপ। জন্মদিনে সে আমাকে কাছে পায় না। এবার তার খুশির জন্য জন্মদিনটি কানাডাতে কাটাবে। আমার জন্য নাকি বড় সারপ্রাইজ আছে! কানাডায় থাকলেও মনটা পড়ে থাকবে দেশেই। সবাইকে খুব মিস করবো। সবার কাছে দোয়া চাই।
ববিতার একমাত্র পুত্র অনিক কানাডায় ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতকোত্তর করে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। শিগগির পিএইচডি-ও করবেন। ববিতা জানান, কানাডা থেকে তিনি আমেরিকা যাবেন। এরপর দেশে ফিরবেন অক্টোবর মাসের শেষের দিকে।
ববিতার পুরো নাম ফরিদা আক্তার পপি ১৯৫৩ সালের ৩০ জুলাই বাংলাদেশের বাগেরহাট জেলায় জন্ম নেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রায় তিনশো’র মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন ববিতা। চলচ্চিত্রে তাঁর শুরুটা হয়েছিল গত শতকের ষাটের দশকের শেষ দিকে। তিনি সত্যজিৎ রায়ের ‘অশনি সংকেত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে প্রশংসিত হন। বাংলা চলচ্চিত্রে বিশেষ অবদান রাখার জন্য সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে আজীবন সম্মাননা পেয়েছেন।









