মুশফিকের মুখটা দেখে বোঝা গেল যন্ত্রণার পরিমাণ কতখানি। মাঠ ছাড়ার সময় টিভি ক্যামেরায় স্পষ্ট ফুটে উঠলো তার মনের ঝড়। প্রতিপক্ষ ৬৮৭ রান করে ইনিংস ঘোষণা করলে মুখটা এর চেয়ে ভালো হওয়ার কথা নয়!
ভারতীয় অধিনায়ক ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে দলকে চূঁড়ায় ওঠান। আগেরদিন বিজয় করেছিলেন শতক। ঋদ্ধিমানের (১০৬*) শতকের জন্য অপেক্ষা করছিলেন কোহলি। সেটা হতেই ড্রেসিংরুম থেকে ইনিংস ঘোষণার বার্তা পাঠান। বাংলাদেশের বিপক্ষে ভারতের এটিই সর্বোচ্চ সংগ্রহ।
এই নিয়ে ভারত টানা তিন ইনিংসে ৬০০’র বেশি রান তুললো। টেস্ট ইতিহাসে এই কীর্তি অন্য কোনো দলের নেই।
কোহলি ১১১ রানে অপরাজিত থেকে শুক্রবার মাঠে নেমেছিলেন। থেমেছেন ২০৪ রানে। রাহানের সঙ্গে ২২২ রানের জুটি গড়েছেন। এই নিয়ে টানা চার সিরিজে দ্বিশতকের রেকর্ড গড়লেন কোহলি। এর আগে টানা তিন সিরিজে এই কীর্তি গড়েছিলেন স্যার ডন ব্রাডম্যান এবং রাহুল দ্রাবিড়।
সকালে তাসকিনের ওভারের পর সাকিবকে ডাকেন মুশফিক। এই দুই ওভারে আটটি বল খেলেন বিরাট কোহলি। তখন শর্ট লেগে মুমিনুলকে রাখা হয়। মিডঅনে রিয়াদ। কোহলি একবার ব্যাকফুটে লাফিয়ে ওঠা বলে ডিফেন্স করতে যেয়ে এদিক-ওদিক করে ফেললেন। ওই ‘ভুল’টা ছাড়া আর কোনো সুযোগ দেননি ভারত অধিনায়ক। ২৩৯ বলে ২৪টি চারের সাহায্যে ইনিংস সাজিয়ে থেকেছেন। এদিন লাঞ্চে যাওয়ার সময় ১৯১ রানে ছিলেন তিনি।
এর আগে রাহানেকে শর্টকাভারে দেখার মতো এক ক্যাচে সাজঘরে পাঠান মিরাজ।
বৃহস্পতিবার ৩৫৬ রানে দিন শেষে করেছিল ভারত। প্রথম দিনে বাংলাদেশের বোলাররা প্রথম ১৫ ওভার পর্যন্ত ছন্দেই ছিলেন। ওই সময় পর্যন্ত ঠিক জায়গায় বল পড়ছিল। বেশ কয়েকটি ডেলিভারি পূজারা-বিজয়ের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে যায়। একটি রান-আউটের সুযোগও হাতছাড়া হয়। দুটি ক্যাচের সম্ভাবনা জাগে। বড় ম্যাচে এই সব সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে ফলাফল ভয়ঙ্কর হয়। হায়দরাবাদের রাজীব গান্ধী স্টেডিয়ামে গতকাল ঠিক সেটাই হয়। সেটার খেসারত দিতে হয় দ্বিতীয় দিনেও।







